অভিজ্ঞান কুন্ডু। ছবি: এক্স।
ভারতের ছোটরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তখন প্রায় এক ঘণ্টা অতিক্রান্ত। তখনও অভিজ্ঞান কুন্ডুর সঙ্গে কথা হয়নি বাবা অভিষেক কুন্ডুর। ফাইনাল শেষ হয়ে গেলেও বাবার কাজ তখনও শেষ হয়নি।
সকাল থেকে অফিস সামলাতে গিয়ে ছেলের খেলা দেখা হয়নি। রাত সওয়া ৯টা নাগাদ যখন অভিষেককে ফোনে ধরা গেল, তখন তিনি অফিস শেষে বাড়ি ফিরছেন। গাড়ি চালাতে চালাতেই বললেন, ‘‘ও (অভিজ্ঞান) মনে হয় এখনও মাঠে রয়েছে। কথা হয়নি এখনও। আর হবেই বা কী করে। আমার কাজ সবে শেষ হল। এই বাড়ি ফিরছি।’’
ফাইনাল জেতার পর অভিজ্ঞানকে যেরকম সংযত দেখিয়েছে, অভিষেকও তা-ই। শান্ত গলাতেই বললেন, ‘‘বাড়ি যাওয়ার আগে চেতন স্যরের (অভিজ্ঞানের কোচ চেতন যাদব) অ্যাকাডেমিতে যাব ভাবছি। ওঁর সঙ্গে দেখা করতেই হবে। তবে উনিও আমাদের বাড়িতে চলে আসতে পারেন।’’
চেতন এখনই অভিজ্ঞানদের বাড়িতে যেতে পারবেন কি না, তার অবশ্য কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ, সেখানে উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। চেতনের বাকি ছাত্রেরা সেখানে দুপুর থেকে হাজির হয়েছিল। সকলে একসঙ্গে অভিজ্ঞানদের বিশ্বজয় দেখেছে। ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস অ্যাকাডেমিতে। সেই উৎসব সহজে থামার নয়।
অভিজ্ঞানদের বাড়িতে কী ভাবে উৎসব হবে? আরও শান্ত অভিষেকের গলা। বললেন, ‘‘আগে ও ফিরুক। তারপর ভাবা যাবে।’’ পরক্ষণে নিজেই নিজেকে মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘‘না না, এখন বেশি হুল্লোড় নয়। ওর তো মঙ্গলবার থেকে ক্লাস টুয়েলভের ফাইনাল পরীক্ষা। বাড়ি ফিরে পড়াশোনায় বসতে হবে!’’ শুনলে মনে হতে বাধ্য যে, ছেলের সঙ্গে যখন কথা হবে, তখন বাহবা দেওয়ার পর সকলের আগে বলবেন, ‘‘বাবা, আপাতত ক’দিন খেলাটা ভুলে যা। পড়তে বোস। পরীক্ষাটা তো পাশ করতে হবে।’’
ছেলের রবিবার ফেরার কথা। এর বেশি আপাতত কিছু জানেন না অভিষেক। বললেন, ‘‘কবে, কখন ফ্লাইট কিছুই জানি না। কথা হলে হয়তো জানতে পারব। যেটুকু জানি, রবিবার ওদের ফেরার কথা।’’
ছেলের বিশ্বজয়ের রাতে বাড়িতে কোনও উৎসব হবে কিনা, তা-ও জানেন না অভিষেক। বললেন, ‘‘এখনও তো অফিস থেকে ফিরতেই পারলাম না। দেখি বাড়ি গিয়ে কী করা যায়!’’