India Wins U19 World Cup 2026

কেন খুচরো রানের বদলে শুধু চার-ছয় মারে বৈভব? খোলসা করলেন বাবা সঞ্জীব, হোয়াটস্‌অ্যাপে কোচের এক বার্তাতেই ফাইনালে শতরান সূর্যবংশীর

ভারতকে কার্যত একার হাতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতিয়েছে বৈভব সূর্যবংশী। বাবা সঞ্জীব জানিয়েছেন, কেন খুচরো রান না নিয়ে বৈভব শুধু চার-ছক্কা মারতে চায়। কোচ ব্যাখ্যা করেছেন, কী ভাবে একটি হোয়াটস্‌অ্যাপ বার্তা বদলে দিয়েছে তাঁর ছাত্রকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৯
Share:

বিশ্বকাপ হাতে বৈভব সূর্যবংশী। ছবি: সমাজমাধ্যম।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতকে কার্যত একার হাতে ট্রফি জিতিয়েছে বৈভব সূর্যবংশী। ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছে সে। ম্যাচ এবং প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতে নিয়েছে সে। ম্যাচের পর বৈভবের বাবা সঞ্জীব জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে ব্রায়ান লারা এবং যুবরাজ সিংহের সমর্থক। কেন খুচরো রান না নিয়ে বৈভব শুধু চার-ছক্কা মারতে চায়, তা-ও খোলসা করেছেন বাবা। এ দিকে, বৈভবের কোচ ব্যাখ্যা করেছেন, কী ভাবে একটি হোয়াটস্‌অ্যাপ বার্তা বদলে দিয়েছে বৈভবকে।

Advertisement

সম্প্রচারকারী চ্যানেলে সঞ্জীব জানান, বৈভব ছোট থেকেই লারা এবং যুবরাজের সমর্থক। বৈভবের জন্মের আগেই লারা ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবু ইউটিউবে লারার ব্যাটিং দেখে বড় হয়েছে বৈভব। পরে যুবরাজেরও প্রচুর ভিডিয়ো দেখেছে। বৈভব নিজেও বাঁ হাতি ব্যাটার হওয়ায় এই দুই ব্যাটারকেই নিজের আদর্শ হিসাবে বেছে নিয়েছে।

সঞ্চালক আকাশ চোপড়া প্রশ্ন করেন, “বৈভব এত ছয় মারে। আপনি কি কোনও দিন ওকে ধরে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন?” বৈভবের বাবা উত্তর দেন, “আমি ওকে আগে বলতাম এক বা দু’রান নিতে। তখন বৈভব বলেছিল, ‘বাবা, যখন এক বলে ছ’রান করা যায়, তখন এক-দু’রান নিয়ে বল নষ্ট করব কেন’?” সঞ্জীবের উত্তর শুনে হাসিতে গড়িয়ে পড়েন আকাশ।

Advertisement

সঞ্জীব আরও জানিয়েছেন, ছোট থেকেই বড়দের সঙ্গে ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত বৈভব। বলেছেন, “আমি দেখতাম, ৯-১০ বছর থেকেই ওর দ্বিগুণ বয়সের ছেলেদের সঙ্গে খেলত। অনায়াসে ছয় মারত। তখন থেকেই ওর একটা অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছে। গায়ের জোরও ছিল। ফলে কোনও দিন বড়দের সঙ্গে খেলতে অসুবিধা হয়নি।” জবাবে সঞ্চালক আকাশ বলেন, “আপনি এ ভাবেই ওকে ছাতু খাইয়ে যান। আমরা ওর ব্যাট থেকে আরও ছয় দেখতে চাই।”

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ বাদ দিয়ে মোটামুটি রান পাচ্ছিল বৈভব। কিন্তু শতরানের কাছে যেতে পারছিল না। তখনই বার্তা পাঠান ছোটবেলার কোচ মণীশ ওঝা। কী লিখেছিলেন তিনি? সংবাদ সংস্থাকে মণীশ বলেছেন, “আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৬৮ করার পর বৈভবকে বার্তা পাঠিয়েছিলাম, ‘এটাই তোমার প্রথম প্রতিযোগিতা হতে চলেছে যেখানে একটাও শতরান থাকবে না। ফাইনালে এক বার জমে গেলে সুযোগ হাতছাড়া কোরো না’।”

জবাবে বৈভব লিখেছিল, “হ্যাঁ স্যর।” মণীশের সংযোজন, “আমি ওকে চাপ দিতে চাইনি। শুধু নিজের মানটা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। পরে ভেবেছিলাম, অকারণেই কি ওর উপরে চাপ পড়ে গেল? পরে ভেবে দেখলাম, যে পর্যায়ে ও খেলে, তাতে এটুকু চাপ সামলানোর মতো দক্ষতা ওর থাকা দরকার। পরে আর ওকে কোনও বার্তা পাঠাইনি।”

কোথায় সমস্যা হচ্ছিল বৈভবের? মণীশের ব্যাখ্যা, “পুল শটে সমস্যা হচ্ছিল। তাই টেকনিক্যাল দিকগুলো নিয়ে ওর সঙ্গে কথা হয়। ওর মাথা পিছনের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছিল। পিছনে হাঁটুও নীচে নেমে যাচ্ছিল। শরীর লক্ষ্য করে বল এলে অনায়াসে পুল করে স্কোয়্যার লেগ বা ফাইন লেগে পাঠানো যায়। কিন্তু বৈভবের ক্ষেত্রে, ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যাচ্ছিল। আমি ওকে বললাম, যদি মাথা এবং পায়ের ভারসাম্য রেখে খেলো তা হলে ঠিক আছে। কিন্তু অফসাইডের বাইরের বলে পুল করতে গেলে মাথা উঁচু রাখতে হবে। তাতে পুরো হাতটাই ব্যবহার করতে পারবে। সেটা শুনেছে বৈভব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement