বিশ্বকাপ হাতে আয়ুষ মাত্রে। ছবি: সমাজমাধ্যম।
দীর্ঘ ১৮ বছর আগে এই ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। তার পরেই গোটা ক্রিকেটবিশ্বে চিনেছিল তাঁকে। শুক্রবার বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেরা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পরেই শুভেচ্ছা জানালেন বিরাট কোহলি। ট্রফি জেতার পর বাঙালি অভিজ্ঞান কুন্ডু জানিয়েছেন, দু’বছরের কঠোর পরিশ্রম অবশেষে সার্থক হল। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে আবার তুলে ধরেছেন রোহিত শর্মা, হরমনপ্রীত কৌরদের কথা।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর মহিলা দল ডব্লিউপিএল জেতার পর শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন কোহলি। এ দিন তিনি লেখেন, “আরও এক বার বিশ্বকাপ হাতে তোলার জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলকে অনেক শুভেচ্ছা। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এবং তার বাইরে আমাদের শাসন চলছেই। গোটা দল এবং সাপোর্ট স্টাফেদের কুর্নিশ।”
ম্যাচের পর অভিজ্ঞান স্বীকার করে নিয়েছেন, ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় চাপে পড়ে গিয়েছিলেন। মুম্বই নিবাসী বাঙালি ক্রিকেটারের কথায়, “কখনও সখনও চাপ হচ্ছিল। কারণ ইংল্যান্ডের ব্যাটিংও বেশ শক্তিশালী। আমরা চাইছিলাম ধৈর্য ধরে রাখতে। যে ভাবে বোলারেরা বল করল তা অসাধারণ। খুব সুন্দর লাইন এবং লেংথে বল করে গিয়েছে। অসাধারণ খেলেছে সকলে।”
অভিজ্ঞানের সংযোজন, “এই নিয়ে ছ’নম্বর ট্রফি জিতলাম আমরা। এ বার গিয়ে উচ্ছ্বাস করব সকলে মিলে, ঠিক যে ভাবে প্রতিটা ম্যাচের পরেই করেছি। গত দু’বছর ধরে যে পরিশ্রম করেছি তার ফল আজ পেলাম। দু’বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলাম। আজ প্রতিশোধ নিয়েছি। পরের বিশ্বকাপে বিজয়ী দল হিসাবেই নামব।”
বৈভবকে নিয়েও উচ্ছ্বসিত তার সতীর্থ। অভিজ্ঞান বলেছেন, “যে ভাবে ব্যাট করল তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। পিছনের পায়ে খেলে ইংরেজ বোলারদের শাসন করে গেল। ও নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছে, এতেই আমরা খুশি।”
ট্রফি হাতে নেওয়ার আগে অধিনায়ক আয়ুষ বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম উত্তরাধিকার ধরে রাখতে। রোহিত শর্মা বিশ্বকাপ জিতেছেন। হরমনপ্রীত জিতেছেন। এ বার আমরা জিতলাম।” একটু থেমে আয়ুষের সংযোজন, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অসাধারণ একটা রাত হতে চলেছে। প্রত্যেকে ভাল খেলেছে। যে লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিলাম সেটা অর্জন করেছি। সকলে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলেছে।”
অভিজ্ঞানের মতো বৈভবকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের সুর আয়ুষের গলাতেও। তিনি বলেন, “ওর ইনিংসের জন্য কোনও শব্দই যথেষ্ট নয়। আমরা জানি ও কতটা ভাল ব্যাটার। এই ম্যাচে ও দেখিয়ে দিয়েছে কী করতে পারে।”
যে ভাবে পরবর্তী প্রজন্ম উঠে এসেছে, তা দেখে খুশি কোচ হৃষিকেশ কানিতকর। তিনি বলেছেন, “বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রে আমরা এই কাজটাই করে থাকি। আমরা উন্নতি দেখে খুশি। ভারত ট্রফির জন্যই খেলতে নামে। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের যে উন্নতি হচ্ছে তা অসাধারণ। আমার সঙ্গে (ভিভিএস) লক্ষ্মণ এখানে রয়েছে। ও উৎকর্ষ কেন্দ্রের প্রধান। তাই আপনারা বুঝতেই পারবেন কতটা কাছ থেকে সব কিছু খেয়াল রাখছে ও।”