ICC Women ODI World Cup 2025

বিমানে চুপচাপ বসেছিলেন মন্ধানা, কোনও কথা বলেননি সতীর্থদের সঙ্গে! বিশ্বকাপের সময় কী হয়েছিল হরমনপ্রীতদের শিবিরে

গত বছর এক দিনের বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচ হারার পর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন স্মৃতি মন্ধানা। সতীর্থদের সঙ্গে একটাও কথা বলেননি বিমানে। ডব্লিউপিএলের মাঝে সেই ঘটনার কথা জানিয়েছেন আরসিবি অধিনায়ক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৬
Share:

স্মৃতি মন্ধানা। —ফাইল চিত্র।

মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগ খেলছেন স্মৃতি মন্ধানা। তাঁর নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ফাইনালে উঠে গিয়েছে। মন্ধানা নিজেও ভাল ফর্মে রয়েছেন। টি-টোয়েন্টি লিগের মাঝেই আরসিবিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। তাতে উঠে এসেছে গত বছর এক দিনের বিশ্বকাপের সময় তাঁর সমস্যার কথা।

Advertisement

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লিগের ম্যাচের পরের দিন বিমানে কোনও সতীর্থের সঙ্গে কথা বলেননি ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। বিশ্বকাপের প্রথম দু’টি ম্যাচ জেতার পর টানা তিনটি ম্যাচ হেরেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের কাছে হারার পর হরমনপ্রীত কৌরদের সেমিফাইনালে ওঠা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৮ রানের ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি মন্ধানা। তার পরের দিন বিমানে কারও সঙ্গে কথা বলেননি তিনি।

টানা তিন ম্যাচ হারার পর ভারতীয় শিবিরে কি কোনও অশান্তি হয়েছিল? মন্ধানার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বাকিদের? না তেমন কিছুই হয়নি। মন্ধানা নিজেই হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন। আরসিবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ধানা বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের আগে খুব ভাল ফর্মে ছিলাম। তা-ও প্রথম তিনটে ম্যাচ পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। এক দিনের ক্রিকেটে প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে আউট হতে চাই না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ হারার পর নিজের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। বোঝার চেষ্টা করে ছিলাম, কী সমস্যা হচ্ছে। কোথায় ভুল করছি। নেটে কিন্তু ভালই ব্যাট করছিলাম। হয় চাপে পড়ে যাচ্ছিলাম, নয়তো ম্যাচে শট নির্বাচন ভুল হচ্ছিল। ঠিক সমস্যাটা বুঝতে পারছিলাম না। ভাল খেলতে পারছিলাম না। প্রথম তিন ম্যাচের খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। পরের ইংল্যান্ড ম্যাচটায় আমি ৮০-র বেশি রান করলাম। তবু দল হেরে গেল। ফর্ম ফিরে পেয়েও জেতাতে পারিনি। সেই হারের পর হতাশা আরও বেড়ে যায়।’’

Advertisement

কী মনে হয়েছিল ইংল্যান্ড ম্যাচের পর? মন্ধানা বলেছেন, ‘‘শুধু মনে হচ্ছিল, আবার শট নির্বাচনে ভুল করলাম। পরের দিন বিমানে চুপচাপ বসেছিলাম। ভীষণ হতাশ লাগছিল। কথা বলতে ইচ্ছে করছিল না। বিমানে কারও সঙ্গে কোনও কথা বলিনি। এ রকম আর কখনও হয়নি আমার। মনের মধ্যে একটা উদ্বেগ কাজ করছিল। এতটা চাপও কখনও অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে উঠতে না পারলে, সেটা ভারতের মহিলা ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি হবে। আমরা ২০ বছর পিছিয়ে যাব। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের রাতে একটুও ঘুমোতে পারিনি।’’

ইংল্যান্ড ম্যাচে ফর্ম ফিরে পাওয়া মন্ধানা শতরান করেছিলেন নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তাঁর ৯৫ বলে ১০৯ রানের ইনিংস ভারতকে তিন ম্যাচ পর জয়ে ফিরিয়েছিল। মন্ধানা বলেছেন, ‘‘নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জয়টা আমাদের প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে এনেছিল। ওই শতরানটার গুরুত্ব আমার কাছে তাই আলাদা। তার আগে আমাদের অনেক কিছু বলা হচ্ছিল। যদিও দল হিসাবে আমরা প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখিনি। এক রাতেই মানুষকে বদলে যেতে দেখেছিলাম আমরা। দলে আমরা সব সময় পরস্পরের পাশে থাকি। ঘরের মাঠে সেমিফাইনালেও উঠতে না পারলে অত্যন্ত লজ্জার হত আমাদের সকলের জন্য।’’

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাওয়া ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন মন্ধানারা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফাইনালে হারিয়ে প্রথম বার মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপও চ্যাম্পিয়ন হন তাঁরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement