India Wins ICC T20 World Cup 2026

এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে! বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে কোচ গৌতম গম্ভীরের মুখে দলের বাইরে থাকা চার জনের নাম

খেলোয়াড়ের পর এ বার কোচ হিসাবেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন গৌতম গম্ভীর। ম্যাচ জিতে দলের বাইরে থাকা চার জনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০২:২৩
Share:

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে গৌতম গম্ভীর (বাঁ দিকে) ও সূর্যকুমার যাদব। ছবি: এক্স।

গত কয়েক মাসে বার বার সমালোচনা হয়েছে গৌতম গম্ভীরের। ভারত কোনও ম্যাচ হারলেই তাঁর চাকরি নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। গম্ভীরের কোচ থাকা উচিত, না তাঁকে সরিয়ে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশেষজ্ঞেরা। ভারতীয় দলের সাজঘরের ছবি কেমন, তা নিয়ে নানা জল্পনা হয়েছে। আপাতত কিছু দিনের জন্য সকলের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন গম্ভীর। খেলোয়াড়ের পর এ বার কোচ হিসাবেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। ম্যাচ জিতে দলের বাইরে থাকা চার জনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি এ-ও মনে করেন, এ বার অন্তত তাঁর দলের সাজঘর নিয়ে আলোচনা বন্ধ হবে।

Advertisement

বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দলের সাজঘরের পরিবেশ কেমন। জবাবে গম্ভীর বলেন, “আশা করছি, এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে। দেখুন, সাজঘরের পরিবেশ ভাল ছিল বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বার বার সাজঘর নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। লেখালিখি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আমি অবশ্য কাউকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাজঘরের ওই ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই।”

এই বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে দিতে চান গম্ভীর। তবে তাঁরা কেউ দলের খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ নন। গম্ভীর নাম নিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, অজিত আগরকর ও জয় শাহের। ভারতীয় কোচ বলেন, “এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল ভাই আর লক্ষ্মণ ভাইকে। ভারতীয় ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে আসার নেপথ্যে রাহুল ভাই কি না করেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মণ ভাইও চুপচাপ নিজের দায়িত্ব সামলেছে। সিওএ আছে বলেই ভারতের ক্রিকেট এত উন্নত। অজিতের কথাও বলব। এত সমালোচনার পরেও ও নিজের কাজ করে গিয়েছে।”

Advertisement

তাঁর জীবনে জয়ের কতটা ভূমিকা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “জয় ভাই আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে তো কোথাও কোচিং করাইনি। তার পরেও জয় ভাই ভরসা রেখেছিল। সেই ভরসা আজও আছে। নিউ জ়িল্যান্ডের ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকামের পর একমাত্র জয় ভাই ফোন করেছে। আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব ওদের।”

১৬০-১৭০ রানের ক্রিকেট আর খেলি না

ভারতীয় ক্রিকেটের দর্শন বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমরা আর ১৬০ বা ১৭০ রান করার জন্য খেলি না। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে সফল হওয়া যাবে না। তাতে ১০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সেটাই হয়েছে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। চেষ্টা করতে হবে ২০০-র বেশি রান করার। সেই চেষ্টাই আমরা করছি।”

ব্যক্তিগত মাইলফলকের আগে দল

তিনি নিজে খেলোয়াড় জীবনে সবসময় দলের স্বার্থের কথা আগে ভেবেছেন। কোচ হিসাবেও সেই দর্শনেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আগে দল। পরে নিজের সাফল্য। আপনি যদি ৯৬ রান থেকে ১০০ করতে চার বল খেলেন, তা হলে আপনি দলের ২০ রানের ক্ষতি করলেন। ওই চার বলে চারটে ছক্কা হতে পারত। তাই যদি কেউ ৯৬ রান থেকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয় তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ওই ৯৬ আমার কাছে শতরানের সমান। এই দর্শন দলের সকলকে দিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, দলের সকলে সেটা মেনেছে। আমরা সে ভাবেই খেলি। সকলেই দলকে আগে রাখে।”

প্রতিটা ম্যাচ জিততে হবে

গম্ভীরের মতে, শুধু বিশ্বকাপ নয়, দেশের জার্সিতে নেমে প্রতিটি ম্যাচ জিততে হবে। তবেই এই জার্সির সম্মান। তিনি বলেন, “আমরা এর আগেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় হেরেছি। ভাবতে হবে, আমাদের জায়গায় আসার জন্য লাখ লাখ মানুষ তৈরি। কিন্তু সুযোগ আমরা পেয়েছি। দেশের হয়ে খেলার থেকে গর্বের কিছু হয় না। তার প্রতিদান দিতে হবে।”

কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করি না

ভারতের এই দলে যেমন সূর্যকুমার যাদব, জসপ্রীত বুমরাহ, হার্দিক পাণ্ড্যের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন, তেমনই অর্শদীপ সিংহ, অভিষেক শর্মার মতো তরুণেরাও রয়েছেন। কারও স্বাধীনতায় তিনি হস্তক্ষেপ করেন না বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। প্রধান কোচ বলেন, “এই প্রজন্মটাই অন্য রকম। ওরা হাসিঠাট্টা করে। আবার খেলার সময় শুধু খেলাতেই মন থাকে। যত ক্ষণ না সাজঘরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, তত ক্ষণ আমি কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করি না। তুমি ভাল করে অনুশীলন করো। খেলায় ১০০ শতাংশ দাও। তার পর তুমি মজা করো। কেউ তোমাকে আটকাবে না। আমিও না।”

অভিষেক খারাপ খেলায় ফেরেননি সঞ্জু

অভিষেক শর্মা খারাপ খেলায় সঞ্জুকে প্রথম একাদশে ফেরানো হয়নি বলেই জানিয়ে দিলেন গম্ভীর। তাঁর মতে, সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছিল অন্য কারণে। তিনি বলেন, “আমরা কখনও মনে করিনি সঞ্জু খারাপ ফর্মে ছিল। ওর ব্যাটে রান হচ্ছিল না। তাই একটু বিশ্রাম দিয়েছিলাম। অফ স্পিনারের বলে অভিষেক খেলতে পারছিল না বলে সঞ্জুকে ফেরানো হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম, টপ অর্ডারে দুই বাঁহাতির সঙ্গে এক ডানহাতিকে জুড়ে দিতে। সেই কারণে সঞ্জুকে নেওয়া হয়েছে। এর অন্য কোনও কারণ নেই।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement