সঞ্জু স্যামসন। ছবি: সংগৃহীত।
২০২৪ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী জলের সদস্য ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। মেডেল পেয়েছিলেন। কিন্তু আনন্দটা হয়তো ততটা হয়নি। কারণ, বিশ্বকাপে একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি সঞ্জু। সেই কারণে, সেই রাতেই একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন সঞ্জু। নিজের কাঁধে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর। দু’বছর পরে পূর্ণ হয়েছে সেই স্বপ্ন। বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হয়ে সে কথাই জানালেন ভারতীয় ব্যাটার।
এ বার বিশ্বকাপে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন সঞ্জু। তাতেই ৩২১ রান করেছেন। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের মালিক তিনি। মেরেছেন সবচেয়ে বেশি ২৪টি ছক্কা। শেষ তিন ম্যাচে করেছেন ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান। স্বভাবতই প্রতিযোগিতার সেরা হয়েছেন।
পুরস্কার নিতে গিয়ে সঞ্জু ফিরিয়ে আনলেন দু’বছর আগের কথা। তিনি বললেন, “স্বপ্নপূরণ হয়েছে। সত্যি বলতে, এই স্বপ্ন দু’বছর আগে দেখেছিলাম। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলাম। কিন্তু একটা ম্যাচও খেলার সুযোগ পাইনি। স্বপ্ন দেখতাম। পরিশ্রম করতাম। সে বারও এটাই করতে চেয়েছিলাম। এ বার পেরেছি।”
তবে এই প্রত্যাবর্তন সহজ ছিল না। বিশ্বকাপের আগে আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে সুযোগ পেলেও রান করতে পারেননি সঞ্জু। ফলে তিনি বিশ্বকাপের দলে থাকলেও প্রথম একাদশে সদস্য যে হবেন না, তা পরিষ্কার ছিল। শুরুতেও সেটাই দেখা যায়। অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন ওপেন করেন। কিন্তু ক্রিকেটদেবতা বোধহয় অন্য কিছু চাইছিলেন। অভিষেক একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থ হলেন। ফলে বিকল্প পথে যেতে গল গৌতম গম্ভীরকে। রিঙ্কু সিংহের বদলে সুযোগ পেলেন সঞ্জু। জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচে শুরুটা করেছিলেন। কিন্তু বড় রান করতে পারেননি। শেষ তিনটে ম্যাচে সেটাই করে দেখালেন।
ফেরা কঠিন ছিল বলেই জানিয়েছেন সঞ্জু। সেই কঠিন কাজ সহজ করে দেখিয়েছেন তিনি। ভারতীয় ব্যাটার বলেন, “নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ের পর ভেঙে পড়েছিলাম। স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল। বুঝতে পারছিলাম না কী করব। কিন্তু ঈশ্বরের অন্য পরিকল্পনা ছিল। আবার সুযোগ পাই। এ বার আর সুযোগ নষ্ট করতে চাইনি।”
প্রত্যাবর্তনের পথে সতীর্থ ও কোচেরা তাঁকে অনেক সাহায্য করেছেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জু। তবে বিশেষ একজনের কথা বলেছেন ভারতীয় ব্যাটার। তিনি সচিন তেন্ডুলকর। সঞ্জু বললেন, “সচিন স্যরের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ ছিল। যখনই বাইরে বসে থেকেছি, খেলার সুযোগ পাইনি, তখনই সচিন স্যরের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। গত কালও স্যর আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছেন, মনের মধ্যে কী চলছে। সচিন স্যর যে ভাবে সাহায্য করবেন, তা বলে বোঝাতে পারব না।”