Jemimah Rodrigues

কোচ, সাপোর্ট স্টাফেদের সঙ্গে ঋতুস্রাব নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন, বলছেন বিশ্বকাপজয়ী জেমাইমা

জেমাইমা সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করেছেন, যখন ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক ও মানসিক ধকল সত্ত্বেও তিনি মুখ বুজে সব সহ্য করে যেতেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৬
Share:

জেমাইমা রদ্রিগেজ়। —ফাইল চিত্র

তিনি ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জেমাইমা রদ্রিগেজ় মুখ খুললেন ঋতুস্রাব নিয়ে। জানিয়েছেন, ক্রিকেটজীবনের শুরুর দিকে তাঁকে প্রায়শই ঋতুস্রাব নিয়ে বাধ্য হয়ে এক ধরণের নীরবতা বজায় রাখতে হতো।

Advertisement

‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই ক্রিকেটার সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করেছেন, যখন ঋতুস্রাবের সময় শারীরিক ও মানসিক ধকল সত্ত্বেও তিনি মুখ বুজে সব সহ্য করে যেতেন। বলেছেন, এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতো যেখানে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা প্রকাশ করাও কঠিন ছিল।

জেমাইমা লক্ষ্য করেছেন, ঋতুস্রাব নিয়ে এখনও কিছু সেকেলে ধারণা সমাজে রয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, অনেকে এখনও মনে করেন ঋতুস্রাব মেয়েদের দুর্বল করে দেয় এবং খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ভ্রান্ত ধারণাগুলি ভেঙে ফেলার জন্য তিনি নিজে খেলাধুলার জগতে নারী স্বাস্থ্য নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনা করতে আগ্রহী বলেও জানান জেমাইমা।

Advertisement

জেমাইমা বলেন, ‘‘আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হল, ঋতুস্রাব দুর্বল করে দেয় বা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। এই মানসিকতার কারণেই অনেক মেয়ে তাদের অস্বস্তির কথা লুকিয়ে রাখে বা মুখ বুজে সহ্য করে যায়। পিরিয়ড জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ এবং একেক জনের শরীরে এর প্রতিক্রিয়া একেক রকম হয়। তাই সকলের উপর একই ধরণের প্রত্যাশা বা চাপ থাকা উচিত নয়।’’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘দলের ভিতরে সতীর্থ, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে স্বাস্থ্যের অন্যান্য বিষয়গুলির মতো ঋতুস্রাব নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। যখন সকলে বিষয়টা স্বাভাবিক মনে করে মেনে নেবেন, তখন ওই সময়ে অনুশীলন বা প্রয়োজনে বিশ্রাম নেওয়া সহজ হয়ে যায়। আমরা যত সহজে এটা নিয়ে আলোচনা করব, মেয়েরা তত বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই খেলাধুলায় এগিয়ে আসবে।’’

Advertisement

ক্রিকেটজীবনের শুরুতে জেমাইমা নিজেও ঋতুস্রাব সংক্রান্ত সামাজিক জড়তার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘অন্যান্য মেয়ের মতো আমার কাছেও ঋতুস্রাব এমন একটা বিষয় ছিল, যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলা যেত না। একটা দ্বিধা কাজ করত এবং সবটা একাই সামলাতে হতো।’’ জেমাইমার বক্তব্য, ‘‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি বুঝেছি যে, এই নীরবতা কেবল জড়তা বা কলঙ্ককেই বাড়িয়ে তোলে। এটা নিয়ে যত খোলামেলা কথা বলা যাবে, তত বিষয়টা স্বাভাবিক হবে।’’

ঋতুস্রাবের সময় খেলা বা অনুশীলন করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এমন দিন গিয়েছে যখন পিরিয়ড চলাকালীন খেলা বা প্র্যাকটিস করা শারীরিক ও মানসিক ভাবে কঠিন ছিল। আগে আমরা এগুলো কাউকে না বলে খেলে যেতাম। কিন্তু এখন বুঝেছি নিজের শরীরের কথা শোনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ‘পিরিয়ড কেয়ার’ ব্যবহার করা এবং সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement