ICC T20 World Cup 2026

বাতিলের তালিকা থেকে ফিরে দলকে সেমিতে তোলা, তিন মন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, কী ভাবে ফর্মে ফিরলেন, ইডেনে দাঁড়িয়েই বললেন সঞ্জু

বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন হয়েছে সঞ্জু স্যামসনের। কঠিন সময় কী ভাবে কাটিয়ে উঠলেন ভারতীয় ওপেনার? দলকে সেমিফাইনালে তুলে নিজেই জানালেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫১
Share:

সঞ্জু স্যামসন। ছবি: পিটিআই।

মাঝেমাঝে মনে হচ্ছিল, হয়তো বেঞ্চে বসেই কাটিয়ে দিতে হবে তাঁকে। কী ভুল করছিলেন, বুঝতে পারছিলেন না। ঠিক সেই সময় সঞ্জু স্যামসন ঠিক করে ফেলেন, যে ভাবেই হোক ফিরতে হবে। তিনি ফিরেছেন। দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রত্যাবর্তন কেমন হওয়া উচিত। ৫০ বলে ৯৭ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে তুলেছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। কঠিন সময় কী ভাবে কাটিয়ে উঠলেন ভারতীয় ওপেনার? দলকে সেমিফাইনালে তুলে নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

খেলা শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জু জানিয়েছেন, তিনটি মন্ত্রেই এই কাজ সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। সমাজমাধ্যমে থেকে সরে গিয়েছিলাম। নিজের মনের কথা শুনেছি। মনকে বিশ্বাস করিয়েছি যে, আমি পারবই।” এই তিন মন্ত্রেই অসাধ্যসাধন করেছেন ভারতীয় ব্যাটার।

সঞ্জু জানতেন, তাঁর শট বাছাইয়ে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু রাতারাতি সব কিছু বদলে ফেলতে চাননি। ভারতীয় ওপেনার বলেন, “আমার শট বাছাইয়ে সমস্যা হচ্ছিল। তার পিছনে খেটেওছি। কিন্তু সব বদলে ফেলতে চাইনি। কারণ, এই টেকনিকেই তো সফল হয়েছি। তিনটে শতরান করেছি। তা হলে কেন সব বদলাব।”

Advertisement

নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ের পর বিশ্বকাপের আগে কয়েক দিন সময় ছিল। সেই সময়টা কাজে লাগান সঞ্জু। ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেন তিনি। সঞ্জু বলেন, “আমার নিজের উপরেই অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আমি পারব না। এই ধরনের কথা মনে হলেই ইতিবাচক ভাবনা দিয়ে তার মোকাবিলা করতে হয়। নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়েও রান পাইনি। কিন্তু তার পর ১০ দিনের বিশ্রাম পেয়েছিলাম। সেটা কাজে লেগেছে।”

সেই সময়ে নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ চলেছে সঞ্জুর। তাঁর মতে, টেকনিক নয়, সেই যুদ্ধ জিতেছেন বলেই রানে ফিরতে পেরেছেন। ভারতীয় ওপেনার বলেন, “আমি ম্যাচ খেলছিলাম না। বেঞ্চে বসেছিলাম। ভাবছিলাম, কেন রান আসছে না? কোথায় ভুল হচ্ছে? নিজের আত্মাকে খুঁজছিলাম। মনের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছিল। অনেকে অনেক পরামর্শ দিয়েছিল। তাতে যুক্তিও ছিল। কিন্তু এই লড়াইটা আমার একার ছিল। সেটা জিতেছি।”

ইডেনে রাতের দিকে শিশির পড়লেও ১৯৬ রান তাড়া করা যে সহজ ছিল না তা স্বীকার করে নিয়েছেন সঞ্জু। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। সেটা পেরেছেন। সঞ্জু বলেন, “রান তাড়া সহজ ছিল না। আমাদের দলে ব্যাটারের অভাব নেই। শিশির পড়ায় ব্যাট করতে সুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু নিয়মিত উইকেট পড়ছিল। তাই চ্যালেঞ্জও বাড়ছিল।” সঞ্জু আরও বলেন, “সত্যি বলতে, আমার অভিজ্ঞতা কাজে গিয়েছে। যখন উইকেট পড়তে শুরু করল, নিজেকে বললাম, শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে।”

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইডেনে ঝুঁকিহীন ইনিংস খেলেছেন সঞ্জু। প্রতিপক্ষকে কোনও সুযোগই দেননি তিনি। প্রথম থেকে সেই পরিকল্পনা নিয়েই তিনি নেমেছিলেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জু। ভারতীয় ব্যাটার বলেন, “চাপের মুখে ১৯৬ রান তাড়া করার সময় বেশি হাওয়ায় শট খেলা যায় না। প্রথমে ব্যাট করলে হয়তো আমি অনেক বেশি হাওয়ায় শট খেলতাম। কিন্তু তখন আমার মনে হয়েছিল, চার মারার চেষ্টা বেশি করতে হবে। তাতে ঝুঁকি কম থাকবে।” সেটাই করেছেন সঞ্জু। ৯৭ রানের ইনিংসে ১২টি চার মেরেছেন তিনি। পাশাপাশি চারটি ছক্কাও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। অর্থাৎ, ৭২ রান বাউন্ডারি থেকে এসেছে। বাকি ২৫ রান দৌড়ে নিয়েছেন সঞ্জু।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement