হাইনরিখ ক্লাসেন। —ফাইল চিত্র।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। কিন্তু আইপিএলে তাঁর ব্যাটিং দেখলে তা বোঝা মুশকিল। দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন হাইনরিখ ক্লাসেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন কেভিন পিটারসেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডকে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এখনও পর্যন্ত কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯৮ সালের পর থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে আইসিসি ট্রফি জেতেনি তারা। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল। সেই ম্যাচেও ক্লাসেন প্রায় একাই দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিতিয়ে দিয়েছিলেন। ২০২৭ সালেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করেন পিটারসেন।
এক্স মাধ্যমে পিটারসেন লেখেন, “দক্ষিণ আফ্রিকা কোনও দিন বিশ্বকাপ জেতেনি। ওদের উচিত ক্লাসেনকে ফোন করা। ওর অবসর ভাঙিয়ে আবার দলে ফেরত আনা। কারণ, পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ। সেখানে ক্লাসেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।” শুধু বোর্ড নয়, ক্লাসেনকেও ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন পিটারসেন। তিনি লেখেন, “ক্লাসেন যে ফর্মে রয়েছে তাতে পরের বছর বিশ্বকাপে ও তফাত গড়ে দিতে পারে। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে ওর না থাকাটা হতাশাজনক। ওর মতো ক্রিকেটার খুব বেশি আসে না। ক্লাসেনের উচিত আবার জাতীয় দলে ফেরা।”
পিটারসেন পরামর্শ দিলেও ক্লাসেনের ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তিনি খেলেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে হেরেছিল। বিশ্বকাপের পর ক্লাসেন বলেছিলেন, “দু’সপ্তাহ ধরে ভেবে তার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। নেপথ্যে আমার পরিবারের ভূমিকা আছে। আমার বন্ধুরা বিশ্বকাপে ভাল খেলেছে। আমি মার্করামের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ও বলেছিল, ও অধিনায়ক থাকলে আমি ইচ্ছা করলেই ফিরতে পারি। কিন্তু বিশ্বকাপের পর আমি বুঝতে পেরেছি, তা আর সম্ভব নয়। আমি আর ফিরব না।”
চলতি আইপিএলে সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের হয়ে মিডল অর্ডারে নেমেও কমলা টুপির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ক্লাসেন। এই তালিকায় থাকা প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে তিনিই একমাত্র মিডল অর্ডারে খেলেন। ন’ম্যাচে ৪১৪ রান করেছেন ক্লাসেন। ৫৯.১৪ গড় ও ১৫৭.৪১ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন তিনি। চারটি অর্ধশতরান করেছেন। সেই কারণেই ক্লাসেনকে ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন পিটারসেন।