অজিঙ্ক রাহানে। ছবি: এক্স।
অন্ধকার সুড়ঙ্গ দিয়ে ছুটে চলেছেন অজিঙ্ক রাহানেরা। কোথায় আলোর দেখা পাওয়া যাবে, জানেন না। এ বারের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের খেলা দেখা মানেই একরাশ বিরক্তি। না আছে কোনও পরিকল্পনা। না রয়েছে দায়িত্ববোধ। এক বা দু’জন ভাল খেললে যে ম্যাচ জেতা যায় না, সেটা ম্যাচের পর ম্যাচে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ২ পয়েন্ট দেওয়ার জন্য নামছে কেকেআর। এ বার গুজরাত টাইটান্সের কাছে হারল তারা। বাকি আট ম্যাচেও যে তাদের জেতার সম্ভাবনা নেই তা এই ম্যাচেই বোঝা গেল। আইপিএলে সবচেয়ে লজ্জার মরসুমের সাক্ষী থাকতে চলেছেন কেকেআর সমর্থকেরা।
চলতি মরসুমে ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে হারল কেকেআর। একটি ম্যাচ ভেস্তে যায়। নইলে সেটিতেও হারতে হত। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৮০ রান করে অল আউট হয়ে যায় কেকেআর। চলতি আইপিএলে প্রথম ম্যাচে রান করলেন ক্যামেরন গ্রিন। তাঁর ৫৫ বলে ৭৯ রান কাজে এল না। গ্রিনের রানে ফেরাটাই কেকেআরের কাছে একমাত্র ইতিবাচক বিষয়। তবে তাতে লাভ বল না। অধিনায়ক শুভমন গিলের ৮৬ রানে ভর করে ২ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট জিতল গুজরাত। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় এক লাফে চার নম্বরে উঠে এল তারা।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন কেকেআর অধিনায়ক রাহানে। তিনি পিচ দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। টস জিতে জানালেন, ব্যাট করেও হারছেন, বল করেও হারছেন। তাই এই ম্যাচে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে অধিনায়ক জানেনই না, টস জিতে কী করতে হবে, তিনি কী ভাবে জিতবেন। শুভমন কিন্তু জানালেন, টস জিতলে বল করতেন। দেখা গেল, সেটাই সঠিক সিদ্ধান্ত হত।
ব্যাট করতে নেমে আবার এক হাল কেকেআরের। রাহানের কথা না বলাই ভাল। মহম্মদ সিরাজের প্রথম বলটাই বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শূন্য রানে আউট হয়ে ফিরলেন। যে কাগিসো রাবাডা এ বার প্রতি ম্যাচে রান দিচ্ছেন, সেই রাবাডাকেও ফর্মে ফিরিয়ে দিল কেকেআর। এই ম্যাচে ফিন অ্যালেনের বদলে টিম সেইফার্টকে খেলানো হয়েছিল। তিনিও ১৯ রান করে রাবাডার বলে আউট হয়ে গেলেন। অঙ্গকৃশ রঘুবংশীও ৮ রান করে রাবাডার শিকার। পাওয়ার প্লে-তে আবার ৩ উইকেট হারাল কেকেআর। রান হল মাত্র ৩৭।
গ্রিন ও রভম্যান পাওয়েল জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। প্রথম ১৫ বলে গ্রিন রান করতে পারছিলেন না। সেই সময় পাওয়েল কয়েকটি বড় শট খেলেন। কিন্তু অশোক শর্মার বলের গতি বুঝতে না পেরে ২০ বলে ২৭ রান করে আউট হয়ে গেলেন। তার পর হাত খুললেন গ্রিন। প্রথম বার তাঁকে দেখে মনে হল, রান করার চেষ্টা করছেন।
গ্রিনকে সুবিধা করে দিল গুজরাতের ফিল্ডিং। তাঁর দু’টি ক্যাচ পড়ল। রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া হল। তার মাঝেই বেশ কয়েকটি ভাল শট খেললেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার। কেকেআর জার্সিতে প্রথম অর্ধশতরান করলেন তিনি। তবে গ্রিন একাই কী করবেন? বাকি কেউ রান পেলেন না।
রিঙ্কু সিংহ ফর্মে না থাকায় তাঁর আগে নামানো হয়েছিল অনুকূল রায়কে। ৯ রানে আউট তিনি। রিঙ্কুর হাল তো আরও খারাপ। রানই করতে পারছেন না। এই ম্যাচেও ১ রানে আউট হলেন। রমনদীপ কয়েকটি বড় শট খেললেন বটে, কিন্তু তিনিও বেশি ক্ষণ থাকতে পারলেন না। ১৭ রান করে অশোকের বলে আউট হলেন।
অপর প্রান্তে গ্রিন ভাল খেলছিলেন। একটা সময় দলের রান রেট ওভার প্রতি ১০ রান ছিল। একটু বুদ্ধি করে খেললে ২০০ রানের বেশি করতে পারত কেকেআর। সেই সময় বাকিদের উচিত ছিল সিঙ্গল নিয়ে গ্রিনকে স্ট্রাইক দেওয়া। তা না করে প্রত্যেকে বড় শট খেলতে গিয়ে ফিরলেন। সুনীল নারাইনও তাই। পাঁচ বলে খেলে শূন্য রানে আউট হলেন। শেষ দিকে ব্যাট করার সুযোগই পেলেন না গ্রিন। ইনিংসের শেষ বলে ৭৯ রানে রশিদ খানের বলে আউট হলেন তিনি। ১৮০ রানে অলআউট হয়ে গেল কেকেআর। অন্তত ৩০ রান কম করল তারা।
গুজরাতের পাঁচ বোলারই উইকেট নিলেন। সবচেয়ে সফল রাবাডা। চার ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন তিনি। ২টি করে উইকেট নিলেন সিরাজ ও অশোক। একটি করে উইকেট প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও রশিদের।
এই উইকেটে ১৮১ রান করা কঠিন ছিল না। সেটা গুজরাতের ইনিংসের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। শুভমন ও সাই সুদর্শন আরাম করে খেলছিলেন। কেকেআরের পেসারদের খেলতে কোনও সমস্যাই হচ্ছিল না তাঁদের। পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে গুজরাতকে প্রথম ধাক্কা দেন নারাইন। ১৬ বলে ২২ রানে আউট হলেন সুদর্শন।
তাতে অবশ্য রান তাড়া করতে সমস্যা হয়নি। শুভমন ভাল ফর্মে রয়েছেন। কেকেআরের বিরুদ্ধে তিনি ভালই খেলেন। সেটা এই ম্যাচেও দেখা গেল। বাটলারও বড় শট মারছিলেন। সেটা করতে গিয়ে ২৫ রানের মাথায় বরুণ চক্রবর্তীর বলে আউট হলেন তিনি। এ বারের আইপিএলে প্রথম উইকেট পেলেন বরুণ। ওয়াশিংটন সুন্দর বেশি রান রাননি। ১৩ রান করে বরুণের শিকার হন তিনি।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
একদিকে টিকেছিলেন শুভমন। অর্ধশতরান করেন তিনি। তাঁকে দেখে এক বারও মনে হচ্ছিল না, চাপে রয়েছেন। শিশির পড়তে শুরু করেছিল। শিশির বুঝিয়ে দিল, টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে কতটা ভুল করেছেন রাহানে। শুভমনকে অনেক চেষ্টা করেও থামাতে পারলেন না কেকেআর বোলারেরা। যেখানে এক অধিনায়ক শূন্য রানে আউট হলেন, সেখানে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক একার কাঁধে খেলা জেতালেন। এটাই কেকেআরের থেকে বাকি দলগুলির পার্থক্য।
আর ৩০ রান বেশি করলে হয়তো লড়াই বেশি হত। হয়তো জিততেও পারত কেকেআর। কিন্তু গোড়াতেই যে গন্ডগোল হয়ে গেল। সেখান থেকে আর ফিরতে পারল না তারা। ৫০ বলে ৮৬ রান করে গ্রিনের ভাল ক্যাচে শুভমন আউট হলেন। তবে তত ক্ষণে জয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছে গুজরাত। ফলে লড়েও লাভ হল না। আরও এক বার মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেন রাহানেরা।