মরিয়া: প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় উমরান। —ফাইল চিত্র।
শোয়েব আখতারকে এক বার প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘‘বল করার আগে আপনি এতটা দৌড়ে আসেন কেন?’’ রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস বলেছিলেন, ‘‘বোয়িং ৭৩৭-এর উত্তরণের আগে রানওয়েতে গতিটাও জরুরি।’’ উমরান মালিকও একই দর্শনে বিশ্বাসী। ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বল করার আগে তাঁকেও দৌড়ে আসতে হয় ক্ষিপ্র গতিতে। দীর্ঘদিনের চোট-আঘাত, রাজ্য দল থেকে বাদ পড়া, আইপিএলে ম্যাচ না পাওয়ার হতাশা আর তাঁকে ভাবায় না। তিনি জানেন, গতিতেই বিপক্ষকে পরাস্ত করতে হবে। তার জন্য পরিশ্রম তিনি করতে রাজি।
২০২২ আইপিএলে ঘণ্টায় ১৫৭ কিলোমিটার গতিতে একটি বল করেছিলেন উমরান। যা আইপিএলের দ্রুততম ডেলিভারির তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ২০২২-এ উমরানের হাত থেকেই এসেছিল মরসুমের দ্রুততম বল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর দ্রুততম বলের গতি ১৫৬.৯ কিমি প্রতি ঘণ্টা। কিন্তু বৈচিত্রের অভাবে অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলতেন। ভারতীয় দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন। ভরসা রেখেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ৭৫ লক্ষ টাকায় তাঁকে রেখে দিয়েছে শাহরুখ খানের দল। অবশ্যই উমরানেরপ্রত্যাবর্তনের আশায়।
তরুণ পেসারের লক্ষ্য, নাইট কর্ণধারের আস্থার মর্যাদা রাখা। এ বারের আইপিএলে কেকেআর জার্সিতে সুযোগ পেতে মরিয়া এই পেসার। জানিয়ে দিলেন, গতিই তাঁর অস্ত্র। যা কমানোর কথা কখনও ভাবেন না। কিন্তু আইপিএলে সফল হতে গেলে বাড়াতে হবে বৈচিত্র। তা নিয়েই কাজ করছেন জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ। আনন্দবাজারকে উমরান বলছিলেন, ‘‘গতিই আমার শক্তি। কখনওই গতি কমানোর কথা ভাবি না। তবে এ বার বৈচিত্র বাড়ানোর চেষ্টা করছি। স্লোয়ারের উপরে জোর দিচ্ছি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক জন পেসারের সব চেয়ে বড় অস্ত্র স্লোয়ার। এ বার যা দেখতে পাবেন।’’
নাইটদের মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভোর কাছে স্লোয়ারের পাঠ নিচ্ছেন উমরান। উপকৃতও হচ্ছেন। সম্প্রতি ডিওয়াই পাটিল টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার একটি ম্যাচে তিন ওভারে ৬০ রান দিয়েছিলেন উমরান। তার পর থেকে বুঝতে পেরেছেন, গতির পাশাপাশি স্লোয়ারের গুরুত্ব কতটা। বলছিলেন, ‘‘ব্র্যাভো আমাকে স্লোয়ারের পাঠ দিচ্ছে। ও নিজেও অসাধারণ স্লোয়ার করতে পারত। আশা করি, ওর কোচিংয়ে আরও উন্নত হব।’’ যোগ করেন, ‘‘ব্র্যাভো, ওয়াটসনরা সব সময়ই আমাকে খুব সাহায্য করছে। মাঠের বাইরে বন্ধুর মতো মেশে। ব্র্যাভোর ভরসায় ধীরে ধীরে মানসিক ভাবেশক্তিশালী হচ্ছি।’’
চোটের জন্য শেষ দু’টি আইপিএল খেলা হয়নি উমরানের। মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। অবসাদ গ্রাস করতে শুরু করেছিল তাঁকে। কী ভাবে নিজেকে সামলালেন? উমরানের উত্তর, ‘‘চোটের সময় মানসিক ভাবে যে কোনও ক্রিকেটারই ভেঙে পড়ে। অবসাদ গ্রাস করে। এই সময়গুলোয় ইতিবাচক লোকজনের মাঝে থাকা উচিত। সমাজমাধ্যম থেকে দূরে থাকাও জরুরি। চোট থেকে পুরনো ছন্দে ফেরা একেবারেই সহজ নয়। আমার পরিবার ও বন্ধুরা পাশে ছিল বলেই আগের মতো তরতাজা হয়ে উঠেছি। অনেকেই আমাকে নিয়ে মজা করেছে। মিম বানিয়েছে। কিন্তু বাবা বলতেন, খারাপ সময় এক দিন কেটে যাবে। রাত পোহালেই যে ভোরের আলো ফোটে!’’
তাঁর রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর এ বার রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন। গত বছরই রঞ্জির দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। তার পর থেকে লাল বলের ক্রিকেট আর খেলা হয়নি। জনপ্রিয়তার দিক থেকে উমরানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন আকিব নবি। জম্মু ও কাশ্মীরের ‘পোস্টার বয়’ এখন আকিব। তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই উমরানের। বলছিলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে কোনও দিনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসবে না। আমরা দু’জনেই একে অন্যের থেকে অনেক কিছু শিখি।’’যোগ করেন, ‘‘আকিবের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হয়। আইপিএলের আগেও ওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। আমরা আলোচনা করি, কোন পরিস্থিতিতে কী রকম বল করা উচিত। ওর মতো বুদ্ধিদীপ্ত বোলার খুব কমই আছে। শুধুমাত্র লাল বলে নয়, সাদা বলেও ওর দক্ষতা অসাধারণ। এ বার আইপিএলে দিল্লির হয়ে খেলবে। দেখে নেবেন, ও কতবড় মাপের বোলার। ও কিন্তু ইয়র্কারও ভাল দিতে পারে।’’
উমরানের বিশ্বাস, ভারতীয় দলে এক দিন তাঁর প্রত্যাবর্তন হবে। বলে দিলেন, ‘‘নীল জার্সি গায়ে দেওয়ার স্বপ্নই তো আমাকে বারবার মাঠে ফেরায়। সুযোগ পেয়েও এক সময় কাজে লাগাতে পারিনি। আইপিএলে আবারও নিজেকে মেলে ধরতে চাই। নির্বাচকদের নজরে উঠে আসার চেষ্টা ছাড়ব না।’’ শেষে বলেন, ‘‘এখন লক্ষ্য কেকেআরের হয়ে ভাল করা। যদি সুযোগ পাই, পুরনো উমরানকেই দেখতে পাবেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে