১৫০ রান করার পর লোকেশ রাহুলের উল্লাস। ছবি: এক্স।
শতরান করার কথা মাথাতেও ছিল না লোকেশ রাহুলের। তিনি শুধু চেয়েছিলেন, বল দেখে খেলতে। যতটা সম্ভব রান করতে। আর সেটা করতে গিয়েই রেকর্ড গড়েছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটার। এক ইনিংসে পাঁচটি নজির হয়েছে রাহুলের।
আইপিএলে এই প্রথম কোনও ভারতীয় ব্যাটার ১৫০ রানের বেশি করেছেন। এর আগে সর্বাধিক ছিল গত বছর অভিষেক শর্মার করা ১৪১ রান। তাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন রাহুল।
একটা সময় দেখে মনে হয়েছিল, ক্রিস গেলের ১৭৫ রানের রেকর্ডও হয়তো ভেঙে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। আইপিএলে সর্বাধিক রানের তালিকায় তিন নম্বরে রাহুল। তাঁর উপর গেল ও ব্রেন্ডন ম্যাকালাম (১৫৮)।
আইপিএলে অন্তত ১০০০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক গড় রাহুলের। ৪৬.৮৮ গড়ে রান করেছেন তিনি। শীর্ষে সাই সুদর্শন। তাঁর গড় ৪৭.১৬।
আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রানের তালিকায় পাঁচ নম্বরে উঠেছেন রাহুল। এক ইনিংসে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ও সুরেশ রায়নাকে টপকে গিয়েছেন তিনি। আইপিএলে রাহুলের রান ৫৫৭৯। প্রথম চার ক্রিকেটার হলেন বিরাট কোহলি (৮৯৮৯), রোহিত শর্মা (৭১৮৩), শিখর ধাওয়ান (৬৭৬৯) ও ডেভিড ওয়ার্নার (৬৫৬৫)।
ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রানের ইনিংস খেলেছেন রাহুল। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিলক বর্মা। ২০২৪ সালে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে ১৫১ রান করেছিলেন তিনি। ১ রানের জন্য তিলককে টপকে গিয়েছেন রাহুল।
ইনিংস শেষে অবশ্য রাহুল নিজের থেকেও বেশি প্রশংসা সতীর্থ নীতীশ রানার করেছেন। নীতীশ ৪৪ বলে ৯১ রান করেছেন। দু’জনের মধ্যে ৯৫ বলে ২২০ রানের জুটি হয়েছে। এই জুটিই দিল্লিতে ২৬৪ রানে নিয়ে গিয়েছে। রাহুল বলেন, “নীতীশ দুর্দান্ত খেলেছে। ও পুরো ক্রিকেটীয় শট খেলছিল। নীতীশ থাকায় আমার কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। আমার উপরে চাপ কমে গিয়েছিল। শুরুতে একটু সময় নিতে পেরেছি।”
রাহুলের মতে, আড়াআড়ি শট খেলে রান করা সহজ। কিন্তু তাতে ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকি দেখতে পেলে বোলিং দলের অধিনায়ক ততটা চাপে থাকেন না। কারণ, তিনি জানেন, উইকেট বেশি দূরে নেই। কিন্তু ক্রিকেটীয় শট খেলে রান করলে প্রতিপক্ষ চাপে পড়ে যায়। সেটাই করেছেন তাঁরা। রাহুল বলেন, “আমরা বাজে শট খেলিনি। সব ক্রিকেটীয় শট খেলেছি। তার পরেও ২০০-র বেশি স্ট্রাইক রেটে খেলেছি। এতে ওদের সমস্যা হয়েছে। ওরা চাপে পড়েছে।”
তবে শতরানের কথা মাথায় ছিল না রাহুলের। তিনি চেয়েছিলেন দলের হয়ে খেলতে। রাহুল বলেন, “শুরুতে আমি বল দেখে খেলছিলাম। শেষ দিকে কিছু শট আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলাম। শুরুতে ভেবেছিলাম, ৭০-৮০ রান করলেই হবে। কিন্তু এক বার ছন্দ পাওয়ার পর ঠিক করেছিলাম, যত ক্ষণ পারব খেলব। শেষ বল পর্যন্ত খেলতে পেরেছি।” দিল্লির এই গরমে ২০ ওভার ব্যাট করার পর ২০ ওভার উইকেটরক্ষকের দায়িত্বও সামলাতে হবে তাঁকে। ফিল্ডিংয়ের সময় পায়ে ক্র্যাম্প ধরার আশঙ্কায় রয়েছেন রাহুল।