Ahmedabad Plane Crash

‘ছেলে বেঁচে নেই, ওর সম্মান রক্ষার দায় আমারই’, বললেন অহমদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত পাইলটের বাবা

অহমদাবাদ বিমানবন্দরের রানওয়ে ছাড়ার পরেই এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী উড়ান এআই১৭১ ভেঙে পড়েছিল ২০২৫ সালের ১২ জুন। অভিযোগের আঙুল উঠেছিল সেই বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের প্রধান পাইলট সুমিতের দিকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ২০:৫৯
Share:

(বাঁ দিকে) সুমিত সবরওয়াল এবং পুষ্কররাজ সবরওয়াল (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

২০২৫ সালের ১২ জুন। বেলা ১টা ৩৮ মিনিট। অহমদাবাদ বিমানবন্দরের রানওয়ে ছেড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী উড়ান এআই১৭১। তার পর ঠিক ৩২ সেকেন্ডের মাথায় বিমানটি ভেঙে পড়ে গুজরাতের বাণিজ্যনগরীর উপর। অভিশপ্ত সেই বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ২৪২ জন যাত্রীর ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন পাইলট সুমিত সবরওয়ালও। ঘটনাচক্রে, দুর্ঘটনার পর যাঁর দিকে একাধিক বার অভিযোগের আঙুল ওঠে।

Advertisement

অহমদাবাদ দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তির আগে সুমিতের বাবা পুষ্কররাজ সবরওয়াল বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে বললেন, ‘‘আমার ছেলে বেঁচে নেই। ওর সম্মান রক্ষার দায় এখন আমারই।’’ অহমদাবাদ দুর্ঘটনার পরে গত বছরের জুলাই মাসে ভারতের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) প্রকাশিত একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, উড়ানের কিছু ক্ষণ পরের বিমানের উভয় ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ‘রান’ অবস্থান থেকে ‘কাট-অফ’ অবস্থানে চলে গিয়েছিল, ফলে ইঞ্জিনগুলি জ্বালানি থেকে বঞ্চিত হয়। দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে ককপিটের মধ্যে পাইলটদের কথোপকথন প্রকাশ করা হয় ওই রিপোর্টে। তাতে শোনা গিয়েছে, এক জন পাইলট অন্য জনকে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘‘কেন তুমি জ্বালানির সুইচটা বন্ধ করে দিলে?’’ অন্য জন তার উত্তরে বলছেন, ‘‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’’

এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমানটিতে প্রধান ক্যাপ্টেন হিসাবে ছিলেন ৫৬ বছর বয়স্ক অভিজ্ঞ সুমিত। ১৫,৬৩৮ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে ফার্স্ট অফিসার হিসাবে ছিলেন কো-পাইলট ক্লাইভ কুন্দর (৩২)। যে কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে, তার মধ্যে কে কোন কথাটি বলেছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি রিপোর্টে। দাবি, গলার স্বর সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা। কিন্তু এই কথোপকথন থেকে অনেকেই একটি বিষয়ে একমত হচ্ছেন যে, কোনও এক পাইলট জ্বালানির সুইচ বন্ধ করে থাকতে পারেন। বিমানটিতে রক্ষণাবেক্ষণগত কোনও ত্রুটি ছিল না বলেও প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে। কী ভাবে জ্বালানির সুইচ বন্ধ হয়ে গেল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা অনেকের নজর ঘুরিয়ে দিয়েছে সুমিতের দিকেই।

Advertisement

পুষ্কররাজ কিন্তু সরাসরি সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন)-র অবসরপ্রাপ্ত ৯০ বছরের আধিকারিক জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। যত দিন বেঁচে রয়েছেন, তত দিন সেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের উল্লেখও করেছেন তিনি। অন্তর্তদন্তমূলক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, টেক অফের সময় বোয়িং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ সম্ভবত ফার্স্ট অফিসারের হাতেই ছিল। অভিজ্ঞ পাইলট গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করছিলেন। ফলে দুর্ঘটনার সময়ে তাঁর হাত ফাঁকা থাকাই স্বাভাবিক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement