(বাঁ দিক থেকে) হার্দিক পাণ্ড্য, সূর্যকুমার যাদব এবং জসপ্রীত বুমরাহ। ছবি: পিটিআই।
আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ভরসা দিতে পারছেন না সূর্যকুমার যাদব, জসপ্রীত বুমরাহেরা। হেরে চলেছে হার্দির পাণ্ড্যের মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৪৩ রান তুলেও ৬ উইকেটে হেরে গেল মুম্বই। কাজে এল না রায়ান রিকলটনের ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। প্রথমে ব্যাট করে মুম্বই করে ৪ উইকেটে ২৪৩। জবাবে ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ২৪৯ হায়দরাবাদের। এই নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতল প্যাট কামিন্সের দল।
জয়ের জন্য ২৪৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভাল করে হায়দরাবাদ। ওপেনিং জুটিতে অভিষেক শর্মা এবং ট্রেভিস হেড ৮.৪ ওভারে ১২৯ রান তোলেন। পর পর দু’বলে অভিষেক এবং ঈশান কিশনকে (০) আউট করে হায়দরাবাদকে চাপে ফেলে দেন মুম্বইয়ের আফগান স্পিনার আল্লা গজ়নফর। পরের ওভারে হেডকে আউট করে মুম্বইকে লড়াইয়ে ফেরান হার্দিক। অভিষেক করলেন ২৪ বলে ৪৫ রান। মারলেন ৪টি চার এবং ৩টি ছয়। বেশি আগ্রাসী ছিলেন হেড। অস্ট্রেলীয় ব্যাটারের ব্যাট থেকে এল ৩০ বলে ৭৬ রানের ইনিংস। ৪টি চার এবং ৮টি ছয় দিয়ে সাজালেন নিজের ইনিংস।
মাত্র ১ ওভারের ব্যবধানে ১২৯/০ থেকে ১৩৩/৩ হয়ে যাওয়ার পর হায়দরাবাদের হাল ধরেন হেনরিখ ক্লাসেন এবং নীতীশ রেড্ডি। নীতীশ করলেন ১৭ বলে ২১। চাপ সামলে কামিন্সের দলকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দিলেন মূলত ক্লাসেন। তিনি অপরাজিত থাকলেন ৩০ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলে। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৭টি চার এবং ৪টি ছয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন সলিল অরোরা। তিনি ১০ বলে ৩০ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেললেন ২টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে।
গজ়নফর ছাড়া মুম্বইয়ের বাকি বোলারেরা এ দিনও হতাশ করলেন। আফগান স্পিনার ৫১ রানে ২ উইকেট নিলেন। ৩৯ রানে ১ উইকেট হার্দিকের। ৪১ রানে ১ উইকেট ট্রেন্ট বোল্টের। বুমরাহ ৪ ওভারে ৫৪ রান খরচ করেও উইকেট পেলেন না। উইল জ্যাকস ১ ওভারে দিলেন ১৯ রান। অশ্বিনী কুমারের ২ ওভারে ৪১ রান তুললেন হায়দরাবাদের ব্যাটারেরা।
এর আগে ঘরের মাঠে টস জিতে ব্যাটিং নেন হার্দিক। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেন মুম্বইয়ের দুই ওপেনার উইল জ্যাকস এবং রায়ান রিকলটন। ২২ বলে ৪৬ রান করে আউট হন জ্যাকস। ৫টি চার এবং ৩টি ছয় মারেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার। রিকলটন পিচের এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন। সূর্যকুমার যাদব (৫) আবার ব্যর্থ। ভরসা দিতে পারেননি চার নম্বরে নামা নমন ধীরও। তিনি করেন ১৭ বলে ২২ রান।
এর পর রিকলটনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক হার্দিক। তাঁদের জুটিতেই হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ভাল জায়গায় পৌঁছোয় মুম্বই। ১৫ বলে ৩১ রান করেন মুম্বই অধিনায়ক। মারেন ২টি চার এবং ২টি ছয়। শেষ পর্যন্ত রিকলটন খেলেন ৫৫ বলে ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১০টি চার এবং ৮টি ছক্কা। ৪৪ বলে শতরান পূর্ণ করেন। আইপিএলে এটাই মুম্বইয়ের হয়ে দ্রুততম শতরান। এর আগে সনৎ জয়সূর্য এবং তিলক বর্মা ৪৫ বলে শতরান করেছিলেন মুম্বইয়ের হয়ে। এ দিন তিলক করেন ৫ বলে ৭। শেষে রিকলটনের সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন রবীন মিঞ্জ (১)।
হায়দরাবাদের বোলারদের মধ্যে এশান মালিঙ্গা ২৯ রানে ১ উইকেট নেন। কামিন্স ৩৯ রান দিয়েও উইকেট পাননি। ৫৪ রান দিয়ে ২ উইকেট প্রফুল হিঙ্গের। ৩১ রানে ১ উইকেট নীতীশের। ৩৯ রানে ১ উইকেট সাকিব হুসেনের। ৩ ওভার বল করে ৫০ রান খরচ করেন হর্ষ দুবে।