ICC T20 World Cup 2026

কাল ভারত জিতলে রবি ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডের মুখোমুখি, ইডেনে অ‍্যালেন-সেইফার্ট ঝড়ে চোকার্সই থেকে গেল প্রোটিয়ারা

এত দিন অপরাজিত থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ছিটকে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে। প্রথম সেমিফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে হেরে গেল ক্রিকেটের চোকার্সেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ২১:৫৭
Share:

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ড। ছবি: রয়টার্স।

চোকার্স তকমা মুছতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। এত দিন অপরাজিত থাকা এডেন মার্করামেরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেন সেমিফাইনালে। এই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিউয়িদের কাছে হারল প্রোটিয়ারা। নিউ জ়িল্যন্ড জয় পেল ৯ উইকেটে। কিউয়িদের জয় এল কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ব্যাটারের দাপটে। ৩৩ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের বার্তা দিয়ে রাখলেন ফিন অ্যালেন।

Advertisement

ইডেন গার্ডেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকার ৮ উইকেটে ১৬৯ রানের জবাবে ১২.৫ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৩ রান তুলে বিশ্বকাপের ফাইনালে চলে গেল কিউয়িরা। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত জিতলে আগামী রবিবার সূর্যকুমার যাদবদের ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটারেরা। দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সব বোলারকেই প্রথম থেকে মারতে শুরু করেন তাঁরা। প্রথম উইকেটের জুটিতে ৯.১ ওভারে ১১৭ রান তোলেন। সেইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করেন। ৭টি চার এবং ২টি ছয় এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ক্রিকেটারের দাপটে ইডেন গার্ডেন্সে কোণঠাসা হয়ে পড়েন মার্করামেরা। সেইফার্ট আউট হওয়ার পর অ্যালেনের সঙ্গে যোগ দেন কেকেআরের আর এক ক্রিকেটার রাচিন রবীন্দ্র।

Advertisement

অ্যালেন ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে রাখেন। ১০টি চার এবং ৮টি ছয়ের সাহায্যে ৩৩ বলে শতরান করলেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তৃতীয় দ্রুততম শতরানের নজিরও গড়লেন। সবচেয়ে কম ২৭ বলে শতরান রয়েছে এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের। সাইপ্রাসের বিরুদ্ধে নজির গড়েন তিনি। দ্বিতীয় দ্রুততম শতরান তুরস্কের মহম্মদ ফাহাদের। ২৯ বলে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে শতরান করেন তিনি। নামিবিয়ার জ্যান নিকোল লফটি-ইটন ৩৩ বলে নেপালের বিরুদ্ধে শতরান করেন। জ়িম্বাবোয়ের সিকন্দর রাজাও গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে ৩৩ বলে শতরান করেন। বুধবার ইডেনে লফটি-ইটন এবং রাজার নজির ছুঁলেন অ্যালেন। ৩৩ বলের ইনিংসে আরও নজির গড়েছেন কেকেআরের কিউয়ি ক্রিকেটার। আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে দ্রুততম শতরানের নজির গড়েছেন তিনি। ১১ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রাচিন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কিউয়ি আগ্রাসনের সামনে বেশ অসহায় দেখিয়েছে। কাগিসো রাবাডা ২৮ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। মার্কো জানসেন, লুঙ্গি এনগিডি, করবিন বস, কেশব মহারাজেরা ওভার প্রতি ১১ বা তার বেশি রান খরচ করেছেন।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ইনিংসের শুরুটা ভাল হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। দ্বিতীয় ওভারে পর পর দু’বলে কুইন্টন ডি কক (১০) এবং রায়ান রিকেলটনকে (০) আউট করে প্রোটিয়াদের চাপে ফেলে দেন কোল ম্যাককোনচি। মার্করামকে (১৮) বিতর্কিত ক্যাচ আউট দিয়ে সমস্যা বাড়িয়ে দেন তৃতীয় আম্পায়ার নীতিন মেননও। তবে রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপসেরা সহজ ক্যাচ ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেন।

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বিতর্ক তৈরি হল আম্পায়ারিং নিয়ে। ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের অষ্টম ওভারের। রাচিনের বলে ছয় মারার চেষ্টা করেন মার্করাম। কিন্তু তাঁর টাইমিং ঠিক হয়নি। লং অনে ফিল্ডার ছিলেন ডারেল মিচেল। তিনি খানিকটা এগিয়ে এসে সামনে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন। মাঠের আম্পায়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠিয়ে দেন। কয়েক বার রিপ্লে দেখে মার্করামকে (২০ বলে ১৮) আউট দেন মেনন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কারণ রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গিয়েছে, মিচেল তালুবন্দি করার আগে বল সামান্য লাফায়। বল মাটিতে পড়ে লাফিয়েছিল না মিচেলের আঙুলে পড়ে লাফিয়েছিল, তা টেলিভিশন রিপ্লেতে নিশ্চিত ভাবে বোঝা যায়নি। নিশ্চিত হতে পারেননি ধারাভাষ্যকারেরাও। তবে মেনন জানিয়ে দেন, বলের তলায় মিচেলের আঙুল ছিল। তাই মার্করাম আউট।

ডেভিড মিলার (৬) দলকে ভরসা দিতে পারেননি। এক সময় ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবু গত বারের রানার্সদের লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ট্রিস্টান স্টাবস, জানসেনেরা। ব্রভিস চার নম্বরে নেমে করেন ২৭ বলে ৩৪। মারেন ৩টি চার এবং ২টি ছয়। স্টাবস করলেন ২৪ বলে ২৯। ২টি চার, ১টি ছক্কা মারেন তিনি। মূলত জানসেনের অর্ধশতরানই নিউ জ়িল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। ঠান্ডা মাথায় ৩০ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন জানসেন। তাঁর ব্যাটেই জান ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের। মারলেন ২টি চার এবং ৫টি ছক্কা।

নিউ জ়িল্যান্ডের রাচিন ২৯ রানে ২ উইকেট নিলেন। ৯ রানে ২ উইকেট ম্যাককোনচির। ৩৪ রানে ২ উইকেট ম্যাট হেনরির। ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট লকি ফার্গুসনের। এ ছাড়া ৪২ রানে ১ উইকেট জেমস নিশামের। স্যান্টনার ভাল বল করলেও উইকেট পেলেন না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement