বিশ্বকাপে কি সূর্যকুমার যাদবদের (বাঁ দিকে) বিরুদ্ধে খেলবেন সলমন আলি আঘারা? —ফাইল চিত্র।
বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। রবিবার পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বড় আর্থিক ক্ষতি হবে। শুধু আইসিসি নয়, তার প্রভাব পড়বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উপরেও। আর্থিক সমস্যা বাড়বে পাক বোর্ডের।
জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে মোট ৪৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে। অর্থাৎ, প্রতিযোগিতায় ওই একটি ম্যাচের মূল্য ৪৫০০ কোটি টাকা। সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসর, টিকিট বিক্রি, আইনি জুয়া ও বাকি সব বিষয় ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। বিশ্বক্রিকেটে অন্য কোনও ম্যাচ এর ধারেকাছে আসে না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বছরে যা রোজগার করে তার ১৫ গুণ ক্ষতি একটি ম্যাচ থেকে হবে।
তার মধ্যে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের ক্ষতি হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতার সেরা আকর্ষণ। সেই ম্যাচের মাঝে একটি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। কিন্তু খেলা না হলে সেই টাকা পাবে না তারা। বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য ১৩৮ কোটি টাকা দিতে হয় সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে। কিন্তু ভারত-পাক ম্যাচের ক্ষেত্রে সেটা অনেকটাই বেশি।
তার প্রভাব পড়বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের উপরেও। আইসিসির সঙ্গে ২৭,০৭৬ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে সম্প্রচারকারী সংস্থা জিয়োহটস্টারের। তারা ইতিমধ্যেই বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশ্বকাপের নক আউটে বা ভবিষ্যতে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতাতেও ভারত-ম্যাচ বয়কট করবে তারা। এই পরিস্থিতিতে চুক্তির অঙ্ক কমানোর চেষ্টা করছে জিয়োহটস্টার।
আইসিসিও আর্থিক ক্ষতি মেনে নেবে না। ভারত-পাক ম্যাচ না হলে তার দায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে নিতে হবে। পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করলে সম্প্রচারকারী সংস্থার এই ক্ষতি পূরণ করতে হবে তাদের। আইসিসির প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতার আগে একটি চুক্তি হয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট বা অংশগ্রহণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির মধ্যে সব ম্যাচ ধরা থাকে। একটি ম্যাচ না খেলা মানেই সেই চুক্তিভঙ্গ করা। শর্ত অনুযায়ী আইসিসি লভ্যাংশ বাবদ পূর্ণ সদস্য দেশগুলিকে বছরে যে টাকা দেয়, তা চুক্তিভঙ্গকারী দেশকে দেবে না। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে যা হতে পারে ৩১৬ কোটি টাকা।
আইসিসির কাছে প্রতি বছর ৩২০ কোটি টাকা করে পায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেটাই তাদের বার্ষিক রোজগার। অর্থাৎ, ভারতের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ বয়কট করলে সেই রোজগারের প্রায় ৯০ শতাংশ পাবে না তারা। এক বছরে পাক বোর্ড যা রোজগার করে তার ১৫ গুণ ক্ষতি হবে একটি ভারত-পাক ম্যাচ বাতিল হলে। তার প্রভাব তো পাকিস্তানের উপর পড়বেই। পাশাপাশি পুরো ২ পয়েন্ট পাবে ভারত। প্রভাব পড়বে পাকিস্তানের নেট রানরেটের উপরেও।
ক্ষতি হবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডেরও। এই ম্যাচ না হলে ভারতীয় বোর্ডের প্রায় ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে। কিন্তু ভারতীয় বোর্ডের রোজগারের ক্ষেত্রে সেটি এমন কিছু নয়। আইপিএলের নিলামেই তো একটি দল ১৩০ কোটি টাকা নিয়ে নামে। ফলে তার প্রভাব ভারতীয় ক্রিকেটে তেমন পড়বে না। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বড় আর্থিক ক্ষতি হবে।
পাশাপাশি বিশ্বকাপে প্রতিটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেন প্রায় ১০০ কোটি দর্শক। সেই দর্শকও হারাবে আইসিসি। সেই কারণেই এই ম্যাচ আয়োজনের সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি। জানা গিয়েছে, এখনও আইসিসিকে সরকারি ভাবে ম্যাচ বয়কটের কোনও ইমেল করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ফলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা বেড়েই চলেছে।