ICC T20 World Cup 2026

সেমিফাইনাল পাচ্ছে ইডেন, ম‍্যাচ শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় পাকিস্তানের! কলকাতায় বুধে নিউ জিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম‍্যাচ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় পাকিস্তানের। শনিবার পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীনই তারা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৮
Share:

সেমিফাইনাল হবে ইডেনে। — ফাইল চিত্র।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় পাকিস্তানের। শনিবার পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীনই তারা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল। এ দিন পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ২১২/৮ তুলেছিল। সেমিফাইনালে যেতে গেলে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ বা তার কম রানে আটকে রাখতে হত। সেই কাজে ব্যর্থ তারা। শ্রীলঙ্কা তুলল ২০৭/৬। মাত্র পাঁচ রানে জিতল পাকিস্তান। সুপার এইটে তিনটি ম্যাচেই হেরে গেল শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান ছিটকে যাওয়ার ফলে ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল হওয়া নিশ্চিত হয়ে গেল। আগামী বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউ জ়িল্যান্ডের মধ্যে হবে প্রথম সেমিফাইনাল।

Advertisement

টসে জিতে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনাকা প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। পরে ব্যাট করলে যেখানে পাকিস্তানের কাজ কঠিন, সেখানে শনাকার উল্টো সিদ্ধান্ত অবাক করেছিল। তবে এটাও বোঝা গিয়েছিল, পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠবে কি উঠবে না, সেটা নিয়ে তারা ভাবিত নয়। তারা ভাবছিল জয় দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করার কথা। পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা অদ্ভুত যুক্তি দিলেন টসের সময়। জানালেন, টস জিতলে তারাও আগে বল করতেন। যে দলকে ১৩.১ ওভারে রান তাড়া করতে হবে, সেই দলের অধিনায়ক কী ভাবে এ কথা বলতে পারেন তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে।

ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের মনোভাব দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা প্রথমে ব্যাট করার ইচ্ছা নিয়েই খেলতে নেমেছিল। প্রথম একাদশ থেকে এ দিন বাদ দেওয়া হয়েছিল সাইম আয়ুবকে। তাঁর জায়গায় সাহিবজ়াদা ফারহানের সঙ্গে ওপেন করতে পাঠানো হয় ফখর জ়‌মানকে। ফখর দীর্ঘ দিন ওপেনার হিসাবে খেলেছেন। ফলে তাঁর একেবারেই অসুবিধা হয়নি। দু’জনে মিলে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দেন।

Advertisement

প্রতি ওভারেই ১০-এর বেশি রান তুলতে থাকে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার কোনও বোলারই নিয়ন্ত্রিত বল করতে পারেননি। তাঁরা বার বার একই লেংথে বল রাখছিলেন। পাকিস্তানের দুই ওপেনার সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছিলেন। এর সঙ্গে যোগ হয় শ্রীলঙ্কার খারাপ ফিল্ডিং। সহজ সহজ শটও আটকাতে পারেনি তারা। অনায়াসে সেগুলি চার হয়ে যায়।

পাল্লেকেলে-সহ শ্রীলঙ্কার পিচগুলি মন্থর। সেখানে স্পিনারেরা সাহায্য পান। এ দিন সেটাও হয়নি। শ্রীলঙ্কার স্পিনারেরা নিষ্প্রভ ছিলেন। ১৬তম ওভারে গিয়ে প্রথম সাফল্য পায় শ্রীলঙ্কা। দুষ্মন্ত চামিরাকে মারতে গিয়ে আউট হন ফখর (৮৪)।

Advertisement

এর পর যা হল, তা কেবল পাকিস্তানের পক্ষেই সম্ভব। দুই ওপেনার যে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ পাকিস্তানের বাকি ব্যাটারেরা। অহেতুক চালিয়ে খেলতে গিয়ে প্রত্যেকে উইকেট খোয়ালেন। শতরান করে ফারহান আউট হওয়ার আগেই পাঁচটি উইকেট পড়ে গিয়েছিল। খাওয়াজা নাফে, শাদাব খান, মহম্মদ নওয়াজ, সলমন আঘা— কেউ খেলতে পারেননি। ফলে যে পাকিস্তানের প্রথম উইকেট পড়েছিল ১৭৬ রানে, তারাই পরবর্তী ৩৬ রানে আটটি উইকেট হারায়। কোনও একজন ক্রিজ়ে দাঁড়িয়ে গেলেই রানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। সে ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্যমাত্রা আরও বেড়ে যেত। পাকিস্তানের কাছেও সম্ভাবনা থাকত সেমিফাইনালে ওঠার।

ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কারও শুরুটা ভাল হয়নি। শুরুতেই ফিরে যান পাথুম নিসঙ্ক (৩)। শুরুটা ভাল করেও ফিরতে হয় কামিল মিশারাকে (২৬)। চরিত আসালঙ্ক (২৫) এবং পবন রত্নায়েকে (৫৮) মিলে দলকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে থাকেন। নিউ জ়িল্যান্ডের সমর্থকেরা মনেপ্রাণে চাইছিলেন যাতে শ্রীলঙ্কা ১৪৭ রান পার করে দেয়। কিন্তু সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে যেন ফিকে হচ্ছিল সম্ভাবনা। আসালঙ্ক, কামিন্দু মেন্ডিস (৩) এবং জানিত লিয়ানাগে (৫) পর পর ফিরে যান।

সেখান থেকেই খেলা ঘুরিয়ে দেন পবন এবং দাসুন শনাকা। মহম্মদ নওয়াজ়ের একটি ওভারে ১৪ রান এবং শাদাব খানের একটি ওভারে ১৫ রান খেলা ঘুরিয়ে দেয়। অবশেষে ১৬তম ওভারে উসমান তারিকের পঞ্চম বলে এক রান নেন শনাকা। শ্রীলঙ্কার স্কোরও ১৪৭ পেরিয়ে যায় এবং পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

৩৭ বলে ৫৮ রান করে পবন ফেরার পর দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শনাকা। শেষ দিকে পাকিস্তানের বোলারদের উপর দাপট দেখান তিনি। শেষ ওভারে জেতার জন্য ২৮ রান দরকার ছিল শ্রীলঙ্কা। শাহিনকে একটি চার এবং পর পর তিনটি ছয় মারেন শনাকা। শেষ বলে দরকার ছিল ৬ রান। তবে রান নিতে পারেননি শনাকা। তবু তাঁর লড়াই মন ছুঁয়ে যায় সকলের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement