পাকিস্তান ক্রিকেট দল। —ফাইল চিত্র।
চাপে পড়েছেন মাইক হেসন। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যর্থতার পর হেসনকে নিশানা করেছেন দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার। অন্য দিকে পাকিস্তানের টেস্ট দলেও নতুন কোচ নিয়োগ করতে চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
এর আগে পাকিস্তানের দুই কোচ জেসন গিলেসপি ও গ্যারি কার্স্টেন পদত্যাগ করার সময় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু হেসনের বিষয়টি আলাদা।
‘জিয়ো নিউজ়’ জানিয়েছে, পাক বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিশ্বকাপের দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার। তাঁরা হেসনের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন। তাঁধের দাবি, দল নির্বাচন, ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করা থেকে পরিকল্পনা, সব হেসন নিজেই করতেন। অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গেও আলোচনা করতেন না তিনি। তার প্রভাব দলের খেলায় পড়েছে।
বিশ্বকাপের পর নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আলিম দার। জানা গিয়েছে, বাবর আজ়ম, উসমান খানের মতো কয়েক জন ক্রিকেটারকে দলে নিতে চাননি তিনি। কিন্তু হেসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়েছে। একজন কোচের এই ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন দার। সেই কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে রিপোর্টও জমা পড়েছে।
তবে এখনই হেসনকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সম্ভাবনা কম। কারণ, তাঁর সঙ্গে এখনও এক বছরের চুক্তি রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। পাশাপাশি হেসন দায়িত্বে থাকলে দলে স্থিতাবস্থা থাকছে বলেও মনে করছেন নকভিরা। সেই কারণেই তাঁকে হয়তো এখনই সরানো হবে না। কিন্তু সতর্ক করা হবে।
পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচ হতে পারেন সরফরাজ় আহমেদ। দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তিনি। বর্তমানে পাকিস্তান শাহিন্সের দায়িত্বে তিনি। গত বছর অক্টোবরে ঘরের মাটিতে পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ়ের পর টেস্ট দলের কোচের পদ ছাড়েন আজ়হার মাহমুদ। ফলে সেই পদ ফাঁকা রয়েছে। সেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সরফরাজ়কে।
পাকিস্তানের হয়ে ৫৪ টেস্ট, ১১৭ এক দিন ও ৬১ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন সরফরাজ়। পাকিস্তানের শেষ আইসিসি ট্রফিও তাঁর অধিনায়কত্বেই এসেছে। ২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে সেই ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। ফলে সরফরাজ়কে দায়িত্ব দিতে চাইছেন নকভিরা।
বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ৫০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে বলে খবর। প্রয়োজনে সেই টাকা একাই দিয়ে দিতে তৈরি আহমেদ শেহজ়াদ। তবে একটি শর্ত রয়েছে তাঁর। একটি অনুষ্ঠানে শেহজ়াদ বলেন, “আমি দিয়ে দেব ৫০ লক্ষ টাকা। যদি তাতে দেশের ক্রিকেটের উন্নতি হয় তা হলে আমি টাকা দিয়ে দেব। সব খেলোয়াড়ের হয়ে টাকা দিয়ে দেব। কত টাকা লাগবে? কিন্তু তার বদলে দেশের ক্রিকেটের উন্নতি দরকার।”
শেহজ়াদের মতে, কাউকে জরিমানা করে দেশের ক্রিকেটের উন্নতি হবে না। এই দলের কাছে আর কী আশা করা যায়? শেহজ়াদ বলেন, “জরিমানা করে কি ক্রিকেটের উন্নতি হবে? হবে না। আমাদের ক্রিকেটের উন্নতি করতে হবে। তার জন্য ভাল দল তৈরি করতে হবে। এই দল এর থেকে ভাল খেলতে পারবে না। তা হলে জরিমানা করে কী হবে? ওদের তো বার বার জরিমানা করতে হবে। তাতে ক্রিকেটের লাভ হবে না।”