অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।
সিবিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়া হয়নি বৈভব সূর্যবংশীর। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে ফেরার পর পরীক্ষার ফর্মপূরণ করা হয়ে গিয়েছিল তার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরীক্ষায় না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। ফলে তাকে ‘অনুপস্থিত’ দেখিয়ে দিয়েছেন বৈভবের পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রধানশিক্ষক। কেন বৈভব পরীক্ষা দিল না তার আসল কারণ জানালেন তিনি।
বিহারের তাজপুরের বৈভব ‘মডেস্টি স্কুল তাজপুর’-এর ছাত্র। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ তার পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। মডেস্টি স্কুল তাজপুরের ডিরেক্টর আদর্শ কুমার পিন্টু জানান, বৈভবের পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করা হয়েছিল এবং অ্যাডমিট কার্ডও দেওয়া হয়েছিল। তার পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছিল পোদ্দার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। কিন্তু বৈভবের বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশীর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সে এই বছর পরীক্ষায় বসবে না।
বৈভবের পরীক্ষার বিষয়ে পোদ্দার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধানশিক্ষক এনকে সিংহ বলেন, “বৈভব সূর্যবংশী পরীক্ষা দিতে আসেনি। সিবিএসই বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ পরীক্ষা দিতে না এলে তাকে অনুপস্থিত দেখাতে হয়। বৈভবকেও অনুপস্থিত দেখাতে হয়েছে। ওর বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বলেছেন, সামনে আইপিএল থাকায় আপাতত তার প্রস্তুতি নিচ্ছে বৈভব। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করতে হচ্ছে। তাই ও এ বার পরীক্ষায় বসতে পারছে না। আশা করছি, পরের বার ও পরীক্ষা দেবে।”
আগে জানা গিয়েছিল, ক্রিকেটীয় ব্যস্ততার কারণে বৈভবকে প্রায় গোটা বছর পড়াশোনা ও স্কুল থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এর ফলে সে বোর্ড পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিতে পারেনি। এ বার জানা গেল, আইপিএলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১৪ বছরের ক্রিকেটার। গত বার অভিষেকে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলেই চমক দিয়েছিল বৈভব। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে শতরান করেছিল। এ বার সঞ্জু স্যামসন না থাকায় পুরো মরসুম খেলার সুযোগ রয়েছে তার। সেই কারণেই হয়তো আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে বৈভব।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বৈভব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে প্রতিযোগিতা শেষ করেছে। সাত ম্যাচে ৬২.৭১ গড়ে এবং ১৬৯.৪৯ স্ট্রাইক রেটে ৪৩৯ রান করেছে, যার মধ্যে একটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরান রয়েছে। তার সর্বোচ্চ স্কোর ১৭৫। ফাইনালে এই রান করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছে সে।