IPL 2026

কোহলির বেঙ্গালুরুর সামনে দাঁড়াতেই পারল না শুভমনের গুজরাত, একপেশে জয়ে আইপিএলের ফাইনালে গত বারের চ্যাম্পিয়নেরা

জমল না আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার। গত বারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে লড়াই করতেই পারল না গুজরাত টাইটান্স। একপেশে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালে বিরাট কোহলিরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ২৩:৪৬
Share:

বিরাট কোহলির উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।

প্রথম কোয়ালিফায়ারে জিতে আইপিএলের ফাইনালে উঠে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। মঙ্গলবার গত বারের চ্যাম্পিয়নেরা গুজরাত টাইটান্সকে হারাল ৯২ রানে। প্রথমে ব্যাট করে বিরাট কোহলিরা করেন ৫ উইকেটে ২৫৪ রান। জবাবে শুভমন গিলের দল করল ১৯.৩ ওভারে ১৬২ রান। গুজরাতের ব্যাটিং বিপর্যয়ে একপেশে জয় ছিনিয়ে নিল বেঙ্গালুরু।

Advertisement

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন গুজরাত অধিনায়ক শুভমন। ধরমশালার ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি বেঙ্গালুরুর ব্যাটারেরা। ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক রজত পটীদার। চার নম্বরে নেমে ৩৩ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন তিনি। মারলেন ৫টি চার এবং ৯টি ছক্কা। তাঁর ইনিংসের সুবাদেই গুজরাতকে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেয় বেঙ্গালুরু।

ওপেন করতে নেমে ভাল খেললেন কোহলিও। ২৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন ৫টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে। তবে রান পেলেন না বেঙ্কটেশ আয়ার। ৭ বলে ১৯ রান করে আউট হয়ে যান আরসিবি ওপেনার। তিন নম্বরে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন দেবদত্ত পডিক্কলও। ৫টি চারের সাহায্যে ১৯ বলে ৩০ রান তাঁর। দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছোতে সাহায্য করেন ক্রুণাল পাণ্ড্যও। পাঁচ নম্বরে নেমে তিনি করেন ২৮ বলে ৪৩ রান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫টি চার এবং ২টি ছক্কা। শেষে ৫ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন জিতেশ শর্মা। একটি করে চার এবং ছয় মারেন তিনি।

Advertisement

গুজরাতের কোনও বোলারই বেঙ্গালুরুর ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করতে পারেননি। সফলতম জেসন হোল্ডার ৩৯ রানে ২ উইকেট নিলেন। ৫৪ রানে ২ উইকেট কাগিসো রাবাডার। ৫৩ রানে ১ উইকেট প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের। ৪৬ রান খরচ করেও উইকেট পেলেন না মহম্মদ সিরাজ। ৩ ওভারে ২৯ রান দিয়ে উইকেটহীন থাকেন রশিদ খানও।

জয়ের জন্য ২৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ধারাবাহিক ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে গুজরাত। সাই সুদর্শন ভাল শুরু করেছিলেন। আউট হলেন দুর্ভাগ্যজনক ভাবে। জেকব ডাফিকে চার মেরেও আউট হতে বল তাঁকে। কারণ সুদর্শনের হাত থেকে ব্যাট ছিটকে গিয়ে উইকেট ভেঙে দেয়। হিট উইকেট হয়ে যান এ বারের আইপিএলের অন্যতম সফল ব্যাটার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে ভরসা দিতে পারলেন না শুভমন (২), নিশান্ত সিধু (৫), হোল্ডারেরা (০)। তিন নম্বরে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন জস বাটলার। কিন্তু তিনি বড় রান পেলেন না। ১১ বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে গেলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৪টি চার এবং ২টি ছয়।

২ উইকেটে ৫১ রান থেকে ৫ উইকেটে ৫১ হয়ে যাওয়ার পর গুজরাতের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। পাওয়ার প্লের মধ্যেই এক রকম আত্মসমর্পণ করেন শুভমনেরা। এর পর চাপের মুখে ওয়াশিংটন সুন্দর, রশিদ খানেরা ব্যতিক্রমী কিছু করতে পারেননি। ওয়াশিংটন (৮), রশিদ (৮) দু’জনেই দাঁড়াতে পারেননি ২২ গজে। বিশেষ কিছু করতে পারেননি রাহুল তেওয়াটিয়াও। তিনি ৪৩ বলে ৬৮ রান করেন। ৮টি চার এবং ৪টি ছয় মারেন। তাঁর জন্যই গুজরাত ১৫০ রানের গণ্ডি পার করে। রাবাডা (৯), সিরাজ (৫) এবং প্রসিদ্ধেরা (৬) নেমেছিলেন ক্রিকেটের নিয়মরক্ষার্থে।

বেঙ্গালুরুর সফলতম বোলার জেকব ডাফির ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিলেন। ২৪ রানে ২ উইকেট রাসিখ সালামের। ২৮ রানে ২ উইকেট ভুবনেশ্বর কুমারের। জশ হেজ়লউড ১ উইকেট নিলেন ৩৯ রান দিয়ে। ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট ক্রুণালের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement