চিন্নাস্বামীতে কোহলিদের ম্যাচের একটি মুহূর্ত। — ফাইল চিত্র।
কয়েক মাস অনিশ্চয়তার পর অবশেষে স্বস্তি। আইপিএলে ঘরের মাঠেই খেলতে পারবেন বিরাট কোহলিরা। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেই আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিয়ে দিল কর্নাটক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শনিবার এ কথা জানিয়েছে কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা (কেএসসিএ)।
সরকারের মনোনীত টাস্ক ফোর্স কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়াম খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পর সেই রিপোর্ট জানানো হয়েছে, ফলাফল সন্তোষজনক। এ দিন কেএসসিএ মুখপাত্র বিনয় মৃত্যুঞ্জয় বলেন, “চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে কর্নাটক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আমরা আনন্দিত।”
সরকারের কমিটি যে মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে, তা বজায় রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী রাজ্য সংস্থা। বিনয় বলেছেন, “সরকারের বেঁধে দেওয়া কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি মানতে হবে আমাদের। সেই কাজ করে ফেলার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
গত বছর ট্রফি নিয়ে উৎসব করার সময় ১১ জনের মৃত্যুর পর থেকে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সব ধরনের ক্রিকেট ম্যাচ বন্ধ। সম্প্রতি কেএসসিএ সভাপতি হওয়ার পর থেকে বেঙ্কটেশ প্রসাদ চিন্নাস্বামীতে ক্রিকেট ফেরানোর ব্যাপারে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলছিলেন। পর্যবেক্ষক কমিটির সামনে একটা বিস্তারিত পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা, মানুষের সুরক্ষা এবং দর্শক নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পরিকল্পনা সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তা দেখে খুশি সরকার।
চিন্নাস্বামীতে ম্যাচ আয়োজন করতে মরিয়া আরসিবি-ও। শুক্রবার একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছিল, গোটা স্টেডিয়ামে ৩০০-৩৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ক্যামেরা বসানো হবে। এককালীন যে সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ হবে তার পুরোটাই তারা দেবে। এই ক্যামেরা বসানো হলে পুলিশ এবং কর্নাটক সংস্থা সহজেই দর্শকদের গতিবিধি বুঝতে পারবে, সুশৃঙ্খল লাইন সাজাতে পারবে এবং কেউ অনুমতি ছাড়া স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাইছেন কি না তা বুঝতে পারবে। সঙ্গে সঙ্গে তথ্য চলে আসবে সার্ভারের কাছে।
একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছে আরসিবি। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং তথ্য নির্ভরতার সাহায্যে সাফল্যের সঙ্গে দর্শকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অতীত ইতিহাস রয়েছে ওই সংস্থার। তারা বিহার পুলিশ এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করেছে। অতীতে উত্তরপ্রদেশের জেল এবং প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের ৬০টি জায়গায় ৩০০০-এরও বেশি ক্যামেরা বসিয়েছে তারা। এর ফলে সুরক্ষাভঙ্গ, হিংসা, অতিরিক্ত মানুষের হাজির হওয়া এবং বিনা অনুমতিতে প্রবেশের মতো ঘটনা আটকানো গিয়েছে।
তবে এই ক্যামেরা বসানো হবে কি না, তা নিয়ে কেএসসিএ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।