ক্রুণাল পাণ্ড্য। —ফাইল চিত্র।
ভাই হার্দিক পাণ্ড্যের দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে গুরুতর চোট পেয়েছেন ক্রুণাল পাণ্ড্য। পায়ের পেশিতে টান ধরা ছাড়াও তাঁর পেটে একাধিক বার বলের আঘাত লেগেছে। যন্ত্রণা সহ্য করে ৪৬ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ক্রুণাল জয় এনে দিয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে।
সমাজমাধ্যমে পেটের চোটের ছবি পোস্ট করেছেন ক্রুণাল। তাতে দেখা যাচ্ছে, নাভির উপরে বাঁ দিকের বড় অংশে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। অন্তত দু’বার বলের আঘাত লেগেছে ৩৫ বছরের অলরাউন্ডারের পেটে। ছবির সঙ্গে ক্রুণাল লিখেছেন, ‘‘কিছু ক্ষতচিহ্ন প্রমাণ করে একটা লড়াই কতটা সার্থক ছিল।’’
রবিবার বেঙ্গালুরুর ইনিংসের ১৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হন ক্রুণাল। তার আগের ওভারেই ক্রুণালের পায়ের পেশিতে টান ধরে। মাঠে ঢুকে শুশ্রূষা করেন আরসিবির চিকিৎসকেরা। উঠে দাঁড়ালেও দৌড়তে পারছিলেন না ক্রুণাল। পরের ওভারে দৌড়ে রান নিতে পারছিলেন না। এক পায়ের উপর ভর করেই বড় শট খেলতে শুরু করেন। আল্লা গজনফরকে দু’টি ছয় মারেন। তৃতীয় বার বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। তিলক বর্মা ক্যাচ ধরেও বল ধরে রাখতে পারেননি। উপরে ছুড়ে দিয়ে বাউন্ডারির দড়ি পেরিয়ে যান। ভেতরে এসে ক্যাচ ধরেন। চোট নিয়েও ক্রুণালের লড়াইয়ের প্রশংসা করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞেরা। রবিবার রাতে অবশ্য বোঝা যায়নি শুধু পায়ের পেশির টান নয়, পেটেও গুরুতর আঘাত নিয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। ক্রুণাল অবশ্য জানাননি, কার বল খেলতে গিয়ে পেটে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ইনিংস নিয়ে ক্রুণাল বলেছেন, ‘‘আমি হারতে ঘৃণা করি। হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চাই। হার মেনে নেওয়ার এবং আরও ভাল পারফর্ম করার উপায় বের করার মানসিক শক্তি আমার রয়েছে। ক্রিকেট খেললে বুঝবেন, ভাল দিনের চেয়ে খারাপ দিন বেশি আসে। যা স্বাভাবিক ভাবেই আপনাকে খেলার মাঠে এবং জীবনে বিনয়ী করে তোলে।’’
আরসিবি অলরাউন্ডার আরও বলেছেন, ‘‘এই পারফরম্যান্সের নেপথ্যে আমার স্ত্রীর কৃতিত্ব কম নয়। আমার পাশে শক্তির স্তম্ভ হয়ে থেকেছে। মায়ের কথাও বলব। বাবার কথাও খুব মনে পড়ে। বাবা মারা গিয়েছেন। আমার সাফল্য দেখলে বাবা খুব খুশি হতেন।’’
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জিতে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বেঙ্গালুরু। এ বারের আইপিএলে মুম্বইকে দু’টি ম্যাচেই হারাল বেঙ্গালুরু। হার্দিকের দলের বিরুদ্ধে দু’ম্যাচেই ভাল পারফর্ম করলেন ক্রুণাল। যদিও চোটের জন্য রবিবার খেলেননি হার্দিক। মুম্বইকে নেতৃত্ব দেন সূর্যকুমার যাদব।