হার্দিক পাণ্ড্য। —ফাইল চিত্র।
হার্দিক পাণ্ড্যের সঙ্গে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সম্পর্ক কি শেষ? রবিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে এ বারের আইপিএলের প্লে-অফের দৌড় থেকে বাদ পড়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তার পরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তার নেপথ্যে রয়েছেন হার্দিকই।
রবিবারের ম্যাচের পর দেখা যায়, ইনস্টাগ্রামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে আনফলো করেছেন হার্দিক। আগে ইনস্টাগ্রামে তিনি ১৫১টি অ্যাকাউন্ট ফলো করতেন। কিন্তু দলের দৌড় শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, ১৫০টি অ্যাকাউন্ড ফলো করছেন তিনি। তালিকায় নেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।
এই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। জল্পনা শুরু হয় হার্দিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এ-ও শোনা যায়, হার্দিককে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে মুম্বই। সেই কারণেই খেলছেন না তিনি।
যদিও কিছু ক্ষণ পরেই আবার হার্দিকের অ্যাকাউন্টে দেখা যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নাম। আবার ১৫১টি অ্যাকাউন্ট ফলো করতে শুরু করেন তিনি। তবে কি প্রযুক্তিগত সমস্যায় বা ভুল করে হার্দিক আনফলো করেছিলেন মুম্বইকে? না কি মেজাজ হারিয়ে এই কাজ করেছিলেন তিনি? এখনও তার জবাব পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে হার্দিক বা মুম্বই দলের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
তবে দলের অন্দরের পরিবেশ যে ভাল নয়, তা গত দু’বছর ও এই মরসুমে তাদের পারফরম্যান্স দেখে বোঝা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মাকে সরিয়ে হার্দিককে অধিনায়ক করা হয়েছিল। তিন বছরে দলকে সাফল্য দিতে পারেননি তিনি। দলের অন্দরে বিভাজনের খবর এসেছে। হার্দিক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দিয়েছেন। কিন্তু যে দলে রোহিত, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব, জসপ্রীত বুমরাহেরা খেলেন, সে দলের এই পারফরম্যান্সের কোনও ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞেরাও খুঁজে পাচ্ছেন না।
গত দু’টি ম্যাচ খেলেননি হার্দিক। জানা গিয়েছে, পিঠের ব্যথায় কাবু তিনি। সেটাই কি সত্যি? জল্পনা শোনা যাচ্ছে, হার্দিককে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুম্বইয়ের প্রধান কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে দলের চোটের সমস্যা নিয়ে মুখ খুলেছেন। কারও নাম না করলেও তাঁর দাবি, চোটের কারণেই এই খারাপ পারফরম্যান্স।
বেঙ্গালুরুর কাছে হারের পর জয়বর্ধনে বলেন, “খুব হতাশ লাগছে। আমাদের কাছে সুযোগ ছিল। কিন্তু ভাল খেলতে পারিনি। ধারাবাহিকতা দেখাতে পারিনি। কেন এ রকম হল, সেটা এখনই বলা কঠিন। একটু খতিয়ে দেখতে হবে। একটা কথা বলতে পারি, আমরা ভাল খেলতে পারিনি।” তার পরেই চোটের প্রসঙ্গ টানেন জয়বর্ধনে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতি ম্যাচে দলে বদল করতে হয়েছে। তার একমাত্র কারণ চোট। এত ক্রিকেটার চোট পেয়েছে, কী বলব। বাধ্য হয়ে তাদের বদল করেছি। পরিকল্পনার কারণে বেশি বদল করিনি। বেশির ভাগ বদল হয়েছে চোটের কারণে।”