সঞ্জু স্যামসন। ছবি: রয়টার্স।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। ভারতের বিশ্বজয়ের অন্যতম নায়ক। অথচ আইপিএলের প্রথম তিনটি ম্যাচে রান পাননি সঞ্জু স্যামসন। শনিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ফর্মে ফিরেছেন চেন্নাই সুপার কিংসের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পর সঞ্জু বলেছেন, ৫০ মিনিটের একটি বৈঠকই চেন্নাইকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়েছে।
আইপিএলের প্রথম তিন ম্যাচে সঞ্জু করেন যথাক্রমে ৬,৭ এবং ৯ রান। তিনটি ম্যাচেই হারে চেন্নাইও। নিজে রান পাওয়ায় এবং দল জেতায় খুশি সঞ্জু। শতরান করার পর কেরলের ৩১ বছরের ক্রিকেটার ‘পদয়াপ্পা’ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। রজনীকান্তের জনপ্রিয় সিনেমার অনুকরণে সম্মান জানিয়েছেন কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংকে। ম্যাচের পর তা নিয়ে সঞ্জু বলেছেন, ‘‘ওটা কোচ ফ্লেমিংয়ের জন্য। আমি জানি একটা ফ্র্যাঞ্চাইজ়িকে নেতৃত্ব দেওয়া কতটা কঠিন। জানি এই ব্যাপারটা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সে জন্যই শতরানটা আমাদের কোচকে উৎসর্গ করেছি।’’
সঞ্জু স্বীকার করে নিয়েছেন শতরানের ইনিংস তাঁকে স্বস্তি দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘দল আমার উপর যে আস্থা রেখেছে, সেটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটা বড় ব্যাপার। নিলামের আগেই চেন্নাই আমাকে দলে নিয়েছিল। এমন আস্থা দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়। আমি দলকে সঠিক পথে ফেরাতে চেয়েছিলাম। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সঙ্গে কাজ শুরু করা সহজ নয়। তবে এখানে আমার কঠিন কিছু মনে হয়নি। এই দলের সকলে খুব আন্তরিক, অমায়িক এবং শান্ত। প্রত্যেকের কাছেই ভীষণ সহযোগিতা পেয়েছি।’’
টানা তিন ম্যাচের ব্যর্থতার পর কী ভাবে এমন প্রত্যাবর্তন সম্ভব হল? সঞ্জু বলেছেন, ‘‘পর পর তিনটি ম্যাচ হারার পর দিল্লি ম্যাচের আগে আমাদের একটা বৈঠক হয়েছিল। ৫০ সেকেন্ডের বৈঠক। যেটা আমার বেশ ভাল লেগেছে। আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও মানানসই।’’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার নিজের ব্যর্থতা নিয়ে বলেছেন, ‘‘আমি বহু বার বহু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি। তবে কখনও আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়নি। মনঃসংযোগ নষ্ট হয়নি। আমি জানি কী করতে পারি। সব সময় ক্রিকেটের প্রাথমিক এবং সাধারণ বিষয়গুলো মনে রাখার চেষ্টা করি। এ বারও দলের সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে কয়েকটা ভাল সেশন কাটিয়েছি।’’
দল জয়ে ফেরায় খুশি সঞ্জু। তাঁর মতে, সময় থাকতেই চেন্নাই ছন্দে ফিরেছে। ছন্দটা ধরে রাখতে চান। দলের আস্থার মর্যাদা দিতে চান।