উইকেট নেওয়ার পর প্রফুলের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।
সোমবারের আগে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের কয়েক জন বাদে কেউই চিনতেন না তাঁকে। আইপিএলের জগতে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অপরিচিত। নিলামে ৩০ লক্ষ টাকা দামে বিক্রি হওয়া ক্রিকেটারকে যে কেউ মাথায় রাখবে না সেটাই স্বাভাবিক। সোমবার সব হিসাব বদলে দিলেন প্রফুল হিঙ্গে। আইপিএলের অভিষেকে প্রথম ওভারেই তিনটি উইকেট, ম্যাচে চারটি উইকেট! স্বপ্নের অভিষেক একেই বলে। আইপিএলের অভিষেকে যে এমন কাণ্ড করবেন, এই স্বপ্ন আগে থেকেই না কি দেখে রেখেছিলেন প্রফুল। ম্যাচের পর সে কথাই বলেছেন।
নাগপুরের ক্রিকেটার প্রফুলের কথায়, “এটা আগেই ভেবে রেখেছিলাম। গত বছর কোথাও একটা লেখা ছিল যে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামলে নিশ্চিত ভাবে চার-পাঁচ উইকেট নেব। পাওয়ার প্লে-তে যতটা সম্ভব বিপক্ষকে শাসন করতে চেয়েছিলাম। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। বাকিদের কথা জানি না। আমি করি।”
প্রফুল কে, কোথা থেকে উঠে এসেছেন এ নিয়ে ম্যাচের মাঝেই শুরু হয়ে যায় আলোচনা। সঞ্চালক মুরলী কার্তিকই জানিয়েছেন, টেনিস বল ক্রিকেট খেলে উত্থান প্রফুলের। জোরে বোলার নিজে বলেছেন, “আমি ১৩ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা শুরু করি। তখন চামড়ার বলে ক্রিকেটের ব্যাপারে জানতামই না। ওই বয়সেই আমি বাবাকে বলেছিলাম যে, কোনও একটা ক্লাবে যোগ দিতে চাই। বারদুয়েক বাবা বারণ করেছিল। বলেছিল আমি খুব ছোট। তার পর এক দিন রাজি হয়ে গিয়ে একটা ক্লাবে ভর্তি করায়। সেখান থেকেই সব শুরু হয়। তার পর থেকে নিয়মিত খেলা শুরু করি। এই জায়গায় আজ দাঁড়িয়ে খুব ভাল লাগছে। এই পুরস্কার পরিবারকে উৎসর্গ করতে চাই। আমার জন্য অনেক আত্মত্যাগ করেছে। ওদের কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগই আমাকে সাফল্য এনে দিয়েছে।”
এ দিন দ্বিতীয় বলেই বৈভব সূর্যবংশীকে করেন আউট করেন প্রফুল। সেটাকেই সেরা উইকেট বেছেছেন। বলেছেন, “বৈভব ছন্দে ছিল। তাই প্রথম উইকেটটাই সেরা। দু’-একজনকে বলেওছিলাম যে, প্রথম বলেই বৈভবকে বাউন্সার বা কোনও কঠিন বল করব। প্রথম বলেই ওর উইকেট নিতে চেয়েছিলাম। আমাদের বোলিং কোচ বরুণ ভাইও (অ্যারন) অনেক সাহায্য করেছেন। যাঁরাই আমার পাশে থেকেছেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ।”
অতীতে চোট-আঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে প্রফুলকে। এখন সে সব সারিয়ে সুস্থ তিনি। বলেছেন, “এখন পুরো ফিট। এমআরএফ অ্যাকাডেমিতে থাকার সময় নবীন স্যর, ফিজ়িয়ো আমার খেয়াল রেখেছিলাম। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর পিছনে ওঁদেরও হাত রয়েছে।”