(বাঁ দিক থেকে) সুনীল গাওস্কর, কপিল দেব, ইমরান খান এবং গ্রেগ চ্যাপেল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
জেলবন্দি অসুস্থ ইমরান খানকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার দাবি জানিয়ে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছেন ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক। মূল উদ্যোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেলের। তিনি জানিয়েছেন, সুনীল গাওস্কর এবং কপিল দেবকে যখন তিনি এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। ভারতের দুই প্রাক্তন অধিনায়কের সক্রিয়তার কথা জানিয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল।
ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে ক্রিকেটমহল। বিভিন্ন দেশের ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক এবং ক্রিকেটার ইমরানের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লিখে আর্জি জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বিশ্বজয়ী অধিনায়কের সঙ্গে মানবিক আচরণের দাবিও জানান তাঁরা।
ওই ১৪ জনের অন্যতম গ্রেগ। সে প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আপনারা জানেন, ইমরানের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। প্রায়ই কথা হত আমাদের। ও জেলে যাওয়ার পর আর কোনও যোগাযোগ নেই। ওর খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর মাধ্যমে কিছু খবর পাই। তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। শুনেছি, ইমরানের পরিবারের কেউ জেলে ওর সঙ্গে দেখা করতে পারেন না।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে খুব উদ্বেগে ছিলাম। ভাবতাম, ওর সুরাহার জন্য কী করা যেতে পারে। এক বন্ধুর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলাম। সেই আমাকে বলে, ‘তোমার মতো প্রাক্তন অধিনায়কেরা মিলে কেন একটা প্রতিবাদ করছ না। তা হলে হয়তো একটু ভাল হতে পারে। অন্যদের সঙ্গে কথা বল।’’’
গ্রেগ জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ভারতীয় বন্ধুদের বলা ঠিক হবে কি না বুঝতে পারছিলেন না। গ্রেগ বলেছেন, ‘‘ইমরান শুধু প্রাক্তন ক্রিকেটার নন, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীও। ক্ষমতায় থাকার সময় ইমরানের রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা ভারতবিরোধী ছিল। যদিও ও ক্রিকেটার এবং রাজনীতিবিদ হিসাবে বহু বার ভারতে গিয়েছে। ভারতে ও দারুণ জনপ্রিয়। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ইমরানের ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভাল।’’
তিনি আরও বলেছেন, ‘‘সব ভেবে গাওস্কর আর কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। দু’জনেই সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায়। আমার তো মনে হয় সকলের চেয়ে ওরা দু’জনই বেশি সক্রিয় ছিল। আমাদের চেয়ে ওদের উপর চাপও নিশ্চই বেশি ছিল। তা-ও কেউ আপত্তি করেনি। গাওস্করের মন্তব্য তো সকলে দেখেছেন। ইমরানকে দীর্ঘ দিনের বন্ধু বলেছে।’’
আগে এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে গাওস্কর বলেছিলেন, ‘‘ইমরানের যখন ১৭ বছর বয়স, তখন থেকে ওকে চিনি। ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ় খেলতে গিয়েছিলাম আমরা। ওভালে টেস্ট সিরিজ় জিতেছিলাম। ইমরান তখন ওখানে ছিল। উরষ্টারশায়ারের বিদেশি ক্রিকেটার হিসাবে খেলার চেষ্টা করছিল। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক পার্থক্য যা-ই থাক, ইমরানের মানবিক ব্যবহার পাওয়া উচিত। উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্য ওর।’’
ইমরানের সমর্থনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফকে লেখা চিঠিতে গ্রেগ, গাওস্কর, কপিল ছাড়াও সই করেছিলেন মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয় এবং জন রাইট।