IPL 2026

কোহলির নজির ছুঁয়ে দিল্লিকে একা হারিয়ে দিলেন অভিষেক! হায়দরাবাদের কাছে ৪৭ রানে হারলেন অক্ষরেরা

দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। নেট রান রেটে ঈশান কিশনেরা টপকে গেলেন রাজস্থান রয়্যালসকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২৫
Share:

অভিষেক শর্মা। ছবি: পিটিআই।

হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের প্রথম ব্যাট যে দিন রান পাবেন, সে দিন প্রতিপক্ষ দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হবে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ধারনা যে অমূলক নয়, তা আরও এক বার প্রমাণ হয়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে। অক্ষর পটেলের দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলল অভিষেক শর্মার ব্যাট। ১৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। অভিষেকের শতরানের সুবাদে হায়দরাবাদ তোলে ২ উইকেটে ২৪২ রান। জবাবে দিল্লির ইনিংস শেষ হল ৯ উইকেটে ১৯৫ রানে। হায়দরাবাদ জিতল ৪৭ রানে।

Advertisement

টস জিতে দিল্লি অধিনায়ক হায়দরাবাদকে ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ করে দেন। সেই সুযোগ যতটা সম্ভব কাজে লাগায় ঈশান কিশনের দল। অভিষেক এবং ট্রেভিস হেডের জুটি শুরু করে চেনা আগ্রাসী মেজাজে। অস্ট্রেলীয় ব্যাটার ২৬ বলে ৩৭ রান করে আউট হলেও ২২ গজের এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন অভিষেক। হেডের ব্যাট থেকে আসে ২টি চার এবং ২টি ছয়। তাঁদের ৮.৫ ওভারের ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৯৭ রান।

হেড আউট হওয়ার পর অভিষেকের সঙ্গে জুটি তৈরি করেন অধিনায়ক ঈশান। রান তোলার গতি আরও বাড়িয়ে নেয় হায়দরাবাদ। দুই তরুণ ব্যাটারের সামনে দিল্লির বোলারদের দিশাহীন দেখিয়েছে। কুলদীপ যাদব, অক্ষর, লুঙ্গি এনগিডিদের নিয়ে একরকম ছেড়ে খেলা করেন হায়দরাবাদের অধিনায়ক এবং সহ-অধিনায়ক। প্রতি ওভারে ১১-১২ রান করে তোলেন তাঁরা। একটা সময় অভিষেককে বেশি বল খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন ঈশান। অধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অকুতোভয় অভিষেক টানা দু’টি ছয় মেরে ৯২ থেকে ১০৪ রানে পৌঁছোন। ৪৭ বলে শতরান পূর্ণ করার পরও চালিয়ে খেলেছেন। তাঁরই স্ট্রেট ড্রাইভ নীতীশ রানার হাতে লেগে উইকেট ভেঙে দেয়। সে সময় পপিং ক্রিজ়ের বাইরে ছিলেন ঈশান। রান আউট হয়ে যান। তিনি করেন ১৩ বলে ২৫। ২টি চার এবং ১টি ছক্কা মারেন ঈশান।

Advertisement

ঈশান আউট হওয়ার পর দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান অভিষেক। সময় যত এগিয়েছে অভিষেককে তত অপ্রতিরোধ্য মনে হয়েছে। তাঁর ৬৮ বলে ১৩৫ রানের ইনিংসে রয়েছে ১০টি চার এবং ১০টি ছয়। আইপিএলে দ্বিতীয় শতরান অভিষেকের। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর নবম শতরান। ভারতীয়দের মধ্যে ২০ ওভারের ক্রিকেটে বিরাট কোহলির সবচেয়ে বেশি শতরানের নজির স্পর্শ করেন অভিষেক। হেনরিখ ক্লাসেন নেমেও অভিষেককে বেশি বল খেলার সুযোগ দেন। শেষ দিকে তিনিও আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। ক্লাসেন ৩টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে করেন ১৩ বলে অপরাজিত ৩৭।

দিল্লির বোলারদের মধ্যে কাউকেই এ দিন আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। নীতীশ ৫৫ রান দিয়েও ৪ ওভারে উইকেট পাননি। এনগিডি ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে উইকেটহীন। মুকেশ কুমার ৫৩ রান খরচ করেছেন ৪ ওভারে। অক্ষরের ২ ওভারে ২৩ রানে ১ উইকেট। কুলদীপ ২ ওভারে দিয়েছেন ৩০ রান। টি নটরাজন ৪ ওভারে ৪০ রান দিলেন।

Advertisement

জয়ের জন্য ২৪৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি দিল্লির। ওপেনার পাথুম নিশঙ্ক (৮) আউট হয়ে যান তাঁর জাতীয় দলের সতীর্থ দিলশান মধুশঙ্কের বলে। ২১ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দিল্লির ইনিংসের হাল ধরেন লোকেশ রাহুল এবং নীতীশ। রাহুল করলেন ২৩ বলে ৩৭। মারলেন ১টি চার এবং ৩টি ছয়। বেশি আগ্রাসী ছিলেন কেকেআরের প্রাক্তন অধিনায়ক। নীতীশের ব্যাট থেকে এল ৩০ বলে ৫৭ রানের ইনিংস। ৭টি চার এবং ৩টি ছয় মারেন তিনি। তাঁদের জুটিতে ওঠে ৮৬ রান। তবে ডেভিড মিলার (০) প্রথম বলেই আউট হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেন। সমীর রিজ়ভি এবং ট্রিস্টান স্টাবস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্য ক্রমশ বাড়তে থাকে। ফলে চাপে পড়ে যায় দিল্লির ইনিংস।

২২ গজে থিতু হওয়ার পর হাত খোলেন দিল্লির দুই ব্যাটার। ততক্ষণে ওভার প্রতি রানের লক্ষ্য ১৮ ছাড়িয়ে যায়। লাভ বিশেষ হয়নি। অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে এশান মালিঙ্গার অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দেন স্টাবস। তিনি করেন ১৬ বলে ২৭। মারেন ৩টি চার এবং ১টি ছয়। ভরসা দিতে পারেননি আশুতোষ শর্মাও (১৪)। ব্যর্থ অক্ষরও (২)। রিজ়ভি করলেন ২৮ বলে ৪১।

হায়দরাবাদের সফলতম বোলার মালিঙ্গা ৩২ রানে ৪ উইকেট নিলেন। ৩৬ রানে ১ উইকেট মধুশঙ্কার। ৪ ওভারে ৫৭ দিলেও উইকেট পেলেন না নীতীশ রেড্ডি। ২৯ রানে ১ উইকেট সাকিব হোসেনের। হর্ষ দুবে ১২ রানে ৩ উইকেট নিলেন। শিবাঙ্গ কুমার ২ ওভারে ২৮ রান দেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement