ঈশান কিশন (বাঁ দিকে) ও সূর্যকুমার যাদব। তিরুঅনন্তপুরমে ভারতের জয়ের দুই নায়ক। ছবি: পিটিআই।
খারাপ সময় কাটিয়ে ফর্মে ফিরেছেন সূর্যকুমার যাদব। দু’বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের পর নজর কেড়েছেন ঈশান কিশনও। নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামতে চলেছে ভারত। ফুরফুরে পরিবেশ ভারতীয় দলে। খেলা শেষে সূর্য ও ঈশান দু’জনের মুখেই বিশ্বকাপের কথা।
গত বছর ২১ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে মাত্র ২১৮ রান করেছিলেন সূর্য। গড় ছিল ১৪-এর কম। একটিও অর্ধশতরান করতে পারেননি। সেই সূর্যই এই সিরিজ়ে পাঁচ ম্যাচে ২৪২ রান করেছেন। সিরিজ়ে সর্বাধিক রান তাঁর। ৮০.৬৬ গড় ও ১৯৬.৭৪ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন তিনি। মেরেছেন তিনটি অর্ধশতরান। সূর্য জানতেন, সময় বদলাবেই। সেই কথাই আরও এক বার বললেন তিনি।
সিরিজ়ের সেরা হয়ে সূর্য বললেন, “এক বছরের অপেক্ষা শেষ হল। আমি এটার স্বপ্ন দেখছিলাম। আমি গত সিরিজ়ের আগে অহমদাবাদে বলেছিলাম, স্কাই (সূর্যকে এই নামেই ডাকেন সকলে) থাকলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি বার বার বলেছি, রান পাচ্ছি না। কিন্তু ফর্মে আছি। এক বছর ধরে নিজের কাজ করেছি। জানতাম সময় আসবেই। বিশ্বকাপের ঠিক আগেই রান আসায় খুব ভাল লাগছে।”
রানের খরা চলাকালীন হতাশ হননি সূর্য। তিনি ফিরে গিয়েছিলেন ড্রয়িং বোর্ডে। ভুল শোধরানোর চেষ্টা করেছেন। সূর্য বলেন, “খেলায় এটা হতেই পারে। শুধু ক্রিকেট নয়, অন্য সব খেলায় এই ছবি দেখা যায়। তাই ড্রয়িং বোর্ডে ফিরে গিয়েছি। কোথায় কোথায় ভুল করেছি, সেটা নিয়ে ভেবেছি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। খুব কাছের কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরাও আমাকে জানিয়েছে, কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে। অনেক পরিশ্রম করেছি। তার ফল পাচ্ছি।”
এখন থেকেই বিশ্বকাপের কথা ভাবছেন সূর্য। অধিনায়ক হিসাবে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করার সুযোগ রয়েছে তাঁর। তবে এখনই বিশ্বকাপের পুরো পরিকল্পনা করতে চাইছেন না সূর্য। সেটা করবেন প্রতিযোগিতা শুরুর আগে। সূর্য বলেন, “বিশ্বকাপের আগে আমাদের একটা প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। তার আগে সকলে মিলে বসব। আলোচনা করব। তখনই ঠিক করব, বিশ্বকাপে কোন পরিকল্পনা নিয়ে নামব।”
ভারত তিরুঅনন্তপুরমে ২৭১ রান করেও মাত্র ৪৮ রানে জিতেছে। অর্থাৎ, বোলারদের দিন ভাল যায়নি। সূর্য জানেন, এই ফরম্যাটে বোলারদের কাজ কঠিন। তার পরেও আরও ভাল পরিকল্পনা করে নামতে চান তিনি। ভারত অধিনায়ক বলেন, “আমি জানি, এই ফরম্যাট বোলারদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। সকলে জানে, প্রতিপক্ষ হাত খুলে মারার চেষ্টা করবে। কিন্তু তার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে। আমাদের আরও ভাল পরিকল্পনা করতে হবে। অধিনায়ক হিসাবে তাতে আমারও ভূমিকা রয়েছে।”
চলতি সিরিজ়ে চারটি ম্যাচ খেলেছেন ঈশান। করেছেন ২১৫ রান। সিরিজ়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান তাঁর। তা-ও এক ম্যাচ কম খেলে। ৫৩.৭৫ গড়ে ও ২৩১.১৮ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন। তিরুঅনন্তপুরমে ৪৩ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পাশাপাশি একটি অর্ধশতরানও করেছেন। তিরুঅনন্তপুরমে ম্যাচের সেরা হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে নিজের জায়গা প্রায় পাকা করে ফেলেছেন তিনি। তাই এখন থেকেই বিশ্বকাপের কথা তাঁর মাথায়।
জোড়া ছক্কা মেরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম শতরান করেছেন ঈশান। অর্থাৎ, নজিরের সামনে দাঁড়িয়েও হাত খোলা থামাননি। ঈশান জানিয়েছেন, তাঁদের দলে এখন খেলার ধরনটাই এ রকম। তিনি বলেন, “আমরা এ ভাবেই খেলব ঠিক করেছি। এই দলের সকলে এ ভাবেই খেলবে। আমরা ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভাবি না। আমাদের দলে কেউ শতরানের কথা ভাবে না। ম্যাচ জেতার কথা ভাবে। কারণ, তখন ৬ রানের জন্য ছ’টা বল খেলার চেয়ে এক বলে ছক্কা মারাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমিও বল দেখে শট মারার চেষ্টা করেছি।”
এখন থেকেই বিশ্বকাপের কথা ভাবছেন ঈশান। আরও ভাল খেলতে চান তিনি। ভারতের বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, “আমি এখনও নিজের সেরা ফর্মে আসিনি। ভাল খেলছি। পুরস্কার পাচ্ছি। কিন্তু এখনও উন্নতির জায়গা আছে। আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ। ওখানে আরও ভাল খেলতে হবে। আরও পরিশ্রম করতে হবে। এই ফর্মটাই বিশ্বকাপে ধরে রাখতে চাই।”