বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।
১২ দিন আগে সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। তার বদলা শনিবার নিল রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটার। সেই হায়দরাবাদের বিরদ্ধেই মাত্র ৩৬ বলে শতরান করল সে। ১২ ছক্কার ইনিংসে জবাব দিল ১৫ বছরের ব্যাটার। যদিও তার পরের বলেই আউট হল বৈভব। তার ৩৭ বলে ১০৩ রানের ইনিংসে ভর করে ২২৮ রান করে রাজস্থান।
১২ দিন আগে বৈভবকে আউট করে প্রফুল্ল হিঙ্গে জানিয়েছিলেন, সতীর্থদের তিনি বলে নেমেছিলেন যে প্রথম বলে বৈভবকে আউট করবেন। সেই কথা মাথায় ছিল বৈভবের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তা বোঝা গেল। প্রফুল্লের বলে প্রথম ওভারে পর পর চারটি ছক্কা মারে সে। তার পর আর থামানো যায়নি রাজস্থানের বাঁহাতি ওপেনারকে।
অবশ্য সুযোগ পেয়েছিল হায়দরবাদ। ঈশান মালিঙ্গার বলে বড় শট মারতে গিয়ে ৩৪ রানের মাথায় ক্যাচ দেয় বৈভব। সেই ক্যাচ ফস্কান অনিকেত বর্মা। বল ধরতে গিয়ে বাউন্ডারির দড়িতে পা লেগে যায় তাঁর। এক বার জীবন পেয়ে বৈভব আরও বিধ্বংসী ব্যাট করতে শুরু করে।
১৫ বলে অর্ধশতরান করে সে। ছক্কা মেরে ৫০ রানে পৌঁছয় বৈভব। চলতি আইপিএলে তিন বার ৫০ রানের বেশি করেছে সে। চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর পর হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এল অর্ধশতরান। তিন ম্যাচেই ১৫ বলে ৫০-এ পৌঁছেছে বৈভব। আগের দু’বার অর্ধশতরানের পর আউট হয়ে গিয়েছিল বৈভব। কিন্তু এই ম্যাচে সে স্থির করে নিয়েছিল, শতরান না করে আউট হবে না।
সেই ছক্কা মেরেই শতরান করল বৈভব। শতরানের পর তার উল্লাসের ধরন দেখিয়ে দিল, জবাব দেওয়ার জন্যই নেমেছিল সে। পরের বলে রিভার্স স্কুপ খেলতে গিয়ে বল মিস্ করে বৈভব। এলবিডব্লিউ আউট হয়ে ফেরে সে। ৩৭ বলে ১০৩ রানের ইনিংসে পাঁচটি চার ও ১২টি ছক্কা মারে বৈভব।
গত বছর গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে আইপিএলে নিজের প্রথম শতরান করেছিল বৈভব। সেই শতরান এসেছিল ৩৫ বলে। এ বার এক বল বেশি নিল সে। বৈভব দেখিয়ে দিল, কেন তাকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের তারকা ধরা হচ্ছে।
এই ম্যাচে রান পাননি অপর ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। ১০ রানে আউট হন তিনি। তবে বৈভবকে সঙ্গ দেন ধ্রুব জুরেল। তিনিও আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন। ৩৪ বলে করেন অর্ধশতরান। ৩৫ বলে ৫১ রান করে নীতীশ রেড্ডির বলে আউট হন জুরেল। দুই ব্যাটারের মধ্যে ৬২ বলে ১১২ রানের জুটি হয়।
আরও একটি ম্যাচ ব্যর্থ রিয়ান পরাগ। রাজস্থানের অধিনায়ককে মাত্র ৭ রানে আউট করেন হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বৈভব, জুরেল থাকাকালীন মনে হচ্ছিল ২৫০ রানের বেশি করবে রাজস্থান। কিন্তু শেষ দিকে পর পর উইকেট পড়ায় রান তোলার গতি কমে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রান করে রাজস্থান। বাকিদের মধ্যে ডোনোভান ফেরেইরা করেন ১৬ বলে ৩৩ রান।