2026 Under-19 Men's Cricket World Cup Final

বৈভব-ঝড়ের পর রান তোলার গতি বাড়ালেন বাঙালি অভিজ্ঞান, ছোটদের বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪১১ রান তুলল ভারত

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে দাপুটে ইনিংস খেলল বৈভব সূর্যবংশী। ৮০ বলে ১৭৫ রান করেছে সে। একার হাতেই ইংরেজ বোলারদের শাসন করেছেন। চালিয়ে খেলেছে অভিজ্ঞান কুণ্ডুও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬
Share:

(বাঁ দিকে) বৈভব সূর্যবংশী। অভিজ্ঞান কুন্ডু (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

যে কোনও খেলাধুলোতেই বড় খেলোয়াড় তাঁরাই হন, যাঁরা আসল সময়ে জ্বলে উঠতে পারেন। বড় মঞ্চে ছাপ ফেলার মতো খেলতে পারেন, যা লোকের হৃদয়ে থেকে যায়। শুক্রবার বৈভব সূর্যবংশী তেমনই একটি ইনিংস খেলে দেখাল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে। বুঝিয়ে দিল, ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার সমস্ত মশলা রয়েছে তার মধ্যে। তাকে হিসাবের বাইরে আর কোনও দলই রাখতে পারবে না। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছে ৪১১/৯।

Advertisement

ফাইনালের মতো মঞ্চে যে কোনও দল, যে কোনও ক্রিকেটার চাপে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শুক্রবার হারারেতে বৈভবের খেলা দেখে মনে হল, চাপ শব্দটাই তার অভিধানে নেই। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, বোলার যে-ই হোন, তার ব্যাট চলতে শুরু করলে বিপক্ষের ক্রিকেটারদের কপালে দুঃখ রয়েছে। শুক্রবার সেটাই টের পেলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারেরা। বৈভব ফর্মে থাকলে কী হতে পারে, সেটা বুঝে গেলেন তাঁরা।

ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রান! ১৫টি চার এবং ১৫টি ছয়। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই এমন পারফরম্যান্স স্বপ্ন। বৈভব সেটাই বাস্তবে করে দেখিয়েছে। চলতি প্রতিযোগিতায় আমেরিকা বাদে প্রতিটি ম্যাচেই ভাল রান পেয়েছে সে। তিনটি অর্ধশতরান রয়েছে। তবে ফাইনালের পারফরম্যান্স বাকি সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

Advertisement

এ দিন বৈভব প্রথম তিনটি বলে কোনও রান নেয়নি। অনেকেই একটু অবাক হয়েছিলেন। কারণ বৈভব সাধারণত প্রথম বল থেকেই চালিয়ে খেলে। চতুর্থ বলে অ্যালেক্স গ্রিনকে চার মেরে খাতা খোলে বৈভব। নবম ওভারে গ্রিনকে মেরে ১৮ রান নেয় সে। অর্ধশতরান পূরণ করে ৩২ বলে।

এর পর থেকেই হাত খুলতে শুরু করে বৈভব। এত ক্ষণ মূলত চারই মেরে যাচ্ছিল সে। এ বার বল বাউন্ডারির ও পারে পাঠাতে শুরু করে। ফারহান আহমেদকে একটি ওভারে তিনটি ছয় এবং একটি চার মেরে ২২ রান নেয়। অর্ধশতরান করতে বৈভব নিয়েছিল ৩২ বল। পরের পঞ্চাশ রান আসে মাত্র ২২ বলে। ফাইনালে ৫৫ বলে শতরান করে সে।

তার পরেও থামার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি তার মধ্যে। ২২তম ওভার রালফি আলবার্টকে দু’টি ছয় এবং তিনটি চার মেরে ২৭ রান নেয়। গ্রিন, ফারহান, আলবার্ট, সেবাস্তিয়ান মর্গ্যান— কোনও বোলারকে দিয়েই বৈভবের আগ্রাসন থামাতে পারেননি ইংরেজ অধিনায়ক টমাস রিউ। শেষ পর্যন্ত বৈভব ফেরে ম্যানি লামসডেনের বলে।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে আগ্রাসী ইনিংস এটাই। নিশ্চিত দ্বিশতরান সামনে ছিল। তবু আউট হওয়ার পরে কোনও আক্ষেপ দেখা যায়নি বৈভবের অভিব্যক্তিতে। গোটা মাঠ উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারকে। ব্যাট উঁচু করে অভিবাদন গ্রহণ করে বৈভব।

ভারত চতুর্থ ওভারেই হারিয়েছিল সেমিফাইনালের শতরানকারী অ্যারন জর্জকে (৯)। তিনে নেমে অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রেকে (৫৩) বিশেষ কিছুই করতে হয়নি। তিনি উল্টো দিকে থাকা বৈভবের ধ্বংসলীলা উপভোগ করেছেন। আয়ুষ ফেরার পর বৈভবের সঙ্গে যোগ দেন বেদান্ত ত্রিবেদী। তিনি ৩২ রানে ফেরেন।

নজর ছিল বাঙালি অভিজ্ঞান কুণ্ডুর দিকে। তিনি খেলছিলেনও ভাল। ৬টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে ৩১ বলে ৪০ রান করে ফিরে যান অভিজ্ঞান। বিহান মলহোত্র করেছেন ৩০। শেষের দিকে ভারত কয়েকটি উইকেট হারায়। ফলে রান তোলার গতিও কমে যায়। তবু চারশোর গন্ডি পার করে ফেলেছে তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement