CSK Cricketer Vignesh Puthur

কেরলের ছোট লিগ থেকে উত্থান, মুম্বই হারলেও নজর কাড়লেন অটোচালকের পুত্র ২৪ বছরের ভিগ্নেশ

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলে ভারতীয় ক্রিকেটে ছাপ ফেলেছেন অনেকেই। সেই তালিকায় কি নতুন সংযোজন হতে চলেছেন ভিগ্নেশ পুথুর? রবিবার চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে নামিয়ে যে চমকটা দিল মুম্বই, তার পর এই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৫ ২৩:২৮
Share:

সূর্যকুমারের (বাঁ দিকে) সঙ্গে উচ্ছ্বাস ভিগ্নেশের। ছবি: পিটিআই।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলে ভারতীয় ক্রিকেটে ছাপ ফেলেছেন অনেকেই। জসপ্রীত বুমরাহ, হার্দিক পাণ্ড্য, সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মারা এখন ভারতের ক্রিকেটে চেনা মুখ। সেই তালিকায় কি নতুন সংযোজন হতে চলেছেন ভিগ্নেশ পুথুর? রবিবার চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে নামিয়ে যে চমকটা দিল মুম্বই, তার পর এই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। মুম্বই হেরে গেলেও তিন উইকেট নিয়ে নজর কেড়ে নিলেন ভিগ্নেশ।

Advertisement

নিজের রাজ্য কেরলের হয়ে কোনও ফরম্যাটে একটিও ম্যাচ খেলেননি ২৪ বছরের ভিগ্নেশ। কেরলের ক্রিকেট লিগের একটি দলের হয়ে ভাল খেলেছিলেন। সেখানেই চোখে পড়ে যান মুম্বইয়ের ‘স্কাউট’দের। তার পর থেকে ঘষেমেজে তৈরি করা হচ্ছিল তাঁকে। রবিবার সেই আস্থার দাম পেল মুম্বই।

চেন্নাইয়ের ইনিংসের অষ্টম ওভারে বল করতে এসেছিলেন ভিগ্নেশ। সেই ওভারেই তিনি আউট করেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে। পরের ওভারে ফিরিয়ে দেন শিবম দুবেকে। দু’জনেই তুলে খেলতে গিয়ে বাউন্ডারির ধারে আউট হন। একই রকম ভাবে লোভ দেখিয়ে দীপক হুডাকে ফিরিয়ে দেন ভিগ্নেশ। ডিপ স্কোয়্যার লেগে ক্যাচ দেন হুডা।

Advertisement

২০০১-এর ২ মার্চ কেরলের মালাপ্পুরমের পেরিনথালমান্নায় জন্ম ভিগ্নেশের। বাবা সুনীল কুমার অটোচালক। মা কেপি বিন্দু গৃহবধূ। আর্থিক দুরবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাবা-মা দু’জনেই ভিগ্নেশকে ক্রিকেট খেলায় উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। এখন পিটিএম কলেজে সাহিত্য নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছেন।

কেরলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৪ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেছেন ভিগ্নেশ। ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলার সময় মিডিয়াম পেস এবং টুকটাক স্পিন বোলিং করতেন ভিগ্নেশ। পরে স্থানীয় কোচ মহম্মদ শেরিফের পরামর্শে স্পিন বোলিং শুরু করেন। তখন ভিগ্নেশ ‘চায়নাম্যান’ বোলিং কাকে বলে, সেটা জানতেনই না। কিন্তু সেই বোলিং নিখুঁত করার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছেন।

Advertisement

এর পর নিজের ক্রিকেট খেলার উন্নতির জন্য ত্রিশূরে চলে যান। সেন্ট টমাস কলেজের হয়ে কেরল কলেজ প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগে বেশ কিছু উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করায় জলি রোভার্স ক্রিকেট ক্লাব তাঁকে সই করায়। সেখান থেকে তিনি কেরল প্রিমিয়ার লিগে দল আলেপ্পি রিপল্‌স দলে সুযোগ পান। সেটাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আলেপ্পির হয়ে খেলার সময় দু’টি ম্যাচে তিনটি উইকেট নেন। সেই সময় তাঁর ‘চায়নাম্যান’ বোলিং নজর কেড়ে নেয়। ওই প্রতিযোগিতায় হাজির ছিলেন মুম্বইয়ের ‘স্কাউট’রা। তাঁরা ভিগ্নেশকে ট্রায়ালের জন্য ডেকে নেন। সেখানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের তারকা কিছু ক্রিকেটারকে বল করেন তিনি। নির্বাচকেরাও খুশি হন। এর পর মহা নিলামে তাঁকে ন্যূনতম মূল্য ৩০ লাখ টাকাতেই কিনে নেয় মুম্বই।

আইপিএল বা বড় ধরনের ক্রিকেট ম্যাচ খেলা কোনও অভিজ্ঞতা ভিগ্নেশের ছিল না। তাই তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চায়নি মুম্বই। দক্ষিণ আফ্রিকা টি২০ লিগ চলার সময় এমআই কেপ টাউন দলের নেট বোলার হিসাবে তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা সময়েই কেপ টাউন দলের সঙ্গে ছিলেন। গোটা খরচই বহন করেছিল মুম্বই।

কব্জির মোচড়ে বল করা ভিগ্নেশের খুব পছন্দের। ‘চায়নাম্যান’ বল করেন বলে কুলদীপ যাদব পছন্দের স্পিনার। তবে বোলিং অ্যাকশন নিজের পছন্দমতো করে নিয়েছেন। তাঁর বোলিং অ্যাকশন দেখলে বাঁহাতি হরভজন মনে হতে বাধ্য।

মুম্বইয়ের শিবিরে হার্দিক পাণ্ড্য, সূর্যকুমার যাদবদের বল করার পরেই আইপিএলে তাঁকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। সিনিয়র ক্রিকেটারেরাই এ ব্যাপারে অগ্রণী হন। সেই আস্থার দাম রবিবার রাতে চেন্নাইয়ে দিলেন ভিগ্নেশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement