মোহনবাগান রত্নের জন্য সৈয়দ নইমুদ্দিনের নাম ঘোষণার আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ভারত গৌরব-এর নাম চূড়ান্ত করে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। ১ অগস্ট লাল-হলুদ দিবসে ক্লাবের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে মিলখা সিংহকে।
এ বছরটা অলিম্পিক্সের বছর। সেই কথা মাথায় রেখেই এ বার তাঁদের ভারত গৌরবের জন্য ‘উড়ন্ত শিখ’-এর নাম বেছে নিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকর্তারা। ইতিমধ্যেই ক্লাবের পক্ষ থেকে দেশের সর্বকালের সেরা অ্যাথলিটের জন্য তাঁর চণ্ডীগড়ের বাড়িতে বিমানের টিকিট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিলখা শহরে আসবেন ইস্টবেঙ্গল দিবসের দিন সকালে। লাল-হলুদের এক কর্তা এ দিন অবশ্য এটুকুই বললেন, ‘‘আমাদের ক্লাবের ভারত গৌরব পুরস্কারের জন্য মিলখাজিকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি ঠিকই। তবে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানাননি তিনি।’’
পাঁচ বছর আগে প্রয়াত লেসলি ক্লডিয়াসকে সম্মানিত করে ক্লাবের বাৎসরিক ভারত গৌরব পুরস্কার চালু করে ইস্টবেঙ্গল। তার পর একে একে আমেদ খান, অরুণ ঘোষ, বাচেন্দ্রী পাল এবং মহম্মদ হাবিব হয়ে এ বার সেই সম্মান উঠতে চলেছে মিলখা সিংহের হাতে। কিন্তু মিলখা কি আসবেন সেই সম্মান নিতে? কেননা নেতাজি ইন্ডোরে বাগানের ১২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মানিত করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেওয়া যায়নি। সবুজ-মেরুনের অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত অবশ্য এ দিন দাবি করলেন, ‘‘আমরা মিলখা সিংহকে সংবর্ধনা দেব ঠিক করেছিলাম। কিন্তু অনেক চেষ্টাতেও তাঁকে ধরা যায়নি।’’
বাগানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর অবশ্য সেই সমস্যা নেই। ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এর পিছনে ছুটে তাঁকে ধরেও ফেলেছে। এবং তাঁর সম্মতিও আদায় করে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সরকারি ঘোযণা যতই বাকি থাক না কেন! শুক্রবার রাতে স্বয়ং মিলখা ফোনে নিজেই স্বীকার করে নিলেন ভারত গৌরব-এর জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়টি। ‘‘এটা অনেক বড় সম্মান। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব যে আমার কথা ভেবেছে, তার জন্য আমি গর্বিত,’’ বলে দিলেন আশি পেরোনো কিংবদন্তি অ্যাথলিট। যিনি শনিবারই দিল্লি উড়ে যাচ্ছেন। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। রাজধানীতে সেই অনুষ্ঠানের ‘ফ্ল্যাগ অফ’ হবে ইস্টবেঙ্গলের এ বারের ভারত গৌরব-এর হাতে।