FIFA World Cup 2018

নেমারই আশা, নেমারই আশঙ্কা ব্রাজিলের

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠে নেমে পড়বে ব্রাজিল। নেমার কি পারবেন জ্বলে উঠতে? ব্রাজিল কি পারবে সমর্থকদের মনে রাখার মতো ফুটবল উপহার দিতে?

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০১৮ ১৫:৫৮
Share:

কোস্টারিকা ম্যাচে কি ফর্মে ফিরতে পারবেন নেমার? ছবি: এএফপি।

লক্ষ্মীবারের রাত হয়ে উঠেছিল দুঃস্বপ্ন। লিওনেল মেসির জাদু নয়, দেখতে হয়েছে ক্রোট ম্যাজিক। যাতে মাঠে মেসিকে কার্যত দেখাই যায়নি।

Advertisement

আর এখানেই থাকছে টেনশনের চোরাস্রোত। তির তির করে বইছে শঙ্কা। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই নামতে চলেছে ব্রাজিল। সাম্বার ছন্দ দেখা যাবে তো কোস্টা রিকার বিরুদ্ধে? নেমারের পায়ে সুন্দর ফুটবল দেখা যাবে তো?

ব্রাজিল ভক্তদের উদ্বেগ থাকছেই। যা বাড়িয়েছে কাপ-যুদ্ধের গোড়াতেই আটকে যাওয়া। সুইত্জারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে গোল করেও আটকে গিয়েছিল ব্রাজিল। জয় আসেনি। যাঁকে নিয়ে আশা-ভরসা, যিনি নিজেকে ক’দিন আগেই গ্রহের সেরা ফুটবলার হিসেবে দাবি করেছেন, সেই নেমারও ছিলেন একেবারে সাদামাটা। ক্রমাগত ফাউলের সামনে অবশ্য পড়তে হয়েছিল তাঁকে। চোট পাওয়া জায়গায় স্বভাবতই পা চালিয়েছে বিপক্ষ। ফলে, ছন্দে দেখা যায়নি তাঁকে। এখানে বলপ্লেয়ারদের সংরক্ষণের দাবি উঠছে। নেমার স্বয়ং রেফারিদের দায়িত্ব নিতে বলেছেন। আর ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন তো সরাসরি জবাবদিহি চেয়েছে ভিএআর নিয়ে।

Advertisement

ব্রাজিলের শক্তি-দুর্বলতা। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

কোস্টা রিকাকে হারাতে গেলে নেমারকে অবশ্যই বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁর উপরেই সবার নজর। তবে দশ নম্বর জার্সির মালিককে স্বার্থপর ফুটবল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেকেই মনে করছেন, চোট পুরোপুরি সারেনি তাঁর। ফলে সতর্ক থাকছেন সব সময়। প্রত্যাশার চাপও ব্রাজিলের কাছে বড় সমস্যা। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বরাবরই ফেভারিট। সমর্থকরা কাপ ছাড়া অন্য কিছু বোঝেন না। নেমারকে সেটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। তিনি ছন্দে মানেই হলুদ রঙের জার্সিতে শিল্পের ফুল ফোটা। আবার তিনি ব্যর্থ মানেই আশঙ্কা।

আরও পড়ুন: ‘নেমারই সম্পদ, ওর সেরা খেলাটাই চাই ব্রাজিলের’

এ বারের দলে অবশ্য প্রতিভার অভাব নেই। এমন নয় যে নেমারের কাঁধেই সব দায়িত্ব। মেসি বা রোনাল্ডার মতো একক ক্ষমতায় গোটা দলকে টানতে হচ্ছে না তাঁকে। প্রথম ম্যাচে গোল করেছেন কুটিনহো। নেমার ছাড়াও তাঁর প্রতিভায় ভরসা রয়েছে সমর্থকদের। ফুটবলে সফল হতে গেলে যে দলগত প্রচেষ্টা আবশ্যক, এ বারের বিশ্বকাপে তা বোঝা গিয়েছে পরিষ্কার। পাওলিনহো ও কাজিমিরোর সঙ্গে কুটিনহোর বোঝাপড়া সেজন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মাঝমাঠে বিপক্ষ আক্রমণ আটকানোর জন্য সতর্ক থাকতে হবে কাজিমিরোকে।

আরও পড়ুন: গোঁফ-টাক-অন্তর্বাস, বিশ্বকাপে ফুটবলারদের অদ্ভুত সব সংস্কার

সুইত্জারল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরুতে ঝড় তুলেও ব্রাজিল তা চালিয়ে যেতে পারেনি। ফলে, ম্যাচে ফিরেছিল বিপক্ষ। এই ভুল থেকে নিতে হবে শিক্ষা। ব্রাজিল কোচ তিতে অবশ্য মন জিতেছেন ভক্তদের। বাড়িয়েছেন দলের আত্মবিশ্বাস। কিন্তু, চার বছর আগে সেমিফাইনালে সাত গোল খাওয়ার ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন কিনা, সংশয় থাকছে। প্রথম ম্যাচেও যে ব্রাজিলকে একেবারেই ব্রাজিলের মতো লাগেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement