ইন্ডিয়া ওপেন ব্যাডমিন্টনে একটি ম্যাচের মুহূর্ত। ছবি: পিটিআই।
ইন্ডিয়া ওপেন ব্যাডমিন্টন আয়োজন ঘিরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু খেলোয়াড় মুখ খুলেছেন। তার মধ্যেই রোজই নতুন নতুন বিতর্ক প্রকাশ্যে আসছে। প্রশ্ন উঠছে, ছোট মাপের এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করতেই যদি হিমশিম অবস্থা হয়, তা হলে দায়িত্ব পেলে ১০ বছর পর অলিম্পিক্স আয়োজন কী ভাবে করবে ভারত?
সম্প্রতি ‘রিপাবলিক টিভি’র তরফে ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নোংরা শৌচাগার, যেখানে সেখানে বিয়ারের বোতল, অপরিষ্কার স্টেডিয়াম-সহ বিভিন্ন চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। খেলোয়াড়েরা যে এমনি এমনি অভিযোগ করছেন না, তা স্পষ্ট।
বিতর্কের পর ভারতের ব্যাডমিন্টন সংস্থার তরফে উদ্যোগ নিয়ে কিছু কিছু বিষয় ঠিক করা হয়। তবে অনেক কাজই বাকি রাখা হয়েছে। দর্শকদের জন্য শৌচাগার রয়েছে তা খুবই নোংরা। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় পাইপে ছিদ্র হওয়ায় জল পড়ছে। শৌচাগার দুর্গন্ধে ভর্তি এবং অস্বাস্থ্যকর। নোংরা টয়লেট পেপার ছড়িয়ে রয়েছে এদিক-ওদিক। দেওয়ালে পান, গুটখার পিক রয়েছে।
স্টেডিয়ামের দর্শকাসনের পিছন দিকে চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে সিগারেট, বিড়ি অবশিষ্ট অংশ। কিছু কিছু জায়গায় খালি বিয়ারের বোতল জমিয়ে রাখা হয়েছে। দর্শকদের খেলা দেখতে সুবিধা হয়, এমন ব্যবস্থার বিন্দুমাত্র কিছু নেই।
এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। অতীতে এই ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আবু ধাবি জু জুৎসু প্রো আয়োজন করা হয়েছিল। সেই প্রতিযোগিতার আয়োজক গৌরব গুল্লালিয়া সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুতের বিল এবং এসি-র বিল আলাদা করে পাঠানো হয়। স্টেডিয়ামে ক্রীড়া সরঞ্জামের ট্রাক ঢুকতে দেওয়ার জন্য ঘুষ চাওয়া হয়। দিল্লি পুরসভার তরফে অস্বীকৃত কর্মীরা বার বার এসে ‘টাকা’ বা ‘উপহার’ দাবি করতে থাকেন। শৌচাগার ব্যবহারের যোগ্য ছিল না। আয়োজকদের তরফে কর্মী নিয়োগ করে তা পরিষ্কার করা হয়। বিদেশি ক্রীড়াবিদেরা অব্যবস্থার অভিযোগ তোলেন।
সরকারের তরফে যে ভাবে প্রতি পদে অসহযোগিতা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গৌরব। পরের বছর তিনি ওই প্রতিযোগিতা নয়ডার একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়াকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানকার পরিবেশে আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল।