Bomb threats

সর্বক্ষণ ল্যাপটপ নিয়ে ঘুরতেন সৌরভ

সৌরভের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। গুজরাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা রাখা হয়েছে বলে ভুয়ো ই-মেল পাঠানো হয়েছিল।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৯
Share:

সৌরভ বিশ্বাস। ফাইল চিত্র।

কী করতেন সৌরভ, জানতেন না কেউ। তবে সর্বক্ষণ কাঁধে থাকত ল্যাপটপ। এলাকায় বিশেষ মেলামেশা ছিল না তাঁর। স্ত্রীও বিশেষ মিশতেন না। সৌরভ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে উধাও স্ত্রী।

গুজরাতের আদালত ও একাধিক স্কুলে বোমা রাখা হয়েছে— এমন হুমকি দিয়ে ই-মেল পাঠানোর অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার শ্রীপল্লি থেকে আমদাবাদ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বছর তিরিশের সৌরভ বিশ্বাস ওরফে মাইকেল। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালনগর থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে ধরা হয়। ট্রানজ়িট রিমান্ডে তাঁকে গুজরাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। গুজরাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা রাখা হয়েছে বলে ভুয়ো ই-মেল পাঠানো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই প্রযুক্তিগত তদন্তে উত্তর ২৪ পরগনার এই ঠিকানার সন্ধান মেলে।

আধার কার্ডে সৌরভের বাড়ির ঠিকানা নিউ ব্যারাকপুর থানার খলসিকোটা এলাকা, তবে গত দু’বছর ধরে তিনি গোপালনগরের শ্রীপল্লির গোবিন্দপল্লি এলাকায় বসবাস করছিলেন।

গ্রামের মানুষ জানালেন, সম্প্রতি একতলা পাকা বাড়ি তৈরি করেছিলেন সৌরভ। বুধবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, বাড়িতে তালা ঝুলছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথমে গোপালনগর থানার পুলিশ এলাকায় আসে। পরে বাইরের রাজ্যের পুলিশ ঢোকে। সেখান থেকেই মাইকেলকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এক যুবকের কথায়, “ওঁকে কোনও কাজ করতে দেখিনি। তবে সব সময়ে ল্যাপটপ সঙ্গে থাকত।” প্রতিবেশী কয়েক জন মহিলা জানালেন, স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সৌরভ। গ্রামের মানুষের সঙ্গে খুব প্রয়োজন ছাড়া মেলামেশা করতেন না। তাঁদের ধারণা ছিল, বাড়িতে বসেই কম্পিউটারে কাজ করেন সৌরভ। গ্রেফতারের পর থেকে স্ত্রীকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাতায়াত ছিল সৌরভের। প্রথম দিকে কয়েক মাস বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পরে জমি কিনে বাড়ি করেন। গ্রামবাসীরা জানালেন, সৌরভ জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে এসে কলকাতায় থাকেন, কাজের সুবিধার জন্য গ্রামে এসেছেন। তবে তিনি ঠিক কী করতেন, তা স্পষ্ট নয় কারও কাছেই।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন বারুই বলেন, “আমাদের গ্রামে কোনও চুরি-ছিনতাই পর্যন্ত হয় না। শান্তিতে বসবাস করি। গ্রামের সুনাম আছে। এই ঘটনায় সেই সুনাম ক্ষুণ্ণ হল!”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন