ভোটগ্রহণ চলছে নেপালে। ছবি: রয়টার্স।
দুপুর ১টা পর্যন্ত নেপালে ২৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ভোট দিলেন নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কী। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, “আমার দায়িত্ব শেষ হল।” ‘জেন জ়ি’ বিক্ষোভের জেরে সরকার পতনের তিন দিন পরে, ১২ সেপ্টেম্বর সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন।
ভোট দিলেন নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি গগন থাপা। ভক্তপুর জেলায় ভোট দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি।
দুপুর ১২টা পর্যন্ত নেপালে ১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নেপালের জেন জ়ির বড় অংশের পছন্দ প্রাক্তন গায়ক তথা রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। গত সেপ্টেম্বরে জেন জ়ির আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। এ বার ঝাপা-৫ আসনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর প্রধান কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে লড়ছেন বলেন্দ্র। তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে ছিল। সাধারণ নির্বাচনের আগেই সে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের অন্দরে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রবীণ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়েছিলেন ৪৯ বছরের গগন থাপা। তিনিও এ বার প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ের অন্যতম মুখ। লড়াইয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মাওবাদী গেরিলা নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডও। নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান পূর্ব রুকুম আসন থেকে ভোটে লড়ছেন। জেন জ়ির আন্দোলনে ওলি সরকারের পতনের পর দফায় দফায় রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নেপালে আন্দোলন করেছে রাজেন্দ্র লিংডেনের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি। এ বার তাঁর দিকেও নজর রয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
প্রায় ৬৫টি দল নির্বাচনে যোগ দিলেও লড়াই মূলত চারটি দলের মধ্যে। এই দলগুলি হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল), আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডর নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি, গগনকুমার থাপার নেপালি কংগ্রেস এবং বলেন্দ্র শাহ-র রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি।
২০১৫ সালের নতুন সংবিধান অনুযায়ী নেপালে একটি মিশ্র নির্বাচনী ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথম পদ্ধতিটি প্রত্যক্ষ নির্বাচন। একে বলা হয় ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (এফপিটিপি), যেখানে যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পান— তিনিই আসনটিতে জয়ী হন। দ্বিতীয়টি হল পরোক্ষ নির্বাচন অর্থাৎ, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (পিআর)। এতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত হিসাব করে সংশ্লিষ্ট দলের মনোনীত প্রার্থীদের ‘হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস’-এর সদস্যপদ দেওয়া হয়।
মোট ১৬৫টি আসন এফপিটিপি পদ্ধতিতে এবং বাকি ১১০টি আসন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবে। এফপিটিপি-র জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৩৪০৬ জন প্রার্থী। পিআর-এর জন্য ৩১৩৫ জন। নেপালের সংবিধান প্রণেতাদের ব্যাখ্যা ছিল— দু’টি পদ্ধতি রাখার উদ্দেশ্য হল, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং সমাজে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখা। এ ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক ভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হয়। বাড়ে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা।
নেপাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস’-এর ২৭৫ আসনের সদস্যদের বাছতে বৃহস্পতিবার জোড়া ব্যালটে ভোট দিচ্ছে নেপাল। এর মধ্যে ১৬৫টিতে প্রত্যক্ষ এবং ১১০টিতে পরোক্ষ নির্বাচন হবে।
২৭৫টি আসনে ভোট দেবেন প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ ভোটার। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৬৫টি রাজনৈতিক দল।
গত সেপ্টেম্বর মাসে তরুণ প্রজন্ম (জেন জ়ি)-এর বিক্ষোভের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের। তিন দিন পরে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। বিভিন্ন স্তরে আলাপ-আলোচনা শেষে সে দেশের নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল। ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হয়েছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২৩ জানুয়ারি।
নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে সকাল ১১টা পর্যন্ত ১০.১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।