UEFA Champions League

ফাইনালে পিএসজির সামনে আর্সেনাল, স্বপ্নভঙ্গ বায়ার্নের

শেষ চারের প্রথম পর্বে রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে ঘরের মাঠে পিএসজি ৫-৪ জিতেছিল। সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার জন্য অন্তত দু’গোলের ব্যবধানে জিততেই হত হ্যারি কেন-দের।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৮:৪৮
Share:

নায়ক: বায়ার্নের বিরুদ্ধে গোলের পরে উল্লাস দেম্বেলের। বুধবার। ছবি: রয়টার্স।

অপ্রতিরোধ্য প্যারিস সঁ জরমঁ। ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ এরিনায় প্রত্যাবর্তনের রূপকথা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ বায়ার্ন মিউনিখ। ১-১ (দুই পর্ব ৬-৫) ড্র করে টানা দ্বিতীয়বার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি। আরও একবার ইউরোপ সেরা হওয়ার হাতছানি লুইস এনরিকের সামনে। তিন মিনিটে গোল করে নায়ক ফের উসমান দেম্বেলে।

শেষ চারের প্রথম পর্বে রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে ঘরের মাঠে পিএসজি ৫-৪ জিতেছিল। সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার জন্য অন্তত দু’গোলের ব্যবধানে জিততেই হত হ্যারি কেন-দের। কিন্তু এনরিকের চালে শুরুতেই বিপর্যয় নেমে আসে বায়ার্ন শিবিরে। বিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বাঁ-দিক থেকে উঠে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে কিভিচা কাভারাৎস্কেলিয়া পাস দেন দেম্বেলেকে। বালঁ দ্যর-জয়ী ফরাসি তারকা গোলার মতো শটে ১-০ করেন। দুই পর্ব মিলিয়ে ৬-৪ এগিয়ে গেল পিএসজি।

শুরুর ধাক্কা সামলে বায়ার্ন মরিয়া হয়ে ওঠে সমতা ফেরাতে। কিন্তু গোল অধরাই থাকে। ৩১ মিনিটে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিজেদের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে বল বিপন্মুক্ত করার চেষ্টা করেন পিএসজি-র ভিতিনহা। বল লাগে সামনেই দাঁড়ানো জোয়াও নেভেসের হাতে। বায়ার্নের ফুটবলারেরা পেনাল্টির দাবি জানালেও রেফারি দেননি। তিন মিনিটের মধ্যেই অবশ্য ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল গত বারের চ্যাম্পিয়নরা। নেভেসের হেড পাখির মতো উড়ে গিয়ে কর্নার করে বাঁচান ম্যানুয়েল নয়্যার। পুরো ম্যাচে একাধিক অবধারিত গোল বাঁচান বায়ার্নের শেষ প্রহরী। ১-০ এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেন দেম্বেলেরা। দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি-র রণকৌশলই ছিল রক্ষণ মজবুত করে খেলা। ৬৫ মিনিটে দেম্বেলে তুলে ব্র্যাডলি বার্কোলাকে নামান এনরিকে। সংযুক্ত সময়ে (৯০+৪ মিনিট) হ্যারি কেন গোল করে হার বাঁচালেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বায়ার্নকে তুলতে পারলেন না।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি-র প্রতিপক্ষ আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে আতলেতিকো দে মাদ্রিদকে ১-০ (দুই পর্ব মিলিয়ে ২-১) হারিয়ে ২০ বছর পরে ফাইনালে উঠল লন্ডনের ক্লাব। মাদ্রিদে শেষ চারে প্রথম পর্বের দ্বৈরথে আতলেতিকো দে মাদ্রিদের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও জয় হাতছাড়া হয়েছিল আর্সেনালের। ১-১ শেষ হয়েছিল ম্যাচ। মঙ্গলবার রাতে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে গোল করেন বুকায়ো সাকা। ভিক্টর ইয়োকেরেসের পাস থেকে কোণাকুনি শট নিয়েছিলেন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড। বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে কোনও মতে বাঁচান গোলরক্ষক ইয়ান ও’ব্লাক। বেরিয়ে আসা বল গোলে ঠেলে দেন সাকা। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তৃতীয় গোল করলেন আর্সেনাল তারকা।

সমতা ফেরাতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় আতলেতিকো। ৫১ মিনিটে ইউলিয়ানো সিমিয়োনেকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফেলে দেন আর্সেনালের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। আতলেতিকোর ম্যানেজার দিয়েগো সিমিয়োনে পেনাল্টির দাবিতে সরব হন। ভিডিয়ো প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেনাল্টি দেননি রেফারি। এর পরে আঁতোয়া গ্রি‌জ়ম্যানকেও পেনাল্টি বক্সে ফেলে দেওয়া হয়। রেফারি যদিও আগের একটি ঘটনার জন্য আতলেতিকোর বিরুদ্ধেই ফাউল দেন। আর্সেনালের হয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন ভিক্টর। ম্যাচের পরে উচ্ছ্বসিত মিকেল আর্তেতা বলেছেন, ‘‘অবিশ্বাস‌্য রাত। ২০ বছর পরে, দ্বিতীয় বারের জন‌্যআমরা ফাইনালে উঠলাম।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন