(বাঁ দিকে) অস্কার ব্রুজ়ো। দেবব্রত সরকার (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
গত দু’টি ম্যাচে জয় পায়নি ইস্টবেঙ্গল। শনিবার কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে নামার আগে যেখানে দলের মনঃসংযোগ থাকার দরকার ছিল ম্যাচের দিকে, সেখানে কোচ অস্কার ব্রুজ়োর একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হল। ক্লাবকর্তাদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। কিছু ক্ষণ পরে পাল্টা দিয়েছেন লাল-হলুদ কর্তা দেবব্রত সরকারও।
ম্যাচের আগে অস্কারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রথম দু’টি ম্যাচে জেতার পরেও আচমকা দলের খারাপ খেলার কারণ কী? অস্কার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি বলেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কিছু ক্ষতিকারক লোক রয়েছেন যাঁরা মনে হয় দলের উন্নতি দেখতে চান না। সমর্থকেরা হতাশ, এ রকম একটা বিষয় তুলে ধরে আমাদের সমালোচনা করা হচ্ছে। হয়তো তাঁদের লক্ষ্য ইচ্ছাকৃত ভাবে দলে ভাঙন ধরানো বা অস্থির করে তোলা। কিন্তু আমরা সে সবে আমল দিচ্ছি না। আমরা নিজেদের মতোই খেলব।”
সন্ধ্যার দিকে একটি ভিডিয়ো বার্তায় দেবব্রত বলেন, “আমরা অস্কারের উপরে আস্থা রাখছি। আমরা বিশ্বাস করি উনিই সাফল্য এনে দেবেন। উনি নিজেই এই দল গড়েছেন। বিনিয়োগকারীও অনেক অর্থ দিয়েছে। কোচকে একটাই অনুরোধ, উনি দলের দিকে নজর দিন। গোটা বিশ্বেই দল খারাপ খেললে সমর্থকেরা হতাশ হন। সমর্থকদের আঘাত না করলেই ভাল। কোচ একজন পেশাদার। আজ আছে, কাল নেই। ওঁর কথায় আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।”
অস্কার জানিয়েছেন, গত দু’টি ম্যাচে হোঁচট খেলেও ভাল জায়গায় শেষ করার ব্যাপারে তাঁরা বদ্ধপরিকর। বলেছেন, “গত বছর ইস্টবেঙ্গলের কোচ হয়ে এসেছিলাম যখন, চারটে ম্যাচ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম পয়েন্ট পেয়েছিলাম ছ’টি ম্যাচের পর। এ মরসুমের কথা ভাবুন। চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট হয়েছে। কেরলকে হারালে দশ পয়েন্ট হয়ে যাবে। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে দু’পয়েন্ট। এত ভাল শুরু এর আগে ইস্টবেঙ্গল করেনি। তাই নিজের ধারণা বদলানোর কোনও কারণ নেই।”
কেরলের বিরুদ্ধে শুরু থেকে খেলতে পারেন সাউল ক্রেসপো। তবে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচেও না খেলা কেভিন সিবিলের কী অবস্থা? অস্কারের জবাব, “দু’দিন আগেই ওর মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। আগের থেকে চোটের অবস্থা অনেকটাই ভাল। তবে পেশির টান পুরোপুরি সারেনি। আরও পাঁচ-সাত দিন সময় লাগতে পারে। তার পর রিহ্যাব শুরু করবে।” অর্থাৎ কেভিনকে পেতে পেতে চলতি মরসুমের অর্ধেকই শেষ হয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গলের।