লক্ষ্য: মহমেডান ম্যাচ জিততে মরিয়া অস্কার। —ফাইল চিত্র।
যুবভারতীর যে মাঠে ইস্টবেঙ্গল নিয়মিত অনুশীলন করে, তার ধারাকাছে কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্তত পাঁচশ মিটার দূরে সকলকে থামিয়ে দিচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সর্বত্র চাপা উত্তেজনা। চরম সতর্কতা কোনও ভাবেই যেন লাল-হলুদ শিবিরের অন্দরমহলের অশান্তির খবর ফাঁস না হয়ে যায়।
দমদমের শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় ছেলে শাহিনকে নিয়ে যুবভারতীতে এসেছিলেন। লাল-হলুদ জার্সি পরে দু’জনেই হাতে পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। শমীকের হাতের পোস্টারে লেখা ছিল, ‘‘প্রিয় কোচ ও ফুটবলাররা ইস্টবেঙ্গলকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনুন।’’ শাহিনের আর্জি, ‘‘প্রিয় কোচ ও ফুটবলাররা— ইস্টবেঙ্গল আমাদের আবেগ। দয়া করে বোঝার চেষ্টা করুন।’’ ভেবেছিলেন, অনুশীলনের সময় মাঠের সামনে গিয়ে পোস্টারগুলি তুলে ধরবেন। কিন্তু শেষ তিনটি ম্যাচের একটিতে হার ও বাকি দু’টিতে ড্রয়ের পরেই বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। দূর থেকেও অনুশীলন দেখার অনুমতি নেই।
কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও ১-১ ড্রয়ের পর থেকে অস্কার ব্রুসোর অপসারণের দাবিতে সরব ইস্টবেঙ্গল জনতা। চব্বিশ ঘণ্টা আগেই কোচের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ক্লাব কর্তারা। এখনই অস্কারকে সরানোর পক্ষপাতী নন তাঁরা। মহমেডান স্পোর্টিং ম্যাচের ফল দেখে তাঁকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অস্কারকে নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করতে নারাজ কর্তারা। তাঁরা আপাতত আরও কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষে। তা ছাড়া চলতি বছরের মে-মাস পর্যন্ত অস্কারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। এখনই তাঁকে ছাঁটাই করা হলে মে-মাস পর্যন্ত বেতন সহ ক্ষতিপূরণের টাকাও দিতে হবে। তা সত্ত্বেও সোমবারের বৈঠকের পর থেকে চর্চার কেন্দ্রে ইস্টবেঙ্গলে অস্কারের ভবিষ্যৎ।
অনুশীলন শুরুর আগে মঙ্গলবার বিকেলে মাঠের মধ্যে ফুটবলারদের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অস্কার কথা বলায় জল্পনা আরও আরও বাড়ল। ইস্টবেঙ্গল কোচ কি তা হলে এ দিনই ফুটবলাদের বিদায়ী বার্তা দিলেন? লাল-হলুদ শিবিরের অন্দরমহলে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, ফুটবলারদের আশ্বস্ত করে কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পরিকল্পনাই নেই। একই সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়ে না ভেবে ম্যাচে মনোনিবেশ করতে। ফুটবলারদের উজ্জীবিত করে তিনি জানিয়েছেন, আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি ইস্টবেঙ্গলের। কারণ, পাঁচ ম্যাচ থেকে আট পয়েন্ট অর্জন করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে মশালবাহিনী। শীর্ষ স্থানে থাকা মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সঙ্গে ব্যবধান ছয় পয়েন্টের।
আইএসএলের সূচি অনুযায়ী ইস্টবেঙ্গলের পরের খেলা আগামী শনিবার মহমেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে, ইদের জন্য ম্যাচ পিছিয়ে সোমবার হতে পারে।
প্রায় ৪০ মিনিটের দীর্ঘ আলোচনায় অস্কার কি শুধু ইস্টবেঙ্গলে থেকে যাওয়ার কথাই বললেন? জানা গিয়েছে, তিনি এ দিন শেষ তিনটি ম্যাচে ব্যর্থতার ময়নাতদন্তও করেছেন। আইএসএলে প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পরে হঠাৎই ছন্দপতন। প্রথমে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে হার। তার পরে এফসি গোয়া এবং কেরলের সঙ্গে ড্র। কোচ জানতে চেয়েছিলেন, কোথায় সমস্যা হচ্ছে? ফুটবলারদের মতে, ফিটনেসের ঘাটতি। বিশেষ করে কেরলের বিরুদ্ধে ম্যাচ যত এগিয়েছে, তত সমস্যা বেড়েছে। এই কারণেই এগিয়ে থেকেও সংযুক্ত সময়ে গোল খাওয়ায় জয় হাতছাড়া হয়েছে।
অস্কারের আরও একটা চিন্তার কারণ, পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচ খেলতে না পারা। দ্বিতীয়ত, প্রবল চাপের মুখে ভেঙে পড়া। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রক্ষণে কেভিন সিবিল্লের না থাকা সব চেয়ে বেশি উদ্বেগের। অবশ্য এই সমস্যার এখনই সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেভিন অনুশীলন শুরু করলেও পরের ম্যাচে তাঁকে পাওয়ার আশা ক্ষীণ। ফলে মহমেডানের বিরুদ্ধে রক্ষণ শক্তিশালী করে জয়ের সরণিতে ফিরতে আনোয়ার আলি এবং জিকসন সিংহ-ই ভরসা অস্কারের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে