Diabetes risk by age

২০, ৩০, ৪০ কোন বয়সে ডায়াবিটিস সবচেয়ে বিপজ্জনক? বয়স ভেদে কতটা প্রভাব পড়ে শরীরে

ডায়াবিটিসের মতো অসুখ এখন আর বয়সকালের রোগ নয়, ২০ থেকে ৩০-৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বয়স ভেদে ডায়াবিটিসের প্রভাব আলাদা। কোন বয়সে কতটা ঝুঁকি থাকে, তার চিকিৎসাই বা কী?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

বয়স ভেদে আলাদা হয় কি ডায়াবিটিস? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

২০০০ সালে যে সংখ্যা ছিল ৩.২ কোটি, ১৭ বছরে তা পৌঁছে গিয়েছে ৭.৩ কোটিতে। ২০৪৫ সালের মধ্যেই সেই সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলতে পারে ১৩ কোটির ঘর। ভারত সরকারের তথ্য বলছে, গত ২৬ বছর ধরে এই দেশে কার্যত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডায়াবিটিসে আক্রান্তের সংখ্যা।

Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, তিন দশক আগে রোগীমৃত্যুর নেপথ্যে থাকত মূলত, টাইফয়েড, কলেরা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি। সেই অসুখগুলিকে জয় করা গেলেও বর্তমানে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডায়াবিটিস, ক্যানসার, স্থূলত্ব, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রেক, হাইপারটেনশনের মতো অসুখ। এই সমস্ত রোগে মৃত্যুর হারও নেহাত কম নয়। চিকিৎসকদের কথায়, বছর ১০-১৫ আগেও দেখা যেত, ডায়াবিটিসের মতো অসুখ দেখা দিচ্ছে ৪০ কিংবা ৫০-এর পরে। কিন্তু সেই বয়সই এখন নেমে এসেছে ২০-তে। ৩০-৩৫ এর মতো বয়সের রোগীর সংখ্যাও ক্রমশই বাড়ছে। শিশুরাও ডায়াবিটিস নিয়ে জন্মাচ্ছে।

রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির পাওয়ার এই অসুখ হানা দেয় নিঃশব্দেই। হয়ে ওঠে নীরব ঘাতক। এই অসুখ শরীরে বাসা বাঁধলেও তা নিয়ে দিব্যি জীবন কাটে বলে, তার ভয়াবহতা বিষয়ে সে ভাবে কেউ মাথা ঘামান না। অথচ এই অসুখের সঙ্গে হাত ধরাধরি করেই বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হার্ট, কিডনির নানা সমস্যা। নিঃশব্দে শরীরের প্রত্যঙ্গগুলিকে নষ্ট করে দিতে পারে রক্তে বেড়ে যাওয়া শর্করা। অবহেলা করলে তা হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী।

Advertisement

‘‘আগে যা ছিল বয়সকালের অসুখ, এখন তা অপেক্ষাকৃত কমবয়সিদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে। উদ্বেগ সেখানেই’’, বলছিলেন ডায়াবিটিসের চিকিৎসক অভিজ্ঞান মাঝি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ৩০-৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যেই ডায়াবিটিস বাড়ছে বেশি। তিনি বলছেন, ‘‘৪০ বছরের কমবয়সিদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। একে বলা হয় আর্লি অনসেট ডায়াবিটিস।’’ চিকিৎসক আশিস মিত্র জানাচ্ছেন, ২০-র আশপাশে, এমনকি বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের মধ্যেও এই অসুখ আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। সদ্যোজাতদের অনেকে ডায়াবিটিস নিয়েই জন্মাচ্ছে।

ভারত সরকারের পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এই অসুখ এখন শহরের সীমা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামজীবনেও। ২০- ৪০— বিভিন্ন বয়সি মানুষই এখন ডায়াবিটিসের শিকার। কিন্তু সব বয়সে কি এই অসুখ সমান ভাবেই আঘাত হানে, না কি বয়স ভেদে তার প্রভাবও আলাদা হতে পারে? কোন বয়সের চিকিৎসাই বা কেমন হবে? ডায়াবিটিসের চিকিৎসক শুভঙ্কর চৌধুরী বলছেন, ‘‘টাইপ ২ ডায়াবিটিসই বেশি দেখা যায় এই দেশে। যে কোনও বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবিটিস হতে পারে, যেখানে শরীরে ইনসুলিন হরমোন তৈরি হলেও সঠিক ভাবে কাজ করে না। তবে ২০ বা তার চেয়ে কমবয়সিদের ক্ষেত্রে ডায়াবিটিসের একাধিক ধরন এবং কারণ থাকতে পারে।’’

ডায়াবিটিসের নেপথ্যে যেমন জিনগত ত্রুটি থাকতে পারে, তেমনই থাকে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনও। কোন ধরনের ডায়াবিটিস, তা কতটা তাড়াতাড়ি ধরা পড়ছে এবং রোগীর বয়সের উপর নির্ভর করে তা কারও জন্য ঠিক কতটা ঝুঁকির হতে পারে।

কোন বয়সে কী ভাবে হানা দিতে পারে অসুখটি

বয়স যখন ২০: ২০ বা তার চেয়ে কম বা বেশি বয়সিদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবিটিস এখন দেখা যাচ্ছে। তবে টাইপ ১ ডায়াবিটিস কমবয়সিদের বেশি দেখা যায়, জাানাচ্ছেন অভিজ্ঞান। এটি অটো ইমিউন অসুখ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত নিজের দেহের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষকে ধ্বংস করে বসে। ফলে ইনসুলিনের অভাব দেখা দেয় শরীরে, বেড়ে যায় শর্করার মাত্রা।

তবে ২০-র বিপদ অন্যখানে। টাইপ ১, টাইপ ২ ছাড়াও জিনগত সমস্যার কারণে ডায়াবিটিস হয়, একে বলা হয় ‘মোডি’ (ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবিটিস অফ দ্য ইয়ং)। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে এই ধরনের ডায়াবিটিস বয়ে চলে। আবার অনেক সময় ওষুধের প্রভাবেও ডায়াবিটিস হতে পারে যেমন কেউ মানসিক চিকিৎসার জন্য বা দীর্ঘ সময় ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেলেও ডায়াবিটিস হতে পারে। কর্টিসল হরমোনের মাত্রা এ দিক-ও দিক হওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এ ছাড়াও প্যানক্রিয়াটিক ডায়াবিটিস হয়। প্যানক্রিয়াসের অসুখের কারণে ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষ ঠিকমতো কাজ না করলে, এমন অসুখ হতে পারে।

ডায়াবিটিসের সঠিক কারণ নির্ণয় কেন জরুরি?

অভিজ্ঞানের মতে, ২০ বা তার আশপাশের বয়সে রক্তে শর্করা বেশি থাকলে অসুখের কারণ নির্ণয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তার উপরেই নির্ভর করে চিকিৎসাপদ্ধতি। যাঁর শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় না, তাঁকে ওষুধ দিয়ে লাভ হবে না। উল্টে ভুল চিকিৎসায় ক্ষতি হতে পারে। শুভঙ্কর বলছেন, ‘‘কোন ধরনের ডায়াবিটিস হয়েছে, তার উপর নির্ভর করছে চিকিৎসা। প্যানক্রিয়াটাইটিক ডায়াবিটিস হলে প্রথম দিকে ওষুধ কাজ হবে, তার পরে ইনসুলিন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। আবার টাইপ-২ ডায়াবিটিসে প্রথম দিকে ট্যাবলেট কাজ করলেও, এক সময়ের পরে ইনসুলিন দেওয়ার দরকার হতে পারে।’’

ঝুঁকি কতটা: কম বয়সে ডায়াবিটিস হওয়া মানে, এই অসুখের ধকল শরীরকে সামলাতে হবে দীর্ঘ সময় ধরে। অন্তত ৪০-৫০ বছর তাঁকে ডায়াবিটিস নিয়ে বাঁচতে হবে। চিকিৎসক শুভঙ্কর বলছেন, ‘‘অনেক সময় দেখা গিয়েছে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে কমবয়সিদের ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়াবিটিস শরীরে বেশি জটিলতা তৈরি করছে। আবার এই বয়সের ছেলেমেয়েদের পক্ষে জীবনযাপনে রাশ টানাও কঠিন হয়। শুরু থেকেই যদি ডায়াবিটিস বশে রাখা না যায়, তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতেই পারে।’’

৩০-এ কোন বিপদ: ৩০-৩৫ বছর বয়সেই ডায়াবেটিকের সংখ্যা অনেকটাই বাড়ছে। তার নেপথ্য কারণ হিসাবে এক দিকে যেমন স্থূলত্বকে দায়ী করা হচ্ছে, তেমনই থাকছে মানসিক চাপ, শরীরচর্চার অভাব। এই বয়সে পেশাগত এবং সাংসারিক চাপ এসে পড়ে। তার উপর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার খাওয়া, ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাস স্থূলত্বের মতো অসুখের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। তার হাত ধরেই শরীরে বাসা বাঁধে ডায়াবিটিস। আর এক বার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, কিডনি, হার্ট, চোখ, স্নায়ুর সমস্যাও এসে যেতে দেরি হয় না। এই বয়সে টাইপ ২ ডায়াবিটিসই বেশি হয়। তবে যে কোনও ধরনের ডায়াবিটিস যে কোনও বয়সেই দেখা যেতে পারে, মনে করাচ্ছেন শুভঙ্কর।

মানসিক চাপের সঙ্গে ডায়াবিটিসের সম্পর্ক গুরতর। কারণ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ থেকে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এমনিতে এই হরমোন বিপাকক্রিয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে কর্টিসলের মাত্রা দিনের পর দিন বেশি থাকলে শারীরিক জটিলতাও তৈরি হয়। ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, ফলে কোষগুলি ইনসুলিন হরমোনকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারে না, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে।

আশা এবং ঝুঁকি: এই বয়সে ডায়াবিটিস যেমন চিন্তার, তেমনই আশার কথা, ওজন এবং জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে, ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমে এবং এক সময় ডায়াবিটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। চিকিৎসক আশিস বললেন, ‘‘আমি এক কমবয়সি রোগীকে দেখেছি জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণের পরে ওষুধ ছাড়াই সুস্থ রয়েছেন। ৪-৫ বছর ধরে ডায়াবিটিস ফেরেনি। তবে ডায়াবিটিস নিরাময় হয়ে যায়, সে কথা বলতে পারি না। তবে একটা বয়সে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।’’

মানসিক চাপ বা স্থূলত্বের কারণে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পেলে জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণে, দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে এই অসুখকে অনেকটাই বশে রাখা যায় বলছেন অভিজ্ঞান। ডায়াবিটিস হলে ঝুঁকি থাকেই। বিশেষত ৩০-৩৫-এ জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। রক্তে শর্করা বশে না থাকলে বিপদ হবেই। এই বয়সের একটি বড় ঝুঁকি হল ফ্যাটি লিভার। বিশেষত টাইপ ২ ডায়াবিটিসে সেই ভয়টা বেশি। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে তা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকিও থাকতে পারে। তা ছাড়া, রক্তে শর্করা বশে রাখতে না পারলে শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৪০-এর জটিলতা: চল্লিশোর্ধ্বদের মধ্যে সাধারণত টাইপ ২ ডায়াবিটিস দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন হরমোন তৈরি হয়, কিন্তু ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের কারণে শরীর তা কাজে লাগাতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। ৩০ বা ৪০ এর রোগীদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবিটিস বেশি দেখা গেলেও, আর এক ধরনের ডায়াবিটিস দেখা যায়, যাকে বলা হয় ‘লাডা’ (ল্যাটেন্ট অটোইমিউন ডায়াবিটিস ইন অ্যাডাল্টস)। চিকিৎসক আশিস বলছেন, ‘‘টাইপ ২ এর মতো লক্ষণ থাকলেও লাডা-র ক্ষেত্রে রোগীর ওজন কমে যায়। এটিও কিছুটা টাইপ ১ এর মতো। রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষেই আঘাত হানে। শুরুতে ওষুধে কাজ হলেও পরে রোগীকে ইনসুলিন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।’’

ঝুঁকি: এই বয়সে ঝুঁকির কারণ অন্য। ডায়াবিটিস ধরা পড়ার আগে অনেকেরই রক্তে শর্করার মাত্রা বিপদসীমায় থাকে। একে বলা হয় প্রি-ডায়াবিটিস। প্রি ডায়াবিটিস থেকে কখন যে ডায়াবিটিস হয়ে যায়, রোগী তা টের পান না। ফলে আচমকাই যখন ডায়াবিটিস ধরা পড়ে, দেখা যায় শর্করার মাত্রা ৩০০-৪০০ তে পৌঁছে গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি শর্করা নিঃশব্দেই শরীরের ক্ষতি করে চলে। এই বয়সে তাই হার্ট, কিডনি, লিভারের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকেই। অভিজ্ঞান বলছেন, ‘‘আধুনিক চিকিৎসায় শুধু রক্তে শর্করা বশে রাখা নয়, বরং প্রত্যঙ্গগুলিকে কী ভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সেই দিকটিও দেখা হয়।’’

বিপদ এড়াতে কী করণীয়

দ্রত রোগ নির্ণয় জরুরি। বছরে এক বার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। পরিবারে ডায়াবিটিসের ইতিহাস থাকলে, ওজন বেশি হলে বা আনুষঙ্গিক সমস্যা থাকলে সতর্ক হতে হবে। আচমকা ওজন বৃদ্ধি বা কমে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া— এই ধরনের উপসর্গ অবহেলা করলেই বিপদ। ডায়াবিটিসের কারণ চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসা দরকার। শুধু ওষুধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়া যথেষ্ট নয়, জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনাও জরুরি।

চিকিৎসকের পরামর্শ

· নিয়ম করে সকাল-বিকেলে হাঁটাহাটি জরুরি

· গায়ে রোদ লাগানো প্রয়োজন

· খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটতে পারলে ভাল

· পুষ্টিকর, প্রোটিন-ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে

· এড়াতে হবে ধূমপান, মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন

· নিয়ম করে শরীরচর্চা আবশ্যক

· মানসিক চাপ কমাতে যোগাসন, প্রাণায়ামের সাহায্য নেওয়া

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement