East Bengal

সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনী, স্বার্থপর ফুটবল, আইএসএলে ঘরের মাঠে গোয়ার কাছে আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল

স্বার্থপর ফুটবল খেলে, একাধিক সুযোগ নষ্ট করে গোয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল ইস্টবেঙ্গল। গোয়া নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অনায়াসে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারত।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫৭
Share:

এ ভাবেই গোয়ার কাছে আটকে গেলেন মিগুয়েলরা। ছবি: সমাজমাধ্যম।

গোয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো বলেছিলেন ভুল শোধরানোর কথা। দেখা গেল, কোচের কথায় কর্ণপাতই করেননি ফুটবলারেরা। স্বার্থপর ফুটবল খেলে, একাধিক সুযোগ নষ্ট করে গোয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল ইস্টবেঙ্গল। গোয়া নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে অনায়াসে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারত। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে চিন্তায় রাখবে কোচ অস্কারকে।

Advertisement

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় সবচেয়ে বেশি স্বার্থপর মনোভাব দেখা গিয়েছে। বার বার ফুটবলারেরা সতীর্থকে পাস না দিয়ে নিজেরাই গোল করার চেষ্টা করেছেন। সবচেয়ে বেশি এই কাজ করেছেন মিগুয়েল। ফলে ইস্টবেঙ্গলের বহু আক্রমণ নষ্ট হয়েছে। গোয়া নিজেদের রক্ষণ মজবুত রেখেছে। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের আক্রমণ সামলেছে অনায়াসে।

ম্যাচের শুরু থেকে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারেরা নিজেদের মধ্যে পাস খেলছিলেন। আক্রমণে উঠছিলেন বার বার। কোনও সুযোগই কাজে আসছিল না। ইস্টবেঙ্গল বেশির ভাগ পাসই খেলছিল নিজেদের অর্ধে। গোয়ার ফুটবলারেরাও রক্ষণ জমাট রাখছিলেন। মাঝে একটি ফ্রিকিক পেলেও গোলের অনেক দূর দিয়ে বল বেরিয়ে যায়।

Advertisement

২৭ মিনিটে সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন ইউসেফ এজ়েজারি। বাঁ দিক থেকে ভাল বল রেখেছিলেন বিপিন সিংহ। গোয়ার গোলের সামনেই ছিলেন ইউসেফ। সময় নিয়ে নিখুঁত জায়গায় শট রাখতে পারতেন। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। সামনে একা বিপক্ষ গোলকিপার ছাড়া কেউ ছিলেন না।

তার কয়েক মিনিট পরেই মিগুয়েল একটি সুযোগ নষ্ট করেন। বিপক্ষের খেলোয়াড়দের বোকা বানিয়ে গোয়া বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। আশেপাশে সতীর্থ থাকলেও তিনি নিজেই গোলে শট নিতে যান। গোলে বল থাকলেও সোজাসুজি কিপারের কাছে পৌঁছয়। পাঁচ মিনিট পরেই গোয়ার আক্রমণ আটকায় ইস্টবেঙ্গল। ঈশান পন্ডিতাকে বল বাড়িয়েছিলেন দেজান দ্রাজ়িচ। বক্সের বাইরে থেকে শট নেন পন্ডিতা। তবে শটে জোর না থাকায় সেই বল সহজেই লুফে নেন প্রভসুখন সিংহ গিল। দু’মিনিট পরেই বরিস সিংহের শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোল হজম করেনি ইস্টবেঙ্গল। ৪৩ মিনিটের মাথায় প্রায় এগিয়ে যাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল। দূর থেকে নেওয়া রশিদের শট বাঁচাতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছিলেন গোয়া গোলকিপার হৃতিক। প্রায় নিজের গোলেই বল ঢুকিয়ে দিচ্ছিলেন। অল্পের জন্য তা ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে স্বার্থপর ফুটবল খেলতে শুরু করেন মিগুয়েল। একাধিক বার তিনি বল পেয়ে গোয়ার বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। কোনও বারই সতীর্থদের পাস দেননি। নিজেই গোল করার চেষ্টা করেন। এক বারও সফল হননি। যে জায়গা থেকে গোল করা প্রায় অসম্ভব, সেখান থেকেও নিজে গোল করার চেষ্টা করেছেন।

দ্বিতীয়ার্ধে পিভি বিষ্ণু এবং ডেভিড লালানসাঙ্গাকে নামিয়েছিলেন অস্কার। লক্ষ্য ছিল গোল করা। কিন্তু দুই ফুটবলার সে ভাবে বলই পাননি। উল্টে দ্রাজ়িচকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন বিষ্ণু। সংযুক্তি সময়ে গোয়ার বক্সের বাইরে ভাল জায়গায় ফ্রিকিক পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সরাসরি গোলে মারার বদলে রশিদ এবং মিগুয়েল নিজেদের মধ্যে পাস খেলেন। শেষ সুযোগও নষ্ট হয় ইস্টবেঙ্গলের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement