FIFA World Cup 2026

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় অস্ট্রেলিয়ার, টাইব্রেকারে জিতে শেষ ১৬-য় সালাহের মিশর, মন ভরাতে পারল না কোনও দলের খেলাই

নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ থাকল। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোল হল না। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল মিশর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:৩০
Share:

মিশরীয় টুপি পরে সালাহের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।

মিশর ১ (আশুর)
অস্ট্রেলিয়া ১ (হ্যানি-আত্মঘাতী)
(টাইব্রেকারে মিশর ৪-২ ব্যবধানে জয়ী)

Advertisement

নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ থাকল। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোল হল না। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল মিশর। শেষ ১৬-য় আর্জেন্টিনা বনাম কাবো ভার্দে ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে খেলবে তারা।

টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শটই বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন হ্যারি সুটার। মিশরের সাবের প্রথম শটে বল জালে জড়ান। দ্বিতীয় শটে গোল করেন অস্ট্রেলিয়ার জ্যাকসন ইরভাইন। গোল করে মিশরকে ২-১ এগিয়ে দেন রাবিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার হাওয়ার্ড মাবিয়েল ২-২ করেন। তৃতীয় শট মারতে আসেন মহম্মদ সালাহ। ঠান্ডা মাথায় গোল করে মিশরকে ৩-২ এগিয়ে দেন তিনি। চতুর্থ শটে অস্ট্রেলিয়ার লুকাস হ্যারিংটন বারে বল মারেন। এর পর গোল করে মিশরকে জেতান হোসাম আব্দেলমাগুইদ।

Advertisement

ম্যাচের শুরু থেকে দাপট ছিল অস্ট্রেলিয়ার। পাঁচ মিনিটেই পোস্টে লাগে ক্রিশ্চিয়ান ভলপাতোর শট। বক্সের বাইরে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন তিনি। গোলে থাকলে গোলকিপারের কিছু করার থাকত না। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে এগিয়ে যায় মিশরই। ১৩ মিনিটে গোল করে তারা।

অস্ট্রেলিয়ার বক্সে বুদ্ধি করে সতীর্থকে ব্যাক পাস দিয়েছিলেন সালাহ। তিনি শট মারলেও অস্ট্রেলিয়া সেই বল ক্লিয়ার করতে পারেনি। ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে হেড করে বল জালে জড়ান এমাম আশুর। কয়েক মিনিট পরে আবার সুযোগ পায় মিশর। ওমর মারমুশের শট আটকে দেন অস্ট্রেলিয়া হ্যারি সুটার। এর পর মোস্তাফা জিকোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

পর পর আক্রমণের জেরে ধীরে ধীরে ম্যাচের দখল নিতে থাকে মিশর। মাঝমাঠ তারাই নিয়ন্ত্রণ করছিল। শুরুটা ভাল করেও মিশরের কাছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথমার্ধের মাঝের দিকে ১৫-২০ মিনিট তারা খেলতেই পারেনি। তবে শেষের দিকে আবার কিছুটা ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। বেশ কয়েকটি আক্রমণও করে। তবে কাজে লাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর একটু হলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণকে বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মারমুশ। কিন্তু গোলের কয়েক ইঞ্চি বাইরে দিয়ে বল বেরিয়ে যায়।

৫৫ মিনিটে গোল শোধ করে অস্ট্রেলিয়া। তবে তাদের কোনও কৃতিত্ব নেই তাতে। এডেন ও’নিলের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন মহম্মদ হ্যানি। তাঁর মাথায় লেগে বল নিজের জালেই জড়িয়ে যায়। প্রথমে মনে হয়েছিল সুটার গোল করেছেন। পরে বোঝা যায় সেই গোল আত্মঘাতী।

দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়ে কোনও দলের খেলাতেই মন ভরেনি। শুধু পাসে পাসে খেলা চলতে থাকে। ভাল শুরু করার পর হঠাৎই মিশর কিছুটা গুটিয়ে যায়। বিপক্ষকে চেপে ধরার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে সংযুক্তি সময়ে দারুণ একটি সেভ করেন অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার প্যাট্রিক বিচ। ডান প্রান্ত থেকে ক্রস করেছিলেন সালাহ। রাবিয়ার জোরালো হেড গোলে ঢুকেই যাচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে আঙুল ঠেকিয়ে বল বার করে দেন বিচ।

অতিরিক্ত সময়ে দুই দলের খেলাতেই কোনও ঝাঁঝ ছিল না। কোনও দলই গোল করার চেষ্টা করেনি। বোঝাই যাচ্ছিল দুই দলই খেলা টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে চাইছে। অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার আগে গোলকিপার পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়া। বিচের জায়গায় নামেন অভিজ্ঞ গোলকিপার ম্যাট রায়ান। তাতে অবশ্য খুব একটা লাভ হয়নি। রায়ান একটি শটেও ঠিক দিকে লাফাতে পারেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement