FIFA World Cup 2026

সত্যিই ভায়াগ্রা খেয়ে নামছেন হ্যারি কেনেরা? মেক্সিকোর সমর্থকদের উৎপাত ও কোচের হুমকির মাঝেই জবাব টুখেলের

মেক্সিকোর ঘরের মাঠে তাদের বিরুদ্ধেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলতে নামবে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচের আগে জোড়া সমস্যায় হ্যারি কেনেরা। সমস্যা সামলাতে সব রকম চেষ্টা করছেন তাঁরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৮:২৭
Share:

অনুশীলনে হ্যারি কেনেরা। ছবি: রয়টার্স।

এক দিকে মেক্সিকোর মাঠের উচ্চতা। অন্য দিকে মেক্সিকোর উগ্র সমর্থকদের উৎপাত। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিয়ো আজ়তেকায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নামার আগে জোড়া সমস্যায় ইংল্যান্ড। তার মাঝেই খবর বেরিয়েছিল, ভায়াগ্রা খেয়ে নাকি এই ম্যাচে নামবেন হ্যারি কেনেরা। সেই খবর কি সত্যি? তার জবাব দিয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল।

Advertisement

এস্তাদিয়ো আজ়তেকা স্টেডিয়ামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৩৫০ ফুট উঁচুতে। সাধারণত একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে ফুটবলারেরা যতটা ক্লান্ত হন, মাঠের উচ্চতার কারণে এই ম্যাচে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জল্পনা ছড়িয়েছিল, উচ্চতার জন্য ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য নাকি তাঁদের ভায়াগ্রা দেওয়া হবে।

ভায়াগ্রা খেলাধুলায় নিষিদ্ধ নয়। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়েরা যে কোনও সময় ভায়াগ্রা ব্যবহার করতে পারেন। কোনও বিধিনিষেধ নেই। তাই আপত্তি জানায়নি ফিফাও। তবে সত্যিই কি কেনেরা ভায়াগ্রা খেয়ে নামবেন? ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্ন করা হয় টুখেলকে।

Advertisement

জবাবে ইংল্যান্ডের কোচ বলেন, “এই তথ্য তো আমার কাছে এসে পৌঁছোয়নি। ভায়াগ্রাও এসে পৌঁছোয়নি। এই খবর সত্যি নয়।” ভায়াগ্রা নিয়ে মজা করতে দেখা যায় ইংল্যান্ডের ফুটবলার জর্ডন হেন্ডারসনকেও। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কী ভাবে মেক্সিকোর মাঠের উচ্চতার সঙ্গে তাঁরা মানিয়ে নিচ্ছেন? জবাবে হেন্ডারসন বলেন, “কেন, ভায়াগ্রা খেয়ে।” যদিও সঙ্গে সঙ্গে তিনি এ-ও জানান যে, মজা করছেন। কোচের কথা থেকে স্পষ্ট, কোনও রকম ওষুধ খেয়ে খেলতে নামবেন না কেনেরা।

ম্যাচের আগে মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরো জানিয়েছেন, কেনকে আরাম করে খেলতে দেবেন না তাঁরা। ম্যাচের আগে কেনের প্রশংসা শোনা গিয়েছে মেক্সিকোর কোচের গলায়। তিনি বলেন, “কেন খুবই ভাল ফুটবলার। টটেনহ্যাম, বায়ার্ন মিউনিখ, ইংল্যান্ডের হয়ে ওর গোলের সংখ্যাই সেটা বলে দিচ্ছে।” তার পরেই আগুইরো বলেন, “তবে এই ম্যাচে কেনকে আমরা আরাম করে খেলতে দেব না। ওকে বিরক্ত করব। যখনই ও বল পাবে, তখনই ওর কাছে কেউ না কেউ থাকবে। যাতে ও খেলা তৈরি করতে না পারে।”

মেক্সিকোর উগ্র সমর্থকদেরও সামলাতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। সে দেশের পা দেওয়ার পর ইংল্যান্ডের হোটেলের বাইরে প্রচুর মানুষ ভিড় করেছিলেন। বেশির ভাগ মানুষ ‘মেক্সিকো, মেক্সিকো’ বলে চিৎকার করছিলেন। ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ কেউ ফুটবলারদের কটূক্তিও করেছেন। এত ভিড় ছিল যে দলের বাস হোটেলে ঢুকতেও কিছুটা সময় লেগেছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল যাওয়ার রাস্তাতেও বিভিন্ন জায়গায় সাময়িক অবরোধ মতো করে রাখা হয়। তবে ফুটবলারদের বড় কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তায় হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের। হোটেলের বাইরেও যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।

এই পরিস্থিতিতে হোটেল বদল করেছেন কেনেরা। কোথায় তাঁরা রয়েছেন তা গোপন রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে মেক্সিকোর সমর্থকদের একটা দল সেই ঠিকানা জানতে পেরে সেখানে গিয়ে গাড়ির হর্ন, ড্রাম বাজিয়ে ও বোমা ফাটিয়ে ইংরেজ ফুটবলারদের রাতের ঘুম কাড়ার চেষ্টা করেছেন। ঠিক যেমনটা ইকুয়েডর ম্যাচের আগে হয়েছিল। ইকুয়েডরের ফুটবলারদের মাঠে দেখে বোঝা গিয়েছিল, ভাল করে ঘুম না হওয়ায় ক্লান্ত তাঁরা। এই বিষয়ে ফিফার কাছে অভিযোগও করেছে ইকুয়েডর।

তবে ইংল্যান্ডের হোটেলের খুব কাছে যেতে পারছেন না মেক্সিকোর সমর্থকেরা। এফএ সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ফলে হোটেলের বাইরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি রয়েছে। গোটা এলাকায় লকডাউনের পরিস্থিতি। ফলে মেক্সিকোর সমর্থকদের উৎপাতে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। যদিও মানসিক লড়াই শুরু করে দিয়েছে মেক্সিকো। এখন দেখার, কেনেরা তার কেমন জবাব দেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement