ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আফগানিস্তানের মহিলা ফুটবলারেরা। ছবি: এক্স।
বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। এ বার থেকে ফিফা আয়োজিত প্রতিযোগিতা, যেমন বিশ্বকাপে খেলতে পারবে আফগানিস্তানের মহিলা উদ্বাস্তু ফুটবল দল। ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’ নামে আপাতত খেলে তারা। এ বার আফগানিস্তান নাম নিয়েই খেলতে পারবে তারা।
২০১৮ সালে শেষ বার কোনও প্রতিযোগিতায় নেমেছিল আফগানিস্তানের মহিলা ফুটবল দল। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের পর ভেঙে দেওয়া হয়েছে সেই ফুটবল দল। তার পর থেকে দেশের বাইরে মহিলা ফুটবলারেরা। বেশির ভাগই থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। সে দেশের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন তাঁরা।
সে দেশে বসেই আফগান মহিলা ফুটবলার নাজ়িয়া আলি বলেন, “গত কয়েক বছরে আমরা বিভিন্ন নামে ফুটবল খেলেছি। কখনও উদ্বাস্তুদের দল। কখনও আফগানি উইমেন ইউনাইটেড। আবার কখনও অন্য ক্লাবে। কিন্তু মনেপ্রাণে আমরা এখনও আফগানিস্তানের মহিলা ফুটবলার। অবশেষে আবার দেশের পতাকা গায়ে নিতে পারব। এর থেকে আনন্দের আর কিছু নেই।”
মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদসংস্থা এপি একটি রিপোর্টে বলেছে, পরের বছর ব্রাজ়িলে মহিলাদের ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ এখন আর নেই। কিন্তু ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার সুযোগ রয়েছে তাদের।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একটি বিবৃতিতে বলেন, “আফগান উইমেন ইউনাইটেড নাম নিয়ে আফগানিস্তানের মহিলা ফুটবলারেরা যে সুন্দর যাত্রা শুরু করেছিলেন, তাকে আরও একটু মসৃণ করার চেষ্টা করেছি। তারা এ বার থেকে দেশের হয়েই ফিফা প্রতিযোগিতায় নামতে পারবে।” গত বছর মে মাসে আফগান উইমেন ইউনাইটেড তৈরি করেছিল ফিফা কাউন্সিল। অক্টোবর মাসে তারা মরক্কোয় লিবিয়া ও তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছিল।
দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার পর অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন আফগানিস্তানের ৮০ জন ফুটবলার। কয়েক দিন আগেই সেই ফুটবলারদের নিয়ে দু’টি শিবির করা হয়েছিল। একটি ইংল্যান্ড ও অপরটি অস্ট্রেলিয়ায়।
আফগানিস্তানের প্রাক্তন মহিলা ফুটবল অধিনায়ক খালিদা পোপাল একটি বিবৃতিতে বলেন, “পাঁচ বছর ধরে আমাদের বলা হচ্ছিল, আমরা আফগানিস্তানের হয়ে আর কোনও দিন খেলতে পারব না। কারণ, আমাদের দেশের পুরুষেরা অনুমতি দেবে না। কিন্তু ফিফা দেখিয়ে দিয়েছে, সদিচ্ছা থাকলে সব সম্ভব। আমরা এত দিন ধরে যতটা কষ্ট করে ফুটবল খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছি, এত দিনে তার জয় হল।”