আইএসএলের ট্রফি। — ফাইল চিত্র।
অবশেষে আইএসএল নিয়ে জটিলতা অনেকাংশে কাটল। ক্লাবেদের জোট আইএসএল চালানোর যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে সায় দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়। ফেডারেশনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত ক্লাবগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসে একটি টাস্ক ফোর্স তৈরি করতে। এই টাস্ক ফোর্স পরবর্তী বৈঠকে আইএসএলের বাণিজ্যিক এবং আর্থিক রূপরেখা তৈরি করবে।
সোমবার দিল্লিতে মাণ্ডবীয়ের সঙ্গে ১৪টি ক্লাবের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। সভাপতি কল্যাণ চৌবে-সহ ফেডারেশনের একাধিক কর্তাও ছিলেন। সেখানেই ক্লাবেদের তরফে লিগের সম্পূর্ণ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। মাণ্ডবীয়ের সেই প্রস্তাব পছন্দ হয়েছে। তিনি ক্লাবগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদের পরিকল্পনা মতো এগোতে। আগামী চার বছরের জন্য আর্থিক রূপরেখা তৈরি করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
এক সূত্র জানিয়েছেন, ক্লাবগুলির তরফে চার বছরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ক্লাব প্রতি বছর ফেডারেশনকে ১.১ কোটি টাকা করে দেবে বলে স্থির হয়েছে। ফলে প্রতি বছর ফেডারেশন পাবে ১৫.৪ কোটি টাকা। আইএসএলের আয়োজক হিসাবে ফেডারেশন যাদের কথা ভেবেছিল, সেই জিনিয়াস স্পোর্টস বছরে ১২.৪ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ক্লাবেদের জোট তার চেয়েও তিন কোটি টাকা বেশি দিচ্ছে।
ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল পটেল এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তিনিই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বার করতে উদ্যোগী হন। এমনকি, সম্প্রচারকারী খুঁজে আনার ভারও তিনিই নিয়েছেন। ক্লাবগুলির তরফে অনুরোধ করা হয়, স্টেডিয়াম ম্যাচ আয়োজন করার খরচ কমানোর। সেটি ভেবে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জিনিয়াস স্পোর্টসকে নিয়ে ক্লাবগুলির অসন্তোষ নেই। তবে লিগ আয়োজনে ক্লাবেদের কোনও মতামত থাকবে না, এই বিষয়টিতে তারা রাজি হয়নি। পাশাপাশি, ২০ বছরের মতো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করুক ফেডারেশন, এটাও তারা চায়নি। তাদের মত ছিল, দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ এতে অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে। তাই বিকল্প মডেলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব সায় পেয়েছে ক্রীড়ামন্ত্রীর।
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাণ্ডবীয় ফেডারেশন এবং ক্লাবগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের, যারা পরের দু’বছরের লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে। দ্রুত একটি বাণিজ্যিক মডেল নিয়ে তাঁর সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাণ্ডবীয় পরিষ্কার বলে দেন, আইএসএলের উপর অনেকের জীবিকা নির্ভর করে। তাই এটি নিয়ে টালবাহানা করলে চলবে না। এ দিনের বৈঠকে একে অপরকে দোষারোপ না করে প্রত্যেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন।