লিয়োনেল মেসি। —ফাইল চিত্র।
কেরলে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরের অস্ত্রই ফুটবল। মার্চে কেরলে লিয়োনেল মেসি-সহ আর্জেন্টিনা ফুটবল দল আসবেন বলে জানিয়েছিল সে রাজ্যের সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানা গিয়েছে, মেসিরা আসছেন না। এই পরিস্থিতিতে শাসক শিবিরকে নিশানা করেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার। এ বার পাল্টা দিল শাসক দল। মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করলেন কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরহিমান। তাঁর অভিযোগ, প্রতারণা করেছেন মেসিরা। টাকা নিয়েও খেলতে আসেননি তাঁরা।
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে আবদুরহিমান জানিয়েছেন, মেসি-সহ আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে আনার জন্য কয়েক মাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করছিলেন তাঁরা। অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অনেক বার বৈঠক হয়েছিল। তার পরেও যে শেষ পর্যন্ত এই পরিণাম হবে তা বুঝতে পারেননি তাঁরা।
আবদুরহিমান বলেন, “অনেক আলোচনা করেছিলাম। ২৫০ কোটি টাকা জোগাড় করা তো মুখের কথা নয়। অনেক স্পনসরের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত টাকা জোগাড় করে ওদের দিয়েছিলাম।”
কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথমে খেলতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেসিরা। কিন্তু পরে পিছু হটেন তাঁরা। আবদুরহিমান বলেন, “টাকা নেওয়ার পর আর্জেন্টিনা দল আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা ভাবিনি ওরা এ রকম করবে। প্রতিশ্রুতি দিয়েও আসবে না।” শুধু তাঁদের সঙ্গে নয়, আর্জেন্টিনা দল অনেক দেশেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ আবদুরহিমানের। তিনি বলেন, “ওরা আরও অনেক দেশের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তার পর খেলতে যায়নি। সব খবর পেয়েছি।”
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে সহজে ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন আবদুরহিমান। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে ওদের বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়া আমাদের কোনও বিকল্প নেই। আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে। তবে এই ঘটনায় কেরলের ফুটবল ভক্তেরা হতাশ হলেন। এই হতাশা লুকানোর জায়গা নেই।”
নভেম্বর মাসে জানা গিয়েছিল, প্রীতিম্যাচ খেলতে কেরলে আসবেন মেসিরা। তার পর থেকে কেরলের অনেক শহরে মেসির বড় কাটআউট, পোস্টার পড়ে। কেরলের রাজনীতিতে ফুটবল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে কেরলের জনগণের সামনে মেসিদের আনার দাবি করে ভোটে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছিল শাসক দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যিটা সামনে এসেছে। এ বার মেসিদের কাযগড়ায় তুলে পাল্টা দাবি করলেন কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী।