লিয়োনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স।
৩৮ পেরিয়ে ৩৯। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ে যাচ্ছেন লিয়োনেল মেসি। বুধবার তাঁর জন্মদিন। অথচ পার্টি করার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপ চলছে যে! মেসি কি কিছুই করলেন না? করেছেন অনেক কিছুই। জানিয়েছেন আগামী বিশ্বকাপে খেলবেন কিনা।
ফুটবল ঈশ্বর নিশ্চই ঠিক করে রেখেছিলেন। না হলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসবের সময়ই কেন উদ্যাপিত হবে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের জন্মদিন। গোটা বিশ্বের মেসিভক্তদের বিশেষ দিন। উৎসবের দিন। গোটা বিশ্বেই ভক্তেরা উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। চাইলে মেসিও একটা দিন ছুটি নিতে পারতেন। কোচ লিয়োনেল স্কালোনি হয়তো খুব আপত্তি করতেন না। কিন্তু মেসি আর পাঁচটা দিনের মতোই নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছেন সাধনায়। বিশ্বকাপের খেতাব রক্ষার পদ্ধতিতে কোনও ছেদ রাখতে চাননি। সতীর্থদের সঙ্গে জিম করেছেন। নানা কসরত করেছেন। নিজেকে শৃঙ্খলাচ্যুত করেননি। ঘাম ঝরানোর ভিডিয়ো নিজেই সমাজমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। ভাইরাল হতে সময় নেয়নি সেই ভিডিয়ো।
আর্জেন্টিনার হোটেলেও মেসিকে কোনও মাতামাতি হবে না এমন দিনে? সতীর্থেরা প্রিয় অধিনায়কের জন্মদিন একটু উদ্যাপন করবেন না? সে ব্যবস্থাও হয়েছে। সতর্কতা অবলম্বন করে হয়েছে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ়, নিকোলাস ওটামেন্ডি, লাউতারো মার্তিনেজ়েরা জানেন, বিশ্বকাপের মাঝে অতি আড়ম্বর পছন্দ করবেন না মেসি। তাই ততটাই আয়োজন করা হয়েছে, যতটায় মেসি ক্ষুণ্ণ হবেন না। গোপন রাখা হয়েছে তাঁর কাছেও।
বিশ্বকাপে দু’ম্যাচেই ৫ গোল করে সোনার বুটের দৌড়ে এগিয়ে মেসি। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, আগামী বিশ্বকাপেও কি খেলবেন? জন্মদিনের আগে মেসিকেই সরাসরি প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে মেসি বলেছেন, ‘‘হ্যাঁ, আরও কিছু দিন খেলব। যত দিন দলে অবদান রাখতে পারব, ততদিন খেলা চালিয়ে যাব। শারীরিক ভাবে বেশ ভাল জায়গায় আছি। সতীর্থদের সাহায্য করতে পারছি। আপাতত খেলা চালিয়ে যেতে চাই।’’ আগামী বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সরাসরি উত্তর না দিলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন এই বিশ্বকাপে পরই অবসরের ভাবনা নেই। তিনি বলেছেন, ‘‘এখনই বলা সম্ভব নয়। কিছু ভাবিওনি। আগাম কিছু ভাবতে চাই না। আগেও বলেছি, আমি প্রতি দিনের জন্য বাঁচি। যা বর্তমান, তাতেই মনঃসংযোগ করি।’’
২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সময় মেসির বয়স হবে ৪৩। এই বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার উদাহরণ কম নেই। মেসি পারবেন না? না পারলেই হয়তো বিস্মিত হবে ফুটবল বিশ্ব।