হতাশ রোনাল্ডো। ছবি: রয়টার্স।
কলম্বিয়া ০
পর্তুগাল ০
বিশ্বকাপে গ্রুপের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে আটকে গেল পর্তুগাল। বলা ভাল, কোনও মতে বেঁচে গেল পর্তুগাল। ০-০ অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়েছে ম্যাচ। তবে পর্তুগাল ম্যাচটি হারতেও পারত।
ড্রয়ের ফলে পর্তুগাল গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল। রাউন্ড অফ ৩২-তে ক্রোয়েশিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাদের। টরন্টোয় হবে ম্যাচ। এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে কঙ্গো ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে উজ়বেকিস্তানকে। তারাও সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসাবে পরের রাউন্ডে যাচ্ছে। তিন ম্যাচে কলম্বিয়া শেষ করল সাত পয়েন্টে। পর্তুগাল পেয়েছে পাঁচ পয়েন্ট। চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে কঙ্গো। উজ়বেকিস্তান একটিও পয়েন্ট না পেয়ে বিদায় নিয়েছে।
উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করার পর এই ম্যাচে চোখ ছিল সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দিকে। গোটা ম্যাচের প্রেক্ষিতে হতাশই করলেন তিনি। কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রভ ফুটবলে হতাশ করেছিলেন। একই কথা বলা যায় কলম্বিয়া ম্যাচ নিয়েও। রোনাল্ডোকে যে ছেড়ে কথা বলবে না কলম্বিয়া এটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। তাই এ দিন পর্তুগিজ় তারকার পিছনে সব সময়ে লেগে ছিলেন একজন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার। তাঁকে এড়িয়ে গোল করতে পারলেনই না রোনাল্ডো।
তবে গোল করবেনই বা কী ভাবে? নিজেদের বক্সে যে ভাবে চক্রব্যূহ তৈরি করে রেখেছিল কলম্বিয়া, তা ভেদ করে গোল করা পর্তুগালের পক্ষে সহজ ছিল না। তারা আক্রমণ করেছে অনেক। কিন্তু প্রতি বারই হয় বিপক্ষ গোলকিপারের জন্য গোল করতে পারেনি। অথবা সুযোগ নষ্ট করেছে। দ্বিতীয় কারণটিই পর্তুগালের গোল না করার পিছনে বেশি দায়ী।
বরং সব ঠিক থাকলে এই ম্যাচটি পর্তুগালের হারারই কথা। গোটা ম্যাচে যে সুযোগ কলম্বিয়া পেয়েছে, তার একটি গোলে ঢুকে গেলেই ম্যাচটি তারা জিততে পারত। সংযুক্তি সময়ের খেলা চলার সময়ে গোলও করে ফেলেছিলেন ডেভিনসন স্যাঞ্চেজ়। কয়েক মিলিমিটার অফসাইড থাকার কারণে তাঁর গোল বাতিল হয়। বলের পিছনে ধাওয়া করার সময় তাঁর বুটের সামনের দিকের একটু খানি অংশ এগিয়েছিল। সে কারণেই অফসাইড হন।
এ ছাড়া গোটা ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছে কলম্বিয়া। শুরু থেকেই তাদের অস্ত্র ছিল আগ্রাসী ফুটবল। গতিতে পরাস্ত করার চেষ্টা করেছে পর্তুগালকে। রোনাল্ডোরাও আক্রমণে উঠছিলেন বটে। কিন্তু খেলার মধ্যে সেই ঝাঁজ ছিল না। মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণও করতে পারছিল না। কলম্বিয়া চেষ্টা করছিল দূরপাল্লার শটে গোল করার। ১৭ মিনিটের মাথায় এক বার কাছাকাছি চলেও এসেছিল। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। পাশাপাশি, শারীরিক ফুটবল খেলে পর্তুগালকে বিপজ্জনক হতে দিচ্ছিল না তারা। গোটা ম্যাচে ২৬টি শট মেরেছে তারা, যা পর্তুগালের দ্বিগুণ। গোলে ছিল ৬টি শট, যা পর্তুগালের তিন গুণ। বলের নিয়ন্ত্রণেও পর্তুগালের থেকে এগিয়েছিল কলম্বিয়া।
জোয়াও নেভেসকে বসিয়ে প্রথম একাদশে রুবেন নেভেসকে রাখায় অনেকেই সমালোচনা করছিলেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেসের। কিন্তু রুবেনকেই সবচেয়ে বেশি ভরসাযোগ্য লেগেছে। কখনও তিনি গোল বাঁচিয়েছেন। আবার কখনও তাঁর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। মাঝমাঠে ব্রুনো ফের্নান্দেজ় আবারও ব্যর্থ। নামানোই হল না বের্নার্দো সিলভাকে। উজ়বেকিস্তান ম্যাচে দুই প্রান্ত ধরে যে আক্রমণ হয়েছিল, তা-ও দেখা যায়নি কলম্বিয়া ম্যাচে।
ক্রোয়েশিয়াও নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু নকআউটে তারা বরাবরই ভয়ঙ্কর। গত দু’বারের ইতিহাসই তাই বলছে। তাই নিজেদের লড়াই নিজেরাই কঠিন করে ফেললেন রোনাল্ডোরা।