গোলের পর রবসনের উচ্ছ্বাস। ছবি: সমাজমাধ্যম।
মোহনবাগান ৫ (রবসন-২, ম্যাকলারেন, মনবীর, পেত্রাতোস)
মহমেডান ১ (লালথানকিমা)
আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিক মোহনবাগানের। শনিবার যুবভারতীতে তারা ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল বিদেশিহীন মহমেডানকে। জোড়া গোল করলেন ব্রাজিলীয় রবসন রোবিনহো। একটি করে গোল জেমি ম্যাকলারেন, মনবীর সিংহ এবং দিমিত্রি পেত্রাতোসের। সুযোগ নষ্ট না করলে এবং মহমেডানের গোলকিপার শুভজিৎ রুখে না দাঁড়ালে আরও বেশি গোলে জিততে পারত মোহনবাগান। তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে আইএসএলের শীর্ষে চলে গেল তারা। গোলপার্থক্যও (+৮) অনেকটাই বাড়িয়ে নিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল নিজেদের দখলে রেখে খেলার চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। শুরুতেই গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রবসন। গোলকিপার শুভজিতের দক্ষতায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় মোহনবাগান। তারা বুঝে গিয়েছিল মোহনবাগানের পায়েই বল বেশি থাকবে। তাই গোটা দলই মন দিয়েছিল রক্ষণে। যে কোনও মূল্যে মোহনবাগানকে আটকানোর চেষ্টা করছিল তারা।
খেলার বিপরীতে আচমকাই এগিয়ে যায় মহমেডান। ১২ মিনিটে একটি কর্নার পেয়েছিল তারা। কর্নার থেকে লালথানকিমা এগিয়ে দেন মহমেডানকে। যুবভারতীতে থাকা মোহনবাগান সমর্থকেরা নিস্তব্ধ হয়ে যান। তবে বেশি ক্ষণের জন্য নয়। ছ’মিনিট পরেই রবসনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
২২ মিনিটেই সমতা ফেরায় মোহনবাগান। তাদের গোল করা ছিল সময়ের অপেক্ষা। আইএসএলে প্রথম গোল করেন রবসন। বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন জেসন কামিংস। তিনি পাস দিয়েছিলেন রবসনকে। মহমেডানের ফুটবলারের গায়ে লেগে ব্রাজিলীয় ফুটবলারের পায়ে পৌঁছয়। তিনি বল জালে জড়়িয়ে দেন। পাঁচ মিনিট পরে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। মনবীর সিংহের শট বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন বোরা। ফিরতি বল পৌঁছয় রবসনের কাছে। সেখান থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রবসন।
৩৫ মিনিটে তৃতীয় গোল করে মোহনবাগান। ডান দিক থেকে বক্সে ক্রস ভাসিয়েছিলেন অমেয় রানাওয়াড়ে। কামিংসের হেড বাঁচিয়ে দেন শুভজিৎ। ফিরতি বল পৌঁছয় ম্যাকলারেনের কাছে। তিনি কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান। প্রথমার্ধেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে ফেলেছিল মোহনবাগান। তবে চিন্তা বাড়ে রবসনের চোটে। তাঁকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যেতে হয়। নামেন দিমিত্রি পেত্রাতোস।
প্রথমার্ধে তিন গোল করে ফেললেও দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের খেলায় ঝাঁজ বজায় ছিল। কোচ সের্জিয়ো লোবেরা কয়েক দিন ধরেই বলছিলেন গোলের সংখ্যা বাড়ানোর কথা। অবশেষে তাঁর কথা শুনলেন ফুটবলারেরা। ৬২ মিনিটে চতুর্থ গোল করেন মনবীর। মহমেডানের বক্সে বল ভাসিয়েছিলেন অভিষেক সূর্যবংশী। ঝাঁপিয়ে হেড করে বল জালে জড়ান মনবীর। চলতি মরসুমে এটাই তাঁর প্রথম গোল।
৭০ মিনিটে পঞ্চম গোল করে মোহনবাগান। শুভজিত কিছুটা এগিয়ে এসেছিলেন। তা দেখে পেত্রাতোস তাঁর মাথার উপর দিয়ে হালকা শট মারেন। বল ক্রস বারে লেগে গোলে ঢুকে যায়। পরের দিকে আরও দু’টি গোলের সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। তবে সাহাল সামাদ এবং ম্যাকলারেনের প্রয়াস বাঁচিয়ে দেন শুভজিৎ। বাঙালি এই গোলকিপার মহমেডানের গোলের নীচে না থাকলেও আরও বেশি গোল হজম করতে হত সাদা-কালো ব্রিগেডকে।