আইএসএল ট্রফি। ফাইল চিত্র।
আইএসএলের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে তাদের তরফে কারা থাকবে, সেই পাঁচটি নাম সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে পাঠিয়ে দিল ক্লাবেরা। এ নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে দুই তরফে টানাপোড়েন চলছিল। তবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোনও প্রতিনিধি এই পাঁচ জনের তালিকায় নেই।
ফেডারেশন থেকে পরিচালন কাঠামোর যে নকশা তৈরি করা হয়েছে, তাতে দু’টি প্রধান কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে। যারা মূলত আইএসএল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। প্রথমটি গভর্নিং কাউন্সিল। বাইশ জনের সেই কাউন্সিলে চোদ্দোটি ক্লাবের মালিকেরা থাকবেন। ফেডারেশন প্রধান-সহ শীর্ষ কর্তারা থাকবেন। বাণিজ্যিক সংস্থা, টিভি স্বত্বের অধিকারী সংস্থার কর্তারা থাকবেন। অন্যটি এগারো সদস্যের ম্যানেজমেন্ট কমিটি, যেখানে পাঁচ জন ক্লাব সদস্য থাকার কথা। এর মধ্যে দু’জন সদস্য আসবেন চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দল থেকে। সেই হিসেবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান ও রানার্স গোয়ার দুই সদস্য এ বারের লিগের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু ক্লাব জোট যে নাম পাঠিয়েছে, তাতে গোয়ার প্রতিনিধি থাকলেও মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কেউ নেই। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড, জামশেদপুর, চেন্নাই, গোয়া এবং দিল্লি— এই পাঁচটি ক্লাব থেকে পাঁচ জন প্রতিনিধির নাম পাঠানো হয়েছে।
এই ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে পাঁচ জন রাখা নিয়েই যত তর্ক-বিতর্ক চলছিল গত কয়েক দিন ধরে ক্লাব জোট ও ফেডারেশনের মধ্যে। ক্লাবদের প্রশ্ন ছিল, চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স থেকে যে-হেতু দু’জন সদস্য আসবেন, বাকি বারোটি ক্লাব থেকে মাত্র তিন জনকে কী করে বেছে নেওয়া সম্ভব? আইএসএল-বিতর্কে ক্লাব জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছিল মোহনবাগান, তাই তারা নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে অন্য ক্লাবকে থাকার সুযোগ করে দিল কি না, সেই সম্ভাবনার কথা কেউ কেউ বলছেন। ক্লাব সূত্রে এ দিনই সঠিক কারণ বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তবে পাঁচ জনের নাম পাঠালেও ফেডারেশনকে চিঠিতে ক্লাব জোট জানিয়েছে, এই সুপারিশ শুধু এ বারের লিগের জন্য। কুড়ি বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন নিয়ে নতুন করে ভাবা হবে। অর্থাৎ এ নিয়ে আরও আলাপ-আলোচনার দরজা তারা খোলা রাখল। ভবিষ্যতে ক্লাব জোটেরা ফের পাঁচ জন থেকে সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুললে অবাক হওয়ার থাকবে না। ফেডারেশনকে পাঠানো ক্লাবদের চিঠিতেও বলা হয়েছে, এই পাঁচ জনই লিগ চলাকালীন ক্লাব জোটের পক্ষ থেকে সকলের সঙ্গে যাবতীয় কথাবার্তা বলবে। এগারো সদস্যের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে পাঁচ জন থাকছেন ক্লাব থেকে, তিন জন ফেডারেশন থেকে এবং তিন জন বাণিজ্যিক সঙ্গী বা টিভি স্বত্বের অধিকারী সংস্থা ও স্পনসরদের পক্ষ থেকে।
এ বারের আইএসএলের টিভি সম্প্রচার নিয়ে প্রাক-বিড প্রক্রিয়ায় পাঁচটি সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কর্তারা আশাবাদী, এদের মধ্যে কয়েক জন বিড জমা দেবে। শোনা যাচ্ছে, সোনি আই লিগ দেখাবে। সেই ঘোষণা হতে পারে শীঘ্রই। সোনি, জ়ি এবং ফ্যানকোড— এই তিনটি ভারতীয় চ্যানেল এবং ওটিটি আগ্রহ দেখিয়েছে আইএসএলের সম্প্রচার নিয়ে। ২ ফেব্রুয়ারি বিড খোলার দিনে বোঝা যাবে, সত্যিই কারা আগ্রহী বা কারা এ বারের সম্প্রচার স্বত্ব পেতে পারে। স্পনসরদের দিক থেকেও এ বারের লিগ নিয়ে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে খবর। সংক্ষিপ্ত লিগ নিয়ে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই মেঘ কি তা হলে সরছে? ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে